শিগগিরই আরেকটা যুদ্ধে জড়াতে চায় না হামাস-ইসরাইল
jugantor
শিগগিরই আরেকটা যুদ্ধে জড়াতে চায় না হামাস-ইসরাইল

  অনলাইন ডেস্ক  

১৬ জুন ২০২১, ২২:০৬:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে রকেট প্রদর্শন করছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস

১১ দিনের যুদ্ধ শেষে গত ২১ মে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুদ্ধ বিরতি সত্ত্বেও গত দুই সপ্তাহ ধরে জেরুজালেমে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ জেরুজালেম দিবস উপলক্ষ্যে ইসরাইলের পতাকা মিছিল বের করতে চাওয়া। দিবসটি ইসরাইলদের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখলের স্মরণে দিনটিকে উদযাপন করে তারা।

এই বছরের অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হামাসসহ ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদের মুখে ইসরায়েলি পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে অনুষ্ঠানটির অনুমতি বাতিল করে।

কিন্তু গত রোববার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ইসরাইলের নাফতালি বেনেট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই বিতর্কিত এই পতাকা মিছিলের অনুমতি দেয়।

এরপর মঙ্গলবার কট্টরপন্থি ইহুদিরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেরুজালেমের পুরনো শহরে ওই পতাকা মিছিল করে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে ইসরায়েলি বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে 'আরবদের মৃত্যু হোক' বলে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

এরপর বুধবার ইসরাইল ফের ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের ফাঁকা স্থাপনায় হামলা চালায়।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়, গাজা থেকে নিক্ষেপ করা আগ্নেয় বেলুনের কারণেই তারা হামলা চালিয়েছেন। দেশটির দমকল বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা সামনে রেখে হামাসের সম্ভাব্য রকেট হামলা ঠেকাতে মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়রন ডোম মোতায়েন করে ইসরাইলি বাহিনী। এছাড়া ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের মিছিলে হাজার হাজার পুলিশ নিরাপত্তা দেয়। মিছিলে সংঘর্ষ এবং বেশকিছু গ্রেফতারের ঘটনা থাকলেও দিনটি তুলনামূলক শান্ত ছিল।

ইসরাইলি বাহিনী যে আয়রন ডোম মোতায়েন করে সেটা নিরবই থাকে। কারণ, হামাসের দিক থেকে কোনো রকেট হামলা হয়নি। ফলে ইসরাইলও গাজায় বড় কোনো ধরনের হামলা চালায়নি।

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ইসরাইল এবং হামাস শিগগিরই আরেকটা যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না।

হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ার কারণ হলো, এই মুহূর্তে তাদের আরেকটি যুদ্ধ করার সক্ষমতা নেই। তাছাড়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে মিশর। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মিসরীদের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রম চলছে। সুতরাং এই মুহূর্তে ইসরাইলে রকেট হামলা করে মিসরকে রাগাতে চাইবে না হামাস।

অন্যদিকে, ইসরাইল যুদ্ধ জড়াতে চাইবে না কারণ, দেশটিতে গত রোববার নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে গাজায় হামলা চালালে কায়রো ভালো ভাবে দেখবে না। এছাড়া আবার যুদ্ধ বাধলে ইসরাইলের যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হবে, নতুন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সেটা মোকাবেলা করতে পারবেন না।

বিবিসি, আল জাজিরা ও জেরুজালেম পোস্ট অবলম্বনে

শিগগিরই আরেকটা যুদ্ধে জড়াতে চায় না হামাস-ইসরাইল

 অনলাইন ডেস্ক 
১৬ জুন ২০২১, ১০:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গাজায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে রকেট প্রদর্শন করছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস
গাজায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে রকেট প্রদর্শন করছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। ছবি: আল জাজিরা

১১ দিনের যুদ্ধ শেষে গত ২১ মে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুদ্ধ বিরতি সত্ত্বেও গত দুই সপ্তাহ ধরে জেরুজালেমে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ জেরুজালেম দিবস উপলক্ষ্যে ইসরাইলের পতাকা মিছিল বের করতে চাওয়া। দিবসটি ইসরাইলদের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখলের স্মরণে দিনটিকে উদযাপন করে তারা।

এই বছরের অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হামাসসহ ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদের মুখে ইসরায়েলি পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে অনুষ্ঠানটির অনুমতি বাতিল করে।

কিন্তু গত রোববার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ইসরাইলের নাফতালি বেনেট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই বিতর্কিত এই পতাকা মিছিলের অনুমতি দেয়।

এরপর মঙ্গলবার কট্টরপন্থি ইহুদিরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেরুজালেমের পুরনো শহরে ওই পতাকা মিছিল করে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে ইসরায়েলি বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে 'আরবদের মৃত্যু হোক' বলে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

এরপর বুধবার ইসরাইল ফের ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের ফাঁকা স্থাপনায় হামলা চালায়।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়, গাজা থেকে নিক্ষেপ করা আগ্নেয় বেলুনের কারণেই তারা হামলা চালিয়েছেন। দেশটির দমকল বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা সামনে রেখে হামাসের সম্ভাব্য রকেট হামলা ঠেকাতে মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়রন ডোম মোতায়েন করে ইসরাইলি বাহিনী। এছাড়া ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের মিছিলে হাজার হাজার পুলিশ নিরাপত্তা দেয়। মিছিলে সংঘর্ষ এবং বেশকিছু গ্রেফতারের ঘটনা থাকলেও দিনটি তুলনামূলক শান্ত ছিল।

ইসরাইলি বাহিনী যে আয়রন ডোম মোতায়েন করে সেটা নিরবই থাকে। কারণ, হামাসের দিক থেকে কোনো রকেট হামলা হয়নি। ফলে ইসরাইলও গাজায় বড় কোনো ধরনের হামলা চালায়নি।

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ইসরাইল এবং হামাস শিগগিরই আরেকটা যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না।

হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ার কারণ হলো, এই মুহূর্তে তাদের আরেকটি যুদ্ধ করার সক্ষমতা নেই। তাছাড়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে মিশর। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মিসরীদের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রম চলছে। সুতরাং এই মুহূর্তে ইসরাইলে রকেট হামলা করে মিসরকে রাগাতে চাইবে না হামাস।

অন্যদিকে, ইসরাইল যুদ্ধ জড়াতে চাইবে না কারণ, দেশটিতে গত রোববার নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে গাজায় হামলা চালালে কায়রো ভালো ভাবে দেখবে না। এছাড়া আবার যুদ্ধ বাধলে ইসরাইলের যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হবে, নতুন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সেটা মোকাবেলা করতে পারবেন না।

বিবিসি, আল জাজিরা ও জেরুজালেম পোস্ট অবলম্বনে

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভ