গাজায় যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
jugantor
গাজায় যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

  অনলাইন ডেস্ক  

২৮ জুলাই ২০২১, ১৪:৪৪:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ফিলিস্তিনের গাজায় গত মে মাসে সংঘাতের সময় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ‘স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ’ সংঘটিত করেছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

এইচআরডব্লিউ মঙ্গলবার এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে— ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তিনটি বিমান হামলায় যে ৬২ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি হয়েছে, তার আশপাশে কোথাও সামরিক লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর বিবিসির।

যদিও দখলদার ইহুদিবাদী দেশটি বলেছে, গাজায় তারা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে— ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলকে লক্ষ্য করেও চার হাজারের বেশি রকেট ছুড়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হামলাতেই পরিণত হয়েছে।

১১ দিনের লড়াইয়ে গাজায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২৭০ জন এবং ইসরাইলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় মারা যাওয়অ কমপক্ষে ১২৯ জন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে— ২০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল। তবে গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস বলেছে যে, তাদের ৮০ জন যোদ্ধা মারা গেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তদন্তে ইসরাইলির চালানো তিনটি হামলার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে যে, ওই হামলাতেই সবচেয়ে বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা ঘটে।

১০ মে গাজার বেইত হানুনে হামলা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র চারটি বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে পড়লে সেখানে আটজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, ফিলিস্তিনি একটি রকেটের কারণে ওই বিস্ফোরণ হয়েছিল।

শাতি শরণার্থী শিবিরে হামলা করা হয় ১৫ মে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি বোমা একটি তিনতলা ভবনে আঘাত হানলে তা ধ্বংস হয়ে যায় এবং ১০ বেসামরিক লোক নিহত হন।

সেই সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছিল, ভেতরে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা এ রকম কারও উপস্থিতি সম্পর্কে জানতেন না।

১৬ মে গাজা সিটিতে হামলা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-ওয়াহদা স্ট্রিটের কাছে সিরিজ বিমান হামলায় তিনটি বহুতল ভবন ধ্বংস করা হয়। এতে অন্তত ৪৪ বেসামরিকের মৃত্যু হয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সশস্ত্র ব্যক্তিদের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল এবং ভবনধসে পড়ার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ঘটনাস্থলের কোনোটির আশপাশেই স্পষ্টত কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং যে হামলা নির্দিষ্ট কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না তা বেআইনি।

মঙ্গলবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ শুধু আগে থেকেই নাকচ করে দেওয়া অভিযোগগুলোর দিকেই বারবার নজর দিচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীরা ইসরাইলি শহর ও উপশহরগুলোর দিকে নির্বিচার রকেট নিক্ষেপ করে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়েছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় হামাস বলেছে, ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা সত্ত্বেও তারা হামলার সময় ইসরাইলের বেসামরিক নাগরিকদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

 অনলাইন ডেস্ক 
২৮ জুলাই ২০২১, ০২:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফিলিস্তিনের গাজায় গত মে মাসে সংঘাতের সময় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ‘স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ’ সংঘটিত করেছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

এইচআরডব্লিউ মঙ্গলবার এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে— ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তিনটি বিমান হামলায় যে ৬২ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি হয়েছে, তার আশপাশে কোথাও সামরিক লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর বিবিসির।

যদিও দখলদার ইহুদিবাদী দেশটি বলেছে, গাজায় তারা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে— ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলকে লক্ষ্য করেও চার হাজারের বেশি রকেট ছুড়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হামলাতেই পরিণত হয়েছে।

১১ দিনের লড়াইয়ে গাজায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২৭০ জন এবং ইসরাইলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় মারা যাওয়অ কমপক্ষে ১২৯ জন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে— ২০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল। তবে গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস বলেছে যে, তাদের ৮০ জন যোদ্ধা মারা গেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তদন্তে ইসরাইলির চালানো তিনটি হামলার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে যে, ওই হামলাতেই সবচেয়ে বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা ঘটে।

১০ মে গাজার বেইত হানুনে হামলা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র চারটি বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে পড়লে সেখানে আটজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, ফিলিস্তিনি একটি রকেটের কারণে ওই বিস্ফোরণ হয়েছিল।

শাতি শরণার্থী শিবিরে হামলা করা হয় ১৫ মে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি বোমা একটি তিনতলা ভবনে আঘাত হানলে তা ধ্বংস হয়ে যায় এবং ১০ বেসামরিক লোক নিহত হন।

সেই সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছিল, ভেতরে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা এ রকম কারও উপস্থিতি সম্পর্কে জানতেন না।

১৬ মে গাজা সিটিতে হামলা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-ওয়াহদা স্ট্রিটের কাছে সিরিজ বিমান হামলায় তিনটি বহুতল ভবন ধ্বংস করা হয়। এতে অন্তত ৪৪ বেসামরিকের মৃত্যু হয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সশস্ত্র ব্যক্তিদের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল এবং ভবনধসে পড়ার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ঘটনাস্থলের কোনোটির আশপাশেই স্পষ্টত কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং যে হামলা নির্দিষ্ট কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না তা বেআইনি।

মঙ্গলবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ শুধু আগে থেকেই নাকচ করে দেওয়া অভিযোগগুলোর দিকেই বারবার নজর দিচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীরা ইসরাইলি শহর ও উপশহরগুলোর দিকে নির্বিচার রকেট নিক্ষেপ করে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়েছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় হামাস বলেছে, ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা সত্ত্বেও তারা হামলার সময় ইসরাইলের বেসামরিক নাগরিকদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভ