যে কারণে কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল সৌদি সরকার
jugantor
যে কারণে কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল সৌদি সরকার

  অনলাইন ডেস্ক  

১৬ জুন ২০২১, ১৭:৩৭:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

মুস্তাফা বিন হাশেম বিন ঈসা আল-দারভিশ

সৌদি সরকার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ শহরের একজন কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা জানায়।

সৌদি সরকারের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সৌদি আরব কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুস্তাফা বিন হাশেম বিন ঈসা আল-দারভিশ নামে ওই কিশোরের মৃত্যুদণ্ড দাম্মাম প্রদেশে কার্যকর করা হয়েছে।

যে অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো-

সৌদি আরব এই কিশোরের বিরুদ্ধে উসকানি সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ এনেছিল সৌদি সরকার। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিশোর সৌদির কাতিফ অঞ্চলে বসবাস করতেন,যেটি সৌদি আরবের শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি অঞ্চল।

সৌদি সরকারের অভিযোগ ছিল, মুস্তাফাআল-দারভিশ দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছিল, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার জন্য একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলেছিল এবং উসকানি দিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ‘দাঙ্গা বাধিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টি করার’ অভিযোগ আনা হয়েছিলআল-দারভিশবিরুদ্ধে। ২০১১ ও ২০১২ সালে ১০টি ‘দাঙ্গায়’ তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মারমুখী অবস্থান নিয়েছিলেন-এমন একটি ছবিও তা বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছিল।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি সরকারের এ সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কিশোর মোস্তফার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু সৌদি সরকার এসব আহ্বানকে উপেক্ষা করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।

২০১৫ সালে কাতিফ শহর থেকে মুস্তাফাআল-দারভিশকেআটক করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর।

যা বলল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের পরিববার

মুস্তাফা বিন হাশেম বিন ঈসা আল-দারভিশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তার পরিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছয় বছর পূর্বে তার দুই বন্ধুর সঙ্গে ‘তারোত’ সড়ক থেকে আটক করা হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয় কিন্তু তার মোবাইল ফোন জব্দ করে। এরপর তার ফোনে একটি ছবি পাওয়া যায় যার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

মুস্তফার পরিবার জানায়, পুলিশ থানায় গিয়ে তাকে ফোন সংগ্রহ করতে বলে। কিন্তু ফোন ফেরত দেওয়ার পরিবর্ততে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখায় এবং তাদের ভোগান্তি শুরু হয়। মুস্তফার গ্রেফতারের পরে তারা কিছুই জানেন না। মুস্তফার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পুরো পরিবারের জন্য ‘জীবন্ত মরণ’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স

যে কারণে কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল সৌদি সরকার

 অনলাইন ডেস্ক 
১৬ জুন ২০২১, ০৫:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মুস্তাফা বিন হাশেম বিন ঈসা আল-দারভিশ
সৌদি সরকারের অভিযোগ, মুস্তাফা বিন হাশেম বিন ঈসা আল-দারভিশ জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছিল। ছবি: আল জাজিরা

সৌদি সরকার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ শহরের একজন কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা জানায়।

সৌদি সরকারের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সৌদি আরব কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুস্তাফা বিন হাশেম বিন ঈসা আল-দারভিশ নামে ওই কিশোরের মৃত্যুদণ্ড দাম্মাম প্রদেশে কার্যকর করা হয়েছে।

যে অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো-

সৌদি আরব এই কিশোরের বিরুদ্ধে উসকানি সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ এনেছিল সৌদি সরকার। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিশোর সৌদির কাতিফ অঞ্চলে বসবাস করতেন, যেটি সৌদি আরবের শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি অঞ্চল।

সৌদি সরকারের অভিযোগ ছিল, মুস্তাফা আল-দারভিশ দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছিল, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার জন্য একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলেছিল এবং উসকানি দিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ‘দাঙ্গা বাধিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টি করার’ অভিযোগ আনা হয়েছিল আল-দারভিশ বিরুদ্ধে। ২০১১ ও ২০১২ সালে ১০টি ‘দাঙ্গায়’ তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মারমুখী অবস্থান নিয়েছিলেন-এমন একটি ছবিও তা বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছিল।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি সরকারের এ সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কিশোর মোস্তফার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু সৌদি সরকার এসব আহ্বানকে উপেক্ষা করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।

২০১৫ সালে কাতিফ শহর থেকে মুস্তাফা আল-দারভিশকে আটক করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর।

যা বলল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের পরিববার

মুস্তাফা বিন হাশেম বিন ঈসা আল-দারভিশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তার পরিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছয় বছর পূর্বে তার দুই বন্ধুর সঙ্গে ‘তারোত’ সড়ক থেকে আটক করা হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয় কিন্তু তার মোবাইল ফোন জব্দ করে। এরপর তার ফোনে একটি ছবি পাওয়া যায় যার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

মুস্তফার পরিবার জানায়, পুলিশ থানায় গিয়ে তাকে ফোন সংগ্রহ করতে বলে। কিন্তু ফোন ফেরত দেওয়ার পরিবর্ততে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখায় এবং তাদের ভোগান্তি শুরু হয়। মুস্তফার গ্রেফতারের পরে তারা কিছুই জানেন না। মুস্তফার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পুরো পরিবারের জন্য ‘জীবন্ত মরণ’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন