আফগানিস্তান নিয়ে তুরস্কের পরিকল্পনা কী? (ভিডিও)
jugantor
আফগানিস্তান নিয়ে তুরস্কের পরিকল্পনা কী? (ভিডিও)

  অনলাইন ডেস্ক  

২৪ জুন ২০২১, ২২:৪৭:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় নানা বিশ্লেষণ চলছে।

তুরস্ক চায় ২০ বছরের যুদ্ধবিধস্ত দেশ আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার পরবর্তী সংঘাতের অবসান হোক। কারণ আমেরিকা বা ন্যাটোর সৈন্যরা চলে গেলেও আফগানিস্তানে শান্তি অনিশ্চিত।

এ বিষয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর চিফ রিপোর্টার সরোয়ার আলম বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে সোভিয়েত রাশিয়া আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যায়। তখনও মনে করা হয়েছিলদেশটিতে শান্তি ফিরে আসবে। কিন্তু তখন আফগান মুজাহিদ গ্রুপগুলোর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত চার বছর ধরে চলতে থাকে সেই লড়াই।নিহত হয় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ।

এই লড়াই বন্ধে অনেক দেশ যখন উদ্যোগ নেয় সে সময় একটি স্মরণীয়ঘটনা ঘটে। সৌদি আরব বাদশা ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালের ১২ই মার্চ রমজানের আগের দিন মুজাহিদ গ্রুপগুলোকে একত্র করে পবিত্র কাবা শরিফের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারা একটি চুক্তি সই করেন। সেই চুক্তিপত্র তখন কাবা শরিফের দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়া হয় যেন কোনও মুজাহিদ গ্রুপ এই চুক্তি ভঙ্গ করার সাহস না পায়। অথচ তাদের বহনকারী বিমান আফগানিস্তানের মাটিতে স্পর্শ করার আগেই সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। কাবার গায়ে টানানো সেই চুক্তিপত্রও আফগানিস্তানে শান্তি নিয়ে আসতে পারেনি।

আনাদোলুর চিফ রিপোর্টার সরোয়ার আলম বলেন, তুরস্ক চায় সেই ঘটনার পুনরাবৃতি না হোক। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসুক আফগানিস্তানে।

তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে সংঘাতে জর্জরিত একটি দেশে অনেক সশস্ত্র গ্রুপ তৈরি হয়। আমরা আফগানিস্তানে শুধু তালেবানকেই দেখি বা জানি। কিন্তু ওখানে বিভিন্ন দেশের সমর্থনে অনেক গ্রুপ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ চালাচ্ছে। ইরান, সৌদি আরব, এমনকি ভারতের সমর্থিত গ্রুপ আছে ওখানে। সুতরাং আমেরিকা পরবর্তী আফগানিস্তান কতটুকু সংঘাতমুক্ত থাকবে তা এখই বলা মুশকিল।

এছাড়াও আফগানিস্তানে পশ্চিমাদের পুতুল সরকার এখন ক্ষমতায় আছে। ২০ বছর ধরের ক্ষমতায় থাকা সরকারের আমলা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ অন্যসব সরকারি অফিসারদের ভাগ্য অনিশ্চিত। তালেবান ক্ষমতায় আসলে তাদের তাদেরভাগ্যে কী ঘটবে সেটা অজানা।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক সরোয়ার আলম বলেন, তুরস্ক চায় আমেরিকা পরবর্তী আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে যতটুকু সম্ভব অবদান রাখা। একারণেই তুরস্ক পাকিস্তানকে পাশে রাখতে চায়। পাকিস্তান এ বিষয়ে একটু ইতস্তত করলেও তুরস্কের প্রস্তাব ফেলে দিতে পারবে না।

তুরস্কের কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেয়ার ক্ষেত্রে আসল ট্রাম্পকার্ড হচ্ছে পাকিস্তান।

প্রসঙ্গত, কোনো সমুদ্রসীমা এবং সমুদ্র বন্দর না থাকা যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিন্তানের বহির্বিশ্বে সহজ যোগাযোগের একমাত্র পথ কাবুল এয়ারপোর্ট। তুরস্ককে এই কাবুল বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্ক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিলেও আমেরিকা এবং ন্যাটো জোটকে বড় কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর অন্যতম শর্ত হলো-তুরস্ক এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পাকিস্তান এবং ন্যাটো সদস্য হাঙ্গেরিকে সাথে নিবে। আর ন্যাটোকে তা মেনে নিতে হবে। ন্যাটো পাকিস্তানকে মেনে নিলে, পাকিস্তান তুরস্ককে মেনে নিবে আর তখন তালেবানও তুরস্কের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না।

আফগানিস্তান নিয়ে তুরস্কের পরিকল্পনা কী? (ভিডিও)

 অনলাইন ডেস্ক 
২৪ জুন ২০২১, ১০:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় নানা বিশ্লেষণ চলছে।

তুরস্ক চায় ২০ বছরের যুদ্ধবিধস্ত দেশ আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার পরবর্তী সংঘাতের অবসান হোক। কারণ আমেরিকা বা ন্যাটোর সৈন্যরা চলে গেলেও আফগানিস্তানে শান্তি অনিশ্চিত।

এ বিষয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর চিফ রিপোর্টার সরোয়ার আলম বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে সোভিয়েত রাশিয়া আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যায়। তখনও মনে করা হয়েছিল দেশটিতে শান্তি ফিরে আসবে। কিন্তু তখন আফগান মুজাহিদ গ্রুপগুলোর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত চার বছর ধরে চলতে থাকে সেই লড়াই। নিহত হয় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ।

এই লড়াই বন্ধে অনেক দেশ যখন উদ্যোগ নেয় সে সময় একটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে। সৌদি আরব বাদশা ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালের ১২ই মার্চ রমজানের আগের দিন মুজাহিদ গ্রুপগুলোকে একত্র করে পবিত্র কাবা শরিফের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারা একটি চুক্তি সই করেন। সেই চুক্তিপত্র তখন কাবা শরিফের দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়া হয় যেন কোনও মুজাহিদ গ্রুপ এই চুক্তি ভঙ্গ করার সাহস না পায়। অথচ তাদের বহনকারী বিমান আফগানিস্তানের মাটিতে স্পর্শ করার আগেই সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। কাবার গায়ে টানানো সেই চুক্তিপত্রও আফগানিস্তানে শান্তি নিয়ে আসতে পারেনি।

আনাদোলুর চিফ রিপোর্টার সরোয়ার আলম বলেন, তুরস্ক চায় সেই ঘটনার পুনরাবৃতি না হোক। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসুক আফগানিস্তানে।

তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে সংঘাতে জর্জরিত একটি দেশে অনেক সশস্ত্র গ্রুপ তৈরি হয়। আমরা আফগানিস্তানে শুধু তালেবানকেই দেখি বা জানি। কিন্তু ওখানে বিভিন্ন দেশের সমর্থনে অনেক গ্রুপ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ চালাচ্ছে। ইরান, সৌদি আরব, এমনকি ভারতের সমর্থিত গ্রুপ আছে ওখানে। সুতরাং আমেরিকা পরবর্তী আফগানিস্তান কতটুকু সংঘাতমুক্ত থাকবে তা এখই বলা মুশকিল।

এছাড়াও আফগানিস্তানে পশ্চিমাদের পুতুল সরকার এখন ক্ষমতায় আছে। ২০ বছর ধরের ক্ষমতায় থাকা সরকারের আমলা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ অন্যসব সরকারি অফিসারদের ভাগ্য অনিশ্চিত। তালেবান ক্ষমতায় আসলে তাদের তাদেরভাগ্যে কী ঘটবে সেটা অজানা।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক সরোয়ার আলম বলেন, তুরস্ক চায় আমেরিকা পরবর্তী আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে যতটুকু সম্ভব অবদান রাখা। একারণেই তুরস্ক পাকিস্তানকে পাশে রাখতে চায়। পাকিস্তান এ বিষয়ে একটু ইতস্তত করলেও তুরস্কের প্রস্তাব ফেলে দিতে পারবে না।

তুরস্কের কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেয়ার ক্ষেত্রে আসল ট্রাম্পকার্ড হচ্ছে পাকিস্তান।

প্রসঙ্গত, কোনো সমুদ্রসীমা এবং সমুদ্র বন্দর না থাকা যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিন্তানের বহির্বিশ্বে সহজ যোগাযোগের একমাত্র পথ কাবুল এয়ারপোর্ট। তুরস্ককে এই কাবুল বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্ক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিলেও আমেরিকা এবং ন্যাটো জোটকে বড় কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর অন্যতম শর্ত হলো-তুরস্ক এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পাকিস্তান এবং ন্যাটো সদস্য হাঙ্গেরিকে সাথে নিবে। আর ন্যাটোকে তা মেনে নিতে হবে। ন্যাটো পাকিস্তানকে মেনে নিলে, পাকিস্তান তুরস্ককে মেনে নিবে আর তখন তালেবানও তুরস্কের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন