কন্ট্রাক্ট বিয়ের নামে দালালের প্রতারণার শিকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা
jugantor
কন্ট্রাক্ট বিয়ের নামে দালালের প্রতারণার শিকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা

  মাহাফুজুল হক চৌধুরী, সাইপ্রাস থেকে  

১৬ জুন ২০২১, ২১:৫৬:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশ সাইপ্রাস একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র হলেও এই দেশটির গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে এশিয়ানদের কাছে স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এ দেশ।

এশিয়ানদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল এবং ভারতীয়দের জন্য আশীর্বাদ সাইপ্রাস। কেননা এখানে এই চার দেশ থেকে যারা আসেন বেশিরভাগের উদ্দেশ্য একটাই- এখান থেকে সহজভাবে সেন্ট্রাল ইউরোপে পাড়ি দেয়া যায়।

সাইপ্রাস থেকে কোথাও ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে তাকে অবশ্যই সাইপ্রাসের স্টুডেন্ট ভিসাধারী হতে হবে। তবে ভিজিট ভিসা যে সহজভাবে হয় তাও নয়৷

বর্তমানে সাইপ্রাসে যেসব বাংলাদেশিরা আছেন, বিশেষ করে বিগত ৪-৫ বছর ধরে যারা সাইপ্রাস গেছেন তাদের অধিকাংশই সাইপ্রাসের পার্শ্ববর্তী দেশ নর্থ সাইপ্রাস থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। ইতোমধ্যে সাইপ্রাস সরকার বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান নেপালসহ বেশকিছু দেশকে নিরাপদ দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এসব দেশের কেউ সাইপ্রাসে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারবে না।

এদিকে নর্থ সাইপ্রাস থেকে যেসব বাংলাদেশিরা সাইপ্রাসে ঢুকে পড়েছেন তারা পড়েছেন মহাসংকটে। এসাইলাম আবেদন করার একমাসের মধ্যেই ফাইল রিজেক্ট করে দিচ্ছে, আবার আপিল করলে আবারো স্বল্প সময়ের মধ্যে রিজেক্ট করে দিচ্ছে। এক কথায় দৌড়ের উপর রেখেছে তাদের। তারা বিয়ে করে কাগজ করার জন্য অনেকেই করোনা শুরু হওয়ার আগে দালালদের একেকজনে ৪-৫ হাজার ইউরো করে অগ্রিম দিয়ে রেখেছে। কিন্তু করোনা মহামারী শুরু হওয়ায় সাইপ্রাসের বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়, বিশেষ করে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বললেই চলে। আর সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের দালালরা। তারা আর কাউকেই টাকা ফেরত দেয়নি।

সাইপ্রাসে যেসব বাংলাদেশি বিয়ের দালালরা আছে তাদের নিজেদেরই কোনো কাগজ নেই। তারা নিজেরাই এসাইলাম আবেদন করে রিজেক্ট খেয়েছে। নিজেরাই অসহায় জীবনযাপন করছে। তারা নিজেরাও জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কী! অথচ তারা মানুষকে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করিয়ে কাগজ করে দেবে বলে লাখ লাখ টাকা আত্নসাৎ করছে। আর তাদের পাঁতানো ফাঁদে পাঁ দিচ্ছে নর্থ সাইপ্রাস থেকে আসা বাংলাদেশিরা। অনেকেই বাংলাদেশ থেকে জমি বিক্রি করে, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সাইপ্রাসে টাকা এনে দালালদের দিয়েছে। টাকা দেওয়ার পর তারা এখন অসহায়।

বাংলাদেশি দালালদের বিরুদ্ধে অনেকেই সাইপ্রাসে বাংলাদেশ কমিউনিটির কাছে বিচার নিয়ে গেলেও কোনো সমাধান পাননি। সাইপ্রাসে বাংলাদেশ কমিউনিটি শুধু নামেমাত্র, বাস্তবে এটার কোনো ভিত্তি নেই। জানা যায়, কমিউনিটির সিনিয়র কিছু ব্যক্তিও কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের দালালির সঙ্গে জড়িত এবং কমিউনিটির সভাপতি সেক্রেটারি এসব দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আছে অনেক। তাই এখন কোনো বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হলেও কমিউনিটির কাছে যায় না।

এ ব্যাপারে সাইপ্রাস প্রবাসী সিনিয়র সিটিজেন মোজাম্মেল হোসেন তারেকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কেউ যেন কন্ট্রাক্ট বিয়ের জন্য আর কোনো দালালের সঙ্গে টাকা-পয়সার লেনদেন না করে। প্রবাসী সুজন ভুঁইয়া জানান, দালালদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো সমাধান নেই। একমাত্র সমাধান হচ্ছে সচেতনতা তৈরি করা। তিনি আরো জানান, কোনো বাংলাদেশি যেন সাইপ্রাসে বিয়ে করে পেপার করার আশায় নর্থ সাইপ্রাস থেকে না আসে। বর্তমানে নর্থ সাইপ্রাস থেকে আসা মানে নিজের জীবন ধ্বংস করা।

কন্ট্রাক্ট বিয়ের নামে দালালের প্রতারণার শিকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা

 মাহাফুজুল হক চৌধুরী, সাইপ্রাস থেকে 
১৬ জুন ২০২১, ০৯:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশ সাইপ্রাস একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র হলেও এই দেশটির গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে এশিয়ানদের কাছে স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এ দেশ।

এশিয়ানদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল এবং ভারতীয়দের জন্য আশীর্বাদ সাইপ্রাস। কেননা এখানে এই চার দেশ থেকে যারা আসেন বেশিরভাগের উদ্দেশ্য একটাই- এখান থেকে সহজভাবে সেন্ট্রাল ইউরোপে পাড়ি দেয়া যায়।

সাইপ্রাস থেকে কোথাও ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে তাকে অবশ্যই সাইপ্রাসের স্টুডেন্ট ভিসাধারী হতে হবে। তবে ভিজিট ভিসা যে সহজভাবে হয় তাও নয়৷

বর্তমানে সাইপ্রাসে যেসব বাংলাদেশিরা আছেন, বিশেষ করে বিগত ৪-৫ বছর ধরে যারা সাইপ্রাস গেছেন তাদের অধিকাংশই সাইপ্রাসের পার্শ্ববর্তী দেশ নর্থ সাইপ্রাস থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। ইতোমধ্যে সাইপ্রাস সরকার বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান নেপালসহ বেশকিছু দেশকে নিরাপদ দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এসব দেশের কেউ সাইপ্রাসে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারবে না। 

এদিকে নর্থ সাইপ্রাস থেকে যেসব বাংলাদেশিরা সাইপ্রাসে ঢুকে পড়েছেন তারা পড়েছেন মহাসংকটে। এসাইলাম আবেদন করার একমাসের মধ্যেই ফাইল রিজেক্ট করে দিচ্ছে, আবার আপিল করলে আবারো স্বল্প সময়ের মধ্যে রিজেক্ট করে দিচ্ছে। এক কথায় দৌড়ের উপর রেখেছে তাদের। তারা বিয়ে করে কাগজ করার জন্য অনেকেই করোনা শুরু হওয়ার আগে দালালদের একেকজনে ৪-৫ হাজার ইউরো করে অগ্রিম দিয়ে রেখেছে। কিন্তু করোনা মহামারী শুরু হওয়ায় সাইপ্রাসের বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়, বিশেষ করে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বললেই চলে। আর সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের দালালরা। তারা আর কাউকেই টাকা ফেরত দেয়নি। 

সাইপ্রাসে যেসব বাংলাদেশি বিয়ের দালালরা আছে তাদের নিজেদেরই কোনো কাগজ নেই। তারা নিজেরাই এসাইলাম আবেদন করে রিজেক্ট খেয়েছে। নিজেরাই অসহায় জীবনযাপন করছে। তারা নিজেরাও জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কী! অথচ তারা মানুষকে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করিয়ে কাগজ করে দেবে বলে লাখ লাখ টাকা আত্নসাৎ করছে। আর তাদের পাঁতানো ফাঁদে পাঁ দিচ্ছে নর্থ সাইপ্রাস থেকে আসা বাংলাদেশিরা। অনেকেই বাংলাদেশ থেকে জমি বিক্রি করে, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সাইপ্রাসে টাকা এনে দালালদের দিয়েছে। টাকা দেওয়ার পর তারা এখন অসহায়। 

বাংলাদেশি দালালদের বিরুদ্ধে অনেকেই সাইপ্রাসে বাংলাদেশ কমিউনিটির কাছে বিচার নিয়ে গেলেও কোনো সমাধান পাননি। সাইপ্রাসে বাংলাদেশ কমিউনিটি শুধু নামেমাত্র, বাস্তবে এটার কোনো ভিত্তি নেই। জানা যায়, কমিউনিটির সিনিয়র কিছু ব্যক্তিও কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের দালালির সঙ্গে জড়িত এবং কমিউনিটির সভাপতি সেক্রেটারি এসব দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আছে অনেক। তাই এখন কোনো বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হলেও কমিউনিটির কাছে যায় না। 

এ ব্যাপারে সাইপ্রাস প্রবাসী সিনিয়র সিটিজেন মোজাম্মেল হোসেন তারেকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কেউ যেন কন্ট্রাক্ট বিয়ের জন্য আর কোনো দালালের সঙ্গে টাকা-পয়সার লেনদেন না করে। প্রবাসী সুজন ভুঁইয়া জানান, দালালদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো সমাধান নেই। একমাত্র সমাধান হচ্ছে সচেতনতা তৈরি করা। তিনি আরো জানান, কোনো বাংলাদেশি যেন সাইপ্রাসে বিয়ে করে পেপার করার আশায় নর্থ সাইপ্রাস থেকে না আসে। বর্তমানে নর্থ সাইপ্রাস থেকে আসা মানে নিজের জীবন ধ্বংস করা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন