শি জিন পিংয়ের প্রথম তিব্বত সফর সম্পর্কে যা জানা গেল
jugantor
শি জিন পিংয়ের প্রথম তিব্বত সফর সম্পর্কে যা জানা গেল

  অনলাইন ডেস্ক  

২৩ জুলাই ২০২১, ১৮:৩৫:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

জনরোষ সামাল দিতে ২০০৮ সাল থেকে চীন তিব্বতের উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করে

চীনের প্রেসিডেন্ট শিজিন পিং প্রথমবারের মতো তিব্বতে সফর করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই চীনের কোনো শীর্ষ নেতার তিব্বত ভ্রমণ। সর্বশেষ ১৯৯০ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন তিব্বতে যান।

শি জিন পিং এর আগেও তিব্বত সফরে গেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নন। ১৯৯৮ সালে প্রথম তিনি ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে দলের প্রধান হিসেবে তিব্বত যান। পরে ২০১১ সালে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তিব্বত সফর করেন।

শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জিনহুয়া নিউজের খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শিজিন পিং বুধবার তিব্বতের দক্ষিণপূর্বে নিয়াংঝি মেইনলিং বিমানবন্দরে পৌঁছান।

হিমালয় পর্বতমালা ঘেঁষা তিব্বত চীনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। যদিও তিব্বতিরা চীনের শাসন মানতে রাজি নয়। এ কারণে ১৯৫৯ সালে তিব্বতিরা দালাই লামার নেতৃত্বে চীনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার আন্দোলন গড়ে তোলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা ১৯৫৯ সালের মার্চে চীনা সেনাবাহিনীর হামলার মুখে ভারতে পালিয়ে আসেন। তখন তিনি ২০ এর কোঠায় থাকা এক যুবক। পরে ভারত সরকার তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় এবং তিনি আবাস গড়েন উত্তরাঞ্চলীয় শহর ধর্মশালায়। তাকে অনুসরণ করে নির্বাসনে আসে তিব্বতের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এবং তারা একই শহরে বসবাস শুরু করেন।

তিব্বতের সঙ্গে চীনের প্রতিবেশী দেশ ভারতেরও সীমান্ত আছে। সীমান্ত নিয়ে চীন ও ভারত একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। গত বছর লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। এই সংঘর্ষে চীনের সেনাবাহিনীরও কয়েকজন নিহত হয় তবে তারা সঠিক সংখ্যা জানায়নি। এর আগে সর্বশেষ ১৯৬২ সালে চীন-ভারত সীমান্ত নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

তিব্বতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিংয়ের সফরের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আরেক গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, জিন পিং তিব্বতের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আছেন। তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে শিজিন পিং লাসায় পোটালা প্রাসাদ স্কয়ারও এর সংলগ্ন বৌধ সন্ন্যাসীদের আশ্রম পরিদর্শন করেন। তিব্বতের নির্বাসিত নেতা দালাই লামা এই আশ্রমের এক সময়কার প্রধান ছিলেন।

জনরোষ সামাল দিতে ২০০৮ সাল থেকে চীন তিব্বতের উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু চীনের অর্থায়নে উন্নয়নের প্রভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অভিযোগে তুলে অঞ্চলটির বাসিন্দারা ২০০৮ সালে বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া গত কয়েক দশকে চীনা শাসনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ হয়েছে তিব্বতে। এসব বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হয়।

শি জিন পিংয়ের প্রথম তিব্বত সফর সম্পর্কে যা জানা গেল

 অনলাইন ডেস্ক 
২৩ জুলাই ২০২১, ০৬:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জনরোষ সামাল দিতে ২০০৮ সাল থেকে চীন তিব্বতের উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করে
জনরোষ সামাল দিতে ২০০৮ সাল থেকে চীন তিব্বতের উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করে। ছবি: বিবিসি

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং প্রথমবারের মতো তিব্বতে সফর করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই চীনের কোনো শীর্ষ নেতার তিব্বত ভ্রমণ। সর্বশেষ ১৯৯০ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন তিব্বতে যান।

শি জিন পিং এর আগেও তিব্বত সফরে গেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নন। ১৯৯৮ সালে প্রথম তিনি ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে দলের প্রধান হিসেবে তিব্বত যান। পরে ২০১১ সালে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তিব্বত সফর করেন। 

শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জিনহুয়া নিউজের খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বুধবার তিব্বতের দক্ষিণপূর্বে নিয়াংঝি মেইনলিং বিমানবন্দরে পৌঁছান। 

হিমালয় পর্বতমালা ঘেঁষা তিব্বত চীনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। যদিও তিব্বতিরা চীনের শাসন মানতে রাজি নয়। এ কারণে ১৯৫৯ সালে তিব্বতিরা দালাই লামার নেতৃত্বে চীনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার আন্দোলন গড়ে তোলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা ১৯৫৯ সালের মার্চে চীনা সেনাবাহিনীর হামলার মুখে ভারতে পালিয়ে আসেন। তখন তিনি ২০ এর কোঠায় থাকা এক যুবক। পরে ভারত সরকার তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় এবং তিনি আবাস গড়েন উত্তরাঞ্চলীয় শহর ধর্মশালায়। তাকে অনুসরণ করে নির্বাসনে আসে তিব্বতের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এবং তারা একই শহরে বসবাস শুরু করেন।

তিব্বতের সঙ্গে চীনের প্রতিবেশী দেশ ভারতেরও সীমান্ত আছে। সীমান্ত নিয়ে চীন ও ভারত একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। গত বছর লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। এই সংঘর্ষে চীনের সেনাবাহিনীরও কয়েকজন নিহত হয় তবে তারা সঠিক সংখ্যা জানায়নি। এর আগে সর্বশেষ ১৯৬২ সালে চীন-ভারত সীমান্ত নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। 

তিব্বতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিংয়ের সফরের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আরেক গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, জিন পিং তিব্বতের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আছেন। তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে শি জিন পিং লাসায় পোটালা প্রাসাদ স্কয়ার ও এর সংলগ্ন বৌধ সন্ন্যাসীদের আশ্রম পরিদর্শন করেন। তিব্বতের নির্বাসিত নেতা দালাই লামা এই আশ্রমের এক সময়কার প্রধান ছিলেন। 

জনরোষ সামাল দিতে ২০০৮ সাল থেকে চীন তিব্বতের উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু চীনের অর্থায়নে উন্নয়নের প্রভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অভিযোগে তুলে অঞ্চলটির বাসিন্দারা ২০০৮ সালে বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া গত কয়েক দশকে চীনা শাসনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ হয়েছে তিব্বতে। এসব বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন