৬০ দিনে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করেছে তালেবান
jugantor
৬০ দিনে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করেছে তালেবান

  অনলাইন ডেস্ক  

১৬ জুন ২০২১, ২০:০৩:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী এবং তালেবানের মধ্যে অন্তত ৮০টি জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন-টাওয়ারে হামলার জেরে আফগানিস্তানে আক্রমণকরে মার্কিন বাহিনী। প্রায় দুই দশকেরযুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটি থেকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরেরমধ্যে সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সামরিক জোট ন্যাটোসেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে।

এইসেনা প্রত্যাহারের মধ্যে শক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে তালেবান ও সরকারি বাহিনী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী এবং তালেবানের মধ্যে অন্তত ৮০টি জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই শক্তির লড়াইয়ে কোথাও তালেবানরা এগিয়ে আছে আবার কোথাও এগিয়ে আছে সরকারি বাহিনী। আবার আফগানিস্তানের কিছু কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে সরকারি বাহিনী কিংবা তালেবান কেউ কাউকে পরাজিত করতে পারছে না।

আফগানিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম তোলো নিউজ জানিয়েছে, গত দুই মাসে তালেবানের কাছে আফগানিস্তানের অন্তত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পতন হয়েছে।

তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ৪০৭টি জেলার মধ্যে ৯০টি জেলা এখন পুরোপুরি তালেবানের দখলে। অন্যদিকে, আফগান সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৬৪টি জেলা। বাকি অঞ্চলগুলো তালেবান ও সরকারি বাহিনী একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে না।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, আফগানিস্তানের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকা এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রনে। রাজধানী সন্নিকটে পৌঁছে গেছে তালেবান। কাবুল থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে কট্টর ইসলামপন্থি এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।

তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার আফগানিস্তানে তালেবানের কাছ থেকে দুটি প্রদেশের তিনটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে কয়েকদিনের প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর আফগান সেনারা খান আবাদ এবং চাহ আব এবং দৌলত আবাদ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।

এর আগে, হামলা চালিয়ে তালেবান এসব এলাকা থেকে আফগান সরকারি সেনাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনী আফগানিস্তানের এই তিনটি এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

কুন্দুজ প্রদেশের পুলিশ প্রধান ফরিদবলেন, মুখোমুখি সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ৫০ জনের বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন তালেবান কমান্ডার রয়েছেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, তালেবানের সংঘর্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪০ জন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে।

এদিকে, হাতছাড়া হওয়া এলাকা দুটি পুনরুদ্ধারের জন্য তালেবান হামলা জোরদার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে আফগান সামরিক বাহিনী অন্য দুটি এলাকা থেকে তাদের সদস্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য সাদিক কাদেরি বলেছেন, কোনো কোনো এলাকা একদম প্রতিরোধ ছাড়াই তালেবানের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়। আফগানিস্তানের এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তালেবান ব্যবহার করছে। কেন বিনা লড়াইয়ে হঠাৎ করে এই সমস্ত এলাকা তালেবানের কাছে ছেড়ে দেয়া হলো তা অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে।

৬০ দিনে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করেছে তালেবান

 অনলাইন ডেস্ক 
১৬ জুন ২০২১, ০৮:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী এবং তালেবানের মধ্যে অন্তত ৮০টি জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী এবং তালেবানের মধ্যে অন্তত ৮০টি জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। ছবি: আল জাজিরা

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন-টাওয়ারে হামলার জেরে আফগানিস্তানে আক্রমণ করে মার্কিন বাহিনী। প্রায় দুই দশকের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটি থেকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সামরিক জোট ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে।

এই সেনা প্রত্যাহারের মধ্যে শক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে তালেবান ও সরকারি বাহিনী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী এবং তালেবানের মধ্যে অন্তত ৮০টি জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই শক্তির লড়াইয়ে কোথাও তালেবানরা এগিয়ে আছে আবার কোথাও এগিয়ে আছে সরকারি বাহিনী। আবার আফগানিস্তানের কিছু কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে সরকারি বাহিনী কিংবা তালেবান কেউ কাউকে পরাজিত করতে পারছে না।

আফগানিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম তোলো নিউজ জানিয়েছে, গত দুই মাসে তালেবানের কাছে আফগানিস্তানের অন্তত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পতন হয়েছে।

তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ৪০৭টি জেলার মধ্যে ৯০টি জেলা এখন পুরোপুরি তালেবানের দখলে। অন্যদিকে, আফগান সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৬৪টি জেলা। বাকি অঞ্চলগুলো তালেবান ও সরকারি বাহিনী একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে না।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, আফগানিস্তানের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকা এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রনে। রাজধানী সন্নিকটে পৌঁছে গেছে তালেবান। কাবুল থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে কট্টর ইসলামপন্থি এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।

তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার আফগানিস্তানে তালেবানের কাছ থেকে দুটি প্রদেশের তিনটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে কয়েকদিনের প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর আফগান সেনারা খান আবাদ এবং চাহ আব এবং দৌলত আবাদ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।

এর আগে, হামলা চালিয়ে তালেবান এসব এলাকা থেকে আফগান সরকারি সেনাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনী আফগানিস্তানের এই তিনটি এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

কুন্দুজ প্রদেশের পুলিশ প্রধান ফরিদ বলেন, মুখোমুখি সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ৫০ জনের বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন তালেবান কমান্ডার রয়েছেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, তালেবানের সংঘর্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪০ জন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে।

এদিকে, হাতছাড়া হওয়া এলাকা দুটি পুনরুদ্ধারের জন্য তালেবান হামলা জোরদার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে আফগান সামরিক বাহিনী অন্য দুটি এলাকা থেকে তাদের সদস্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য সাদিক কাদেরি বলেছেন, কোনো কোনো এলাকা একদম প্রতিরোধ ছাড়াই তালেবানের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়। আফগানিস্তানের এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তালেবান ব্যবহার করছে। কেন বিনা লড়াইয়ে হঠাৎ করে এই সমস্ত এলাকা তালেবানের কাছে ছেড়ে দেয়া হলো তা অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে।  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন