দানবীয় আয়না সূর্যের আলো পৌঁছে দেয় যে শহরে (ভিডিও)
jugantor
দানবীয় আয়না সূর্যের আলো পৌঁছে দেয় যে শহরে (ভিডিও)

  অনলাইন ডেস্ক  

১৯ জুলাই ২০২১, ০৫:০৩:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

আহ্নিক গতির ফলে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর যে স্থানটি সূর্যের সামনে আসে সেখানে হয় দিন এবং এর ঠিক বিপরীত দিক সূর্যের আলো পৃথিবীর গোলাকৃতি কক্ষে পৌছতে পারে না, তাই সেই স্থানটিতে হয় রাত্রি। তবে এই পৃথিবীতেই এমন শহর আছে যেখানে বছরে ছয়মাস সূর্যের আলো পৌঁছায় না।

বলা হচ্ছে নরওয়ের রুকান শহরের কথা। শহরটির অবস্থান দুইটি বিশাল পাহাড়ের মাঝে। এই দুই পাহাড়ের কারণে শীতকালের ছয়মাস সূর্যের আলো পৌঁছায় না এখানে। তবে শীতকালেও সূর্যের আলো পাওয়ার জন্য এক অভিনব কৌশল করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

শহরটি দক্ষিণ নরওয়ের টেলিমার্ক এলাকার কাছে উপত্যকায় অবস্থিত। শহরটি নর্স্ক হাইড্রোতে নরওয়েজিয়ান অ্যালুমিনিয়াম এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সংস্থায় কর্মরত শ্রমিকের জন্য একটি হাইড্রো পাওয়ার হাউস হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

শহরটির প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা স্যাম আইডে ১৯০৫ থেকে ১৯১৬ সালের মধ্যে শহরটি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি এখানে একটি একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। কারখানার শ্রমিকদের সূর্যের আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯১৩ সালের মধ্যে তিনি একটি দাবনীয় আয়না স্থাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে তার জীবনদশায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

সে সময় আয়নার বিকল্প হিসেবে এরিয়াল ট্রামওয়ে বা ক্রিওপেন নামে একটি গন্ডোলা লিফট তৈরি করা হয়েছিল। এটি শহরের বাসিন্দাদের পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো। এতে করে বাসিন্দারা সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পেতেন।

অবশ্য স্থানীয় জনগণ আর মার্টিন অ্যান্ডারসন নামের এক শিল্পী কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্যামের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এজন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় একশ’ বছর। ২০১৩ সালে স্থাপিত ‘রুকান সূর্য আয়না’ এখন শহরের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুট এলাকায় সূর্যের আলো পৌঁছে দেয়।দাবনীয় তিনটি আয়নার সাহায্যে শহরের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায় সূর্যের আলো পৌঁছে যায়।

এই দানবীয় আয়না স্থাপনের পর শহরের প্রকল্প পরিচালক অস্টিন হগেন বলেছিলেন, এই আয়না শহরবাসীর অনেক উপকারে আসছে। শহরের পর্যটন শিল্পেরও প্রসার ঘটেছে এই আয়নার কারণে। ২০১৫ সালে এই জায়গাটিকে নরওয়ের অষ্টম বিশ্ব ঐহিত্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

দানবীয় আয়না সূর্যের আলো পৌঁছে দেয় যে শহরে (ভিডিও)

 অনলাইন ডেস্ক 
১৯ জুলাই ২০২১, ০৫:০৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আহ্নিক গতির ফলে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর যে স্থানটি সূর্যের সামনে আসে সেখানে হয় দিন এবং এর ঠিক বিপরীত দিক সূর্যের আলো পৃথিবীর গোলাকৃতি কক্ষে পৌছতে পারে না, তাই সেই স্থানটিতে হয় রাত্রি। তবে এই পৃথিবীতেই এমন শহর আছে যেখানে বছরে ছয়মাস সূর্যের আলো পৌঁছায় না।

বলা হচ্ছে নরওয়ের রুকান শহরের কথা। শহরটির অবস্থান দুইটি বিশাল পাহাড়ের মাঝে। এই দুই পাহাড়ের কারণে শীতকালের ছয়মাস সূর্যের আলো পৌঁছায় না এখানে। তবে শীতকালেও সূর্যের আলো পাওয়ার জন্য এক অভিনব কৌশল করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

শহরটি দক্ষিণ নরওয়ের টেলিমার্ক এলাকার কাছে উপত্যকায় অবস্থিত। শহরটি নর্স্ক হাইড্রোতে নরওয়েজিয়ান অ্যালুমিনিয়াম এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সংস্থায় কর্মরত শ্রমিকের জন্য একটি হাইড্রো পাওয়ার হাউস হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

শহরটির প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা স্যাম আইডে ১৯০৫ থেকে ১৯১৬ সালের মধ্যে শহরটি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি এখানে একটি একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। কারখানার শ্রমিকদের সূর্যের আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯১৩ সালের মধ্যে তিনি একটি দাবনীয় আয়না স্থাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে তার জীবনদশায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

সে সময় আয়নার বিকল্প হিসেবে এরিয়াল ট্রামওয়ে বা ক্রিওপেন নামে একটি গন্ডোলা লিফট তৈরি করা হয়েছিল। এটি শহরের বাসিন্দাদের পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো। এতে করে বাসিন্দারা সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পেতেন।

অবশ্য স্থানীয় জনগণ আর মার্টিন অ্যান্ডারসন নামের এক শিল্পী কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্যামের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এজন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় একশ’ বছর। ২০১৩ সালে স্থাপিত ‘রুকান সূর্য আয়না’ এখন শহরের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুট এলাকায় সূর্যের আলো পৌঁছে দেয়।দাবনীয় তিনটি আয়নার সাহায্যে শহরের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায় সূর্যের আলো পৌঁছে যায়।

এই দানবীয় আয়না স্থাপনের পর শহরের প্রকল্প পরিচালক অস্টিন হগেন বলেছিলেন, এই আয়না শহরবাসীর অনেক উপকারে আসছে। শহরের পর্যটন শিল্পেরও প্রসার ঘটেছে এই আয়নার কারণে। ২০১৫ সালে এই জায়গাটিকে নরওয়ের অষ্টম বিশ্ব ঐহিত্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন