রাইসি কি পরমাণু আলোচনার জন্য অশনি সংকেত নাকি নতুন সুযোগ?
jugantor
রাইসি কি পরমাণু আলোচনার জন্য অশনি সংকেত নাকি নতুন সুযোগ?

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ জুন ২০২১, ১৮:২২:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

রাইসি কি পরমাণু আলোচনার জন্য অশনি সংকেত নাকি নতুন সুযোগ?

গত শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন কট্টরপন্থি ইব্রাহিম রাইসি।

এ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বের ছয় শক্তিধর দেশের সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের ব্যাপারে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, সেখানে নতুন আশংকার ছায়া পড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইব্রাহিম রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ইতোমধ্যেই এই পরমাণু চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

নির্বাচিত হওয়ার পর সোমবার তার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাকে তিনি স্বাগত জানান, কিন্তু এতে অবশ্যই ইরানের জাতীয় স্বার্থের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

তবে তিনি এও বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম নিয়ে কোনো দরকষাকষি চলবে না। রাইসি বলেন, আমরা কেবল আলোচনার স্বার্থে আলোচনা চাই না। আলোচনাকে প্রলম্বিত করা যাবে না। প্রতিটি বৈঠকের ফল হতে হবে। এখান থেকে ইরানের মানুষের জন্য একটা ফলাফল বেরিয়ে আসতে হবে।

বিবিসির ফারসি ভাষা বিভাগের বিশ্লেষক কাসরা নাজি বলছেন, প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই ইব্রাহিম রাইসি যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তা দেশের ভেতরে, বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি মানুষকে আশ্বস্ত করবে বলে মনে হয় না। তিনি নিজের এমন এক ছবি তুলে ধরেছেন, যাতে বোঝা যায় একজন কট্টরপন্থী হিসেবে তার নিজের পথ ঠিক করা আছে।

ইরানের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ছয়টি দেশ ২০১৫ সালে যে পরমাণু চুক্তি করে, সেটির লক্ষ্য ছিল- দেশটি যেন এই কর্মসূচী কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করে এবং তারা যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ছয়টি শক্তিধর দেশ হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক নীতি গ্রহণ করেছিল, যাতে সবকিছুতে ইসরাইলের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে খুশি হয়েছিল ইসরাইল।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন হোয়াইট হাউসে এসেই ইরান পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে আলোচনায় যোগ দিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ইসরাইলকে তা ক্ষিপ্ত করে। ইসরাইলের ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর নাফতালি বেনেট নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেও, ইরান চুক্তির ব্যাপারে পূর্বসূরি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতির সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র ফারাক নেই।

কাজেই বেনেট প্রথম সুযোগেই ইরানের পরবর্তী প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র দেশগুলোকে হুশিয়ার করে দিয়েছেন।

চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আশাবাদ

ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে গত এপ্রিল মাস হতে। ভিয়েনায় রোববার ছয়টি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সর্বশেষ দফার বৈঠক করেছেন।

এই বৈঠক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হচ্ছে। তবে রোববারের বৈঠকের পর আলোচনা আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের রাজধানীতে ফিরে গেছেন।

এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচী সীমিত পর্যায়ে আটকে রাখা। ইরানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, চুক্তির বিভিন্ন পক্ষ একটা সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন, তবে বাকি পথ অতিক্রম করা ‘খুব সহজ হবে না।’

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত এনরিক মোরা বলেছেন, কারিগরি বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতির ফলে তারা এখন, রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর ব্যাপারে একটা স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন।

তবে আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আলোচনা সফল হওয়ার পথে দু’টি বড় বাধা এখনও আছে। এই দু’টি বাধা অপসারণ করা না গেলে, আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেও এই আলোচনায় এমন এক দাবি তোলা হচ্ছে, যেটি ইরানের পক্ষে মানা কঠিন হতে পারে। আগের চুক্তির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বাইডেন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে এমন লিখিত অঙ্গীকার চায় যে, আগের চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার সঙ্গে সঙ্গে ইরান যেন আরও ‘বৃহত্তর, দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী’ একটি চুক্তির জন্য আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে।

তবে ইরান এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আগের চুক্তির শর্তাবলীতে এমন কোনো পরিবর্তন তারা চায় না, যেটি তার পরমাণু কর্মসূচিকে আরও সীমিত করে দেবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

রাইসি কি পরমাণু আলোচনার জন্য অশনি সংকেত নাকি নতুন সুযোগ?

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ জুন ২০২১, ০৬:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রাইসি কি পরমাণু আলোচনার জন্য অশনি সংকেত নাকি নতুন সুযোগ?
ছবি: ইরনা

গত শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন কট্টরপন্থি ইব্রাহিম রাইসি।

এ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বের ছয় শক্তিধর দেশের সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের ব্যাপারে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, সেখানে নতুন আশংকার ছায়া পড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইব্রাহিম রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ইতোমধ্যেই এই পরমাণু চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। 

নির্বাচিত হওয়ার পর সোমবার তার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাকে তিনি স্বাগত জানান, কিন্তু এতে অবশ্যই ইরানের জাতীয় স্বার্থের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

তবে তিনি এও বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম নিয়ে কোনো দরকষাকষি চলবে না। রাইসি বলেন, আমরা কেবল আলোচনার স্বার্থে আলোচনা চাই না। আলোচনাকে প্রলম্বিত করা যাবে না। প্রতিটি বৈঠকের ফল হতে হবে। এখান থেকে ইরানের মানুষের জন্য একটা ফলাফল বেরিয়ে আসতে হবে।

বিবিসির ফারসি ভাষা বিভাগের বিশ্লেষক কাসরা নাজি বলছেন, প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই ইব্রাহিম রাইসি যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তা দেশের ভেতরে, বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি মানুষকে আশ্বস্ত করবে বলে মনে হয় না। তিনি নিজের এমন এক ছবি তুলে ধরেছেন, যাতে বোঝা যায় একজন কট্টরপন্থী হিসেবে তার নিজের পথ ঠিক করা আছে।

ইরানের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ছয়টি দেশ ২০১৫ সালে যে পরমাণু চুক্তি করে, সেটির লক্ষ্য ছিল- দেশটি যেন এই কর্মসূচী কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করে এবং তারা যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ছয়টি শক্তিধর দেশ হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক নীতি গ্রহণ করেছিল, যাতে সবকিছুতে ইসরাইলের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে খুশি হয়েছিল ইসরাইল।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন হোয়াইট হাউসে এসেই ইরান পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে আলোচনায় যোগ দিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ইসরাইলকে তা ক্ষিপ্ত করে। ইসরাইলের ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর নাফতালি বেনেট নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেও, ইরান চুক্তির ব্যাপারে পূর্বসূরি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতির সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র ফারাক নেই।

কাজেই বেনেট প্রথম সুযোগেই ইরানের পরবর্তী প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র দেশগুলোকে হুশিয়ার করে দিয়েছেন।

চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আশাবাদ

ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে গত এপ্রিল মাস হতে। ভিয়েনায় রোববার ছয়টি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সর্বশেষ দফার বৈঠক করেছেন। 

এই বৈঠক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হচ্ছে। তবে রোববারের বৈঠকের পর আলোচনা আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের রাজধানীতে ফিরে গেছেন।

এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচী সীমিত পর্যায়ে আটকে রাখা। ইরানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, চুক্তির বিভিন্ন পক্ষ একটা সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন, তবে বাকি পথ অতিক্রম করা ‘খুব সহজ হবে না।’

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত এনরিক মোরা বলেছেন, কারিগরি বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতির ফলে তারা এখন, রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর ব্যাপারে একটা স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন। 

তবে আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আলোচনা সফল হওয়ার পথে দু’টি বড় বাধা এখনও আছে। এই দু’টি বাধা অপসারণ করা না গেলে, আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেও এই আলোচনায় এমন এক দাবি তোলা হচ্ছে, যেটি ইরানের পক্ষে মানা কঠিন হতে পারে। আগের চুক্তির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বাইডেন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে এমন লিখিত অঙ্গীকার চায় যে, আগের চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার সঙ্গে সঙ্গে ইরান যেন আরও ‘বৃহত্তর, দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী’ একটি চুক্তির জন্য আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে।

তবে ইরান এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আগের চুক্তির শর্তাবলীতে এমন কোনো পরিবর্তন তারা চায় না, যেটি তার পরমাণু কর্মসূচিকে আরও সীমিত করে দেবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন