স্মার্টফোনে আড়িপাতা নিয়ে যা বলল ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান
jugantor
স্মার্টফোনে আড়িপাতা নিয়ে যা বলল ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান

  অনলাইন ডেস্ক  

২৪ জুলাই ২০২১, ২২:৪৪:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

স্মার্টফোনে আড়িপাতা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার জন্য ইসরাইলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের বানানো ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার পেগাসাস বিভিন্ন দেশের নাগরিকের ওপর নজরদারিতে গোপনে ব্যবহার করা হচ্ছে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। শনিবার এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।

ইসরাইলি এই সাইবারনিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বলেছে, বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে এ ধরনের প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণেই বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে এবং রাস্তায় নিশ্চিতে চলাচল করতে পারে।

ইসরাইলের সাবেক সাইবার গোয়েন্দাদের হাত ধরে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে তেল আবিবভিত্তিক এনএসও গ্রুপ। তাদের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বের অন্তত ৪৫টি দেশে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মার্টফোনে আড়ি পাতা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে।

এদিকে এ ম্যালওয়্যারকে চিহ্নিত করতে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি টুলকিট তৈরি করেছে। একে তারা বলছে মোবাইল ভেরিফিকেশন টুলকিট (এমভিটি)। এর সোর্স কোড পাওয়া যাচ্ছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট গিটহাব-এ।

এমভিটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে চলবে। তবে এই টুলকিটগুলো ইন্সটল করার সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান পাওয়া যাবে ব্যাপারটা তা নয়। টুলকিটগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ডিভাইসের জন্য এক জায়গায় করতে হবে। এই কাজটি লিনাক্স ও ম্যাকওএস আছে এমন একটা কম্পিউটারে করতে হবে।

এমভিটি স্মার্টফোনের ডেটার ব্যাকআপ কম্পিউটারে সেভ করবে, ডেটাগুলো পেগাসাস আক্রান্ত কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করবে। সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীকে জানাবে যে, তার ডিভাইসটি আক্রান্ত কিনা বা তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে কিনা।

ডিভাইসের ডেটা ট্র্যান্সফার লগকে স্ক্যান করবে এই টুলকিট। এখানেই ফোন আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে (কল করার হিস্ট্রি, এসএমএস, আইএম মেসেজ ও অন্যান্য তথ্য যা রিমোট সার্ভারে পাঠানো হয়)।

আইওএসে এই লগটি অ্যান্ড্রয়েডের চেয়ে বেশি সময় থাকে, যে কারণে আইফোনে পেগাসাস স্পাইওয়্যার খুঁজে পাওয়া সহজ। এমভিটি ব্যবহারের জটিলতা থাকায় এটিকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ব্যবহারকারী ও পেগাসাস আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদেরই শুধু ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদেরা।

এর আগেও একবার ভারতে পেগাসাস স্পাইওয়্যারের অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে এনএসও গ্রুপ বলেছিল, গুরুতর অপরাধ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের বাইরে কাজে লাগানোকে এর অপব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করে তারা, চুক্তিতেও তার উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, ‘কোনো ধরনের অপব্যবহার ধরতে পারলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য মানবাধিকার রক্ষা, তার মধ্যে রয়েছে জীবনযাপনের অধিকার, নিরাপত্তা, ব্যক্তির চলাচলের স্বাধীনতা। সে কারণে আমরা ব্যবসা ও মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের নির্দেশনার মূলনীতিগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেছি, যাতে সব মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের পণ্যগুলো পরিচালিত হয়, সে জন্য এই প্রচেষ্টা।’

স্মার্টফোনে আড়িপাতা নিয়ে যা বলল ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান

 অনলাইন ডেস্ক 
২৪ জুলাই ২০২১, ১০:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
স্মার্টফোনে আড়িপাতা
ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার জন্য ইসরাইলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের বানানো ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার পেগাসাস বিভিন্ন দেশের নাগরিকের ওপর নজরদারিতে গোপনে ব্যবহার করা হচ্ছে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ।  শনিবার এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। 

ইসরাইলি এই সাইবারনিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বলেছে, বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে এ ধরনের প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণেই বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে এবং রাস্তায় নিশ্চিতে চলাচল করতে পারে। 

ইসরাইলের সাবেক সাইবার গোয়েন্দাদের হাত ধরে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে তেল আবিবভিত্তিক এনএসও গ্রুপ। তাদের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বের অন্তত ৪৫টি দেশে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মার্টফোনে আড়ি পাতা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে।

এদিকে এ ম্যালওয়্যারকে চিহ্নিত করতে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি টুলকিট তৈরি করেছে। একে তারা বলছে মোবাইল ভেরিফিকেশন টুলকিট (এমভিটি)। এর সোর্স কোড পাওয়া যাচ্ছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট গিটহাব-এ।

এমভিটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে চলবে। তবে এই টুলকিটগুলো ইন্সটল করার সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান পাওয়া যাবে ব্যাপারটা তা নয়। টুলকিটগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ডিভাইসের জন্য এক জায়গায় করতে হবে। এই কাজটি লিনাক্স ও ম্যাকওএস আছে এমন একটা কম্পিউটারে করতে হবে।

এমভিটি স্মার্টফোনের ডেটার ব্যাকআপ কম্পিউটারে সেভ করবে, ডেটাগুলো পেগাসাস আক্রান্ত কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করবে। সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীকে জানাবে যে, তার ডিভাইসটি আক্রান্ত কিনা বা তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে কিনা।

ডিভাইসের ডেটা ট্র্যান্সফার লগকে স্ক্যান করবে এই টুলকিট। এখানেই ফোন আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে (কল করার হিস্ট্রি, এসএমএস, আইএম মেসেজ ও অন্যান্য তথ্য যা রিমোট সার্ভারে পাঠানো হয়)।

আইওএসে এই লগটি অ্যান্ড্রয়েডের চেয়ে বেশি সময় থাকে, যে কারণে আইফোনে পেগাসাস স্পাইওয়্যার খুঁজে পাওয়া সহজ। এমভিটি ব্যবহারের জটিলতা থাকায় এটিকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ব্যবহারকারী ও পেগাসাস আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদেরই শুধু ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদেরা।

এর আগেও একবার ভারতে পেগাসাস স্পাইওয়্যারের অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে এনএসও গ্রুপ বলেছিল, গুরুতর অপরাধ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের বাইরে কাজে লাগানোকে এর অপব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করে তারা, চুক্তিতেও তার উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, ‘কোনো ধরনের অপব্যবহার ধরতে পারলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য মানবাধিকার রক্ষা, তার মধ্যে রয়েছে জীবনযাপনের অধিকার, নিরাপত্তা, ব্যক্তির চলাচলের স্বাধীনতা। সে কারণে আমরা ব্যবসা ও মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের নির্দেশনার মূলনীতিগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেছি, যাতে সব মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের পণ্যগুলো পরিচালিত হয়, সে জন্য এই প্রচেষ্টা।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন