মালয়েশিয়ায় একদিনে করোনায় কেড়ে নিল দুই শতাধিক প্রাণ
jugantor
মালয়েশিয়ায় একদিনে করোনায় কেড়ে নিল দুই শতাধিক প্রাণ

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে  

২৭ জুলাই ২০২১, ০১:৪৭:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ায় একদিনে করোনায় কেড়ে নিল দুই শতাধিক প্রাণ। এরই মাঝে দেশটিতে জুলাইয়ের পর থাকছে না লকডাউন ও জরুরি অবস্থা। ১ আগস্ট থেকে লকডাউন ও জরুরি অবস্থা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী তাকিউদ্দিন হাসান। ৩১ জুলাইয়ের পর লকডাউন ও জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের এ দেশটিতে গত জুন মাসের শেষদিক থেকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১ জুলাই থেকে মালয়েশিয়ায় মাসব্যাপী লকডাউন ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেশটির সরকার; যার মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে।
কিন্তু লকডাউন ও জরুরি অবস্থা জারি থাকা সত্ত্বেও সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ এসেছে এমন বলার উপায় নেই। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। মোট আক্রান্তে সংখ্যা ১০ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৪ জন।

বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগী আছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে সোমবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮৪০ জন। একদিনে মৃত্যুবরণ করেছেন ২০৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ২০১ জন।

এর আগের দিন রোববার ১৭ হাজার ৪৫ জন; যা মহামারি শুরুর পর থেকে মালয়েশিয়ায় এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ কোভিড শনাক্তের রেকর্ড।

এ পরিস্থিতিতে লকডাউন ও জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কেন তা হলো না সেজন্য সম্ভাব্য দুটি কারণকে দায়ী বলে মনে করছেন মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রথম কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, দীর্ঘ একমাসের লকডাউনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ায় দেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে। লকডাউন ও জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবার বৃদ্ধি করা হলে এই ক্ষোভ আরও বাড়বে এবং সরকার এ বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
দ্বিতীয়ত, মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টারি রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতা। ২০২০ সালের মার্চে পার্লামেন্টে একদমই অল্প ভোটের ব্যবধানে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।

জোটের অন্যতম শরিক ও মালয়েশিয়ার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ইউএমএনও পার্টি চলতি মাসের শুরুর দিকে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে দেশটির সরকারে।

মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের আয়োজন করতে হবে। যদি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন সেই ভোটে জিততে পারেন, তবেই তিনি এবং তার মন্ত্রিসভার সব সদস্য সুরক্ষিত থাকবেন। তবে আস্থা ভোট কবেনাগাদ আয়োজন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো গৃহীত হয়নি।
এদিকে শুরু হওয়া পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন চলবে আরও ৫ দিন।

মালয়েশিয়ায় একদিনে করোনায় কেড়ে নিল দুই শতাধিক প্রাণ

 আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে 
২৭ জুলাই ২০২১, ০১:৪৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ায় একদিনে করোনায় কেড়ে নিল দুই শতাধিক প্রাণ। এরই মাঝে দেশটিতে জুলাইয়ের পর থাকছে না লকডাউন ও জরুরি অবস্থা। ১ আগস্ট থেকে লকডাউন ও জরুরি অবস্থা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। 

সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী তাকিউদ্দিন হাসান। ৩১ জুলাইয়ের পর লকডাউন ও জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের এ দেশটিতে গত জুন মাসের শেষদিক থেকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১ জুলাই থেকে মালয়েশিয়ায় মাসব্যাপী লকডাউন ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেশটির সরকার; যার মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে।
কিন্তু লকডাউন ও জরুরি অবস্থা জারি থাকা সত্ত্বেও সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ এসেছে এমন বলার উপায় নেই। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। মোট আক্রান্তে সংখ্যা ১০ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৪ জন।

বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগী আছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে সোমবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮৪০ জন। একদিনে মৃত্যুবরণ করেছেন ২০৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ২০১ জন।

এর আগের দিন রোববার ১৭ হাজার ৪৫ জন; যা মহামারি শুরুর পর থেকে মালয়েশিয়ায় এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ কোভিড শনাক্তের রেকর্ড। 

এ পরিস্থিতিতে লকডাউন ও জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কেন তা হলো না সেজন্য সম্ভাব্য দুটি কারণকে দায়ী বলে মনে করছেন মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রথম কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, দীর্ঘ একমাসের লকডাউনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ায় দেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে। লকডাউন ও জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবার বৃদ্ধি করা হলে এই ক্ষোভ আরও বাড়বে এবং সরকার এ বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
দ্বিতীয়ত, মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টারি রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতা। ২০২০ সালের মার্চে পার্লামেন্টে একদমই অল্প ভোটের ব্যবধানে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।

জোটের অন্যতম শরিক ও মালয়েশিয়ার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ইউএমএনও পার্টি চলতি মাসের শুরুর দিকে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে দেশটির সরকারে।

মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের আয়োজন করতে হবে। যদি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন সেই ভোটে জিততে পারেন, তবেই তিনি এবং তার মন্ত্রিসভার সব সদস্য সুরক্ষিত থাকবেন। তবে আস্থা ভোট কবেনাগাদ আয়োজন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো গৃহীত হয়নি। 
এদিকে শুরু হওয়া পার্লামেন্টের  বিশেষ অধিবেশন চলবে আরও ৫ দিন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর