তালেবানের একের পর এক অঞ্চল জয়, যা বলছে আফগান কর্তৃপক্ষ
jugantor
তালেবানের একের পর এক অঞ্চল জয়, যা বলছে আফগান কর্তৃপক্ষ

  অনলাইন ডেস্ক  

২৩ জুন ২০২১, ২২:০৩:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর গ্রামবাসীর সঙ্গে মিলে উদযাপন করে তালেবান যোদ্ধারা

গত ২৪ ঘণ্টায় তালেবান বিভিন্ন প্রদেশের তিনটি জেলাসহ তাজিকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রধান সীমান্ত ‘শির খান বন্দর’ দখল করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে গত দুই মাসের মধ্যে তালেবানের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার ঘোষণা দেয়ার পর দেশজুড়ে তালেবান যোদ্ধারা আক্রমণ বাড়িয়েছে। তালেবানের এমন আক্রমণে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত দেবরাহ লিওনস সতর্ক করে বলেছে, ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের ৩৭০টি জেলার মধ্যে তালেবান ৫০ অধিক জেলা দখল করে নিয়েছে। তালেবানের এই অগ্রগতি নিকট ভবিষ্যতে অনেক দেশের জন্য হুমকিস্বরুপ।

তবে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তাকৌশল বিষয়ক উপমন্ত্রীসহ সরকারি কর্মকর্তারা-তালেবানের এই সামরিক অগ্রযাত্রা ক্ষণস্থায়ী বলে মন্তব্য করছেন। তাদের দাবি, আফগান বাহিনী দ্রুত তালেবান যোদ্ধাদের হটিয়ে দেবে।

আফগান স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নকিবুল্লাহ ফায়েক তালেবানের অগ্রগতিতে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এক মাসের মধ্যে তালেবান এত শক্তি কোথা থেকে পেল! তারা কিভাবে এত অল্প সময়ে মাজার-ই শরিফ, ফারিয়াব এবং তাকহারে অগ্রসর হলো? এটাকে প্রোপাগাণ্ডা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা সাময়িক, তালেবান নিজেরাই বিশ্বাস করে না যে,তারা এসব এলাকায় পৌঁছাতে পেরেছে।

আলি আবাদ জেলার গভর্নর মোহাম্মদ হায়কল বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের ব্যাপক শক্তি আছে। বেদখল জেলাগুলো দখল করার সাহস তাদের আছে। জোর প্রকাশ করে এইজেলা গভর্নর বলেন, তালেবান কখনও আলি আবাদ জেলার দখল নিতে সক্ষম হবে না।

এদিকে,তাজিকিস্তান কর্তৃপক্ষ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩০ জন আফগান সেনা সীমান্ত পার হয়ে তাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য সাদিক কাদেরি বলেছেন, কোনো কোনো এলাকা একদম প্রতিরোধ ছাড়াই তালেবানের কাছে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আফগানিস্তানের এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তালেবান ব্যবহার করছে। কেন বিনা লড়াইয়ে হঠাৎ করে এই সমস্ত এলাকা তালেবানের কাছে ছেড়ে দেয়া হলো তা অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ দূত দেবরাহ লিয়ন্স বলেন, তালেবানের দখলে যাওয়া জেলাগুলোআফগানিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকা।তালোবান গোষ্ঠী সেখানে নিজেদেরযোদ্ধাদের মোতায়েন রাখছে।বিদেশি সেনাপুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরতারা বাকি এলাকাগুলোও দখল করবে।

তালেবানের একের পর এক অঞ্চল জয়, যা বলছে আফগান কর্তৃপক্ষ

 অনলাইন ডেস্ক 
২৩ জুন ২০২১, ১০:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর গ্রামবাসীর সঙ্গে মিলে উদযাপন করে তালেবান যোদ্ধারা
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর গ্রামবাসীর সঙ্গে মিলে উদযাপন করে তালেবান যোদ্ধারা। ছবি: এএফপি

গত ২৪ ঘণ্টায় তালেবান বিভিন্ন প্রদেশের তিনটি জেলাসহ তাজিকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রধান সীমান্ত ‘শির খান বন্দর’ দখল করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে গত দুই মাসের মধ্যে তালেবানের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার ঘোষণা দেয়ার পর দেশজুড়ে তালেবান যোদ্ধারা আক্রমণ বাড়িয়েছে। তালেবানের এমন আক্রমণে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত দেবরাহ লিওনস সতর্ক করে বলেছে, ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের ৩৭০টি জেলার মধ্যে তালেবান ৫০ অধিক জেলা দখল করে নিয়েছে। তালেবানের এই অগ্রগতি নিকট ভবিষ্যতে অনেক দেশের জন্য হুমকিস্বরুপ।

তবে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তাকৌশল বিষয়ক উপমন্ত্রীসহ সরকারি কর্মকর্তারা-তালেবানের এই সামরিক অগ্রযাত্রা ক্ষণস্থায়ী বলে মন্তব্য করছেন। তাদের দাবি, আফগান বাহিনী দ্রুত তালেবান যোদ্ধাদের হটিয়ে দেবে। 

আফগান স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নকিবুল্লাহ ফায়েক তালেবানের অগ্রগতিতে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এক মাসের মধ্যে তালেবান এত শক্তি কোথা থেকে পেল! তারা কিভাবে এত অল্প সময়ে মাজার-ই শরিফ, ফারিয়াব এবং তাকহারে অগ্রসর হলো? এটাকে প্রোপাগাণ্ডা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা সাময়িক, তালেবান নিজেরাই বিশ্বাস করে না যে, তারা এসব এলাকায় পৌঁছাতে পেরেছে। 

আলি আবাদ জেলার গভর্নর মোহাম্মদ হায়কল বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের ব্যাপক শক্তি আছে। বেদখল জেলাগুলো দখল করার সাহস তাদের আছে। জোর প্রকাশ করে এই জেলা গভর্নর বলেন, তালেবান কখনও আলি আবাদ জেলার দখল নিতে সক্ষম হবে না। 

এদিকে, তাজিকিস্তান কর্তৃপক্ষ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩০ জন আফগান সেনা সীমান্ত পার হয়ে তাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

আফগানিস্তানের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য সাদিক কাদেরি বলেছেন, কোনো কোনো এলাকা একদম প্রতিরোধ ছাড়াই তালেবানের কাছে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আফগানিস্তানের এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তালেবান ব্যবহার করছে। কেন বিনা লড়াইয়ে হঠাৎ করে এই সমস্ত এলাকা তালেবানের কাছে ছেড়ে দেয়া হলো তা অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ দূত দেবরাহ লিয়ন্স বলেন, তালেবানের দখলে যাওয়া জেলাগুলো আফগানিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকা। তালোবান গোষ্ঠী সেখানে নিজেদের যোদ্ধাদের মোতায়েন রাখছে। বিদেশি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তারা বাকি এলাকাগুলোও দখল করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন