তালেবানকে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসক ভাবছে চীন
jugantor
তালেবানকে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসক ভাবছে চীন

  অনলাইন ডেস্ক  

২৯ জুলাই ২০২১, ২০:২৫:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

কান্দাহারের একটি বাজারে একজন দোকানী

তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লাহ আব্দুল গনি বারাদার বুধবার চীন সফরে গেছেন। সেখানে তিয়ানজিং শহরে তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, চীন পাকিস্তানের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরেই তালেবানের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রক্ষা করছে। কিন্তু এই প্রথম এত উঁচু মাপের কোনো তালেবান নেতা চীন সফরে গেলেন।

তালেবান নেতার এই সফরের চারদিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি চীনে যান। সেখানকার চেংডু শহরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, আফগানিস্তানে যেকোনো অস্থিতিশীলতার প্রভাব প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তানে সরাসরি গিয়ে পড়বে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আগামী মাসের (অগাস্ট) মধ্যেই মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণার পর আফগানিস্তান নিয়ে সমস্ত প্রতিবেশী দেশগুলো অনিশ্চয়তা-উদ্বেগে ভুগছে। নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাই এখন সচেষ্ট।

তবে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে চীন।

অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানকে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বি আর আই) প্রকল্পে যুক্ত করার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে চীন। সেই সঙ্গে, আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদের ওপর চীনের লোভ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড করপোরেশনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যান এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, চীন আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসক হিসাবে তালেবানকে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, শুধু চীন নয় বাকি বিশ্বও এক রকম নিশ্চিত যে তালেবানই আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিচ্ছে বা অন্তত ক্ষমতার প্রধান শরীক হতে চলেছে।

তিনি বলেন, খোদ আমেরিকাও সেটা মেনে নিয়েছে। আমেরিকা নিজেই ক'বছর আগে তালেবানের সঙ্গে মীমাংসা শুরুর জন্য জালমে খালিলজাদকে দোহায় পাঠিয়েছে। ২০ বছর ধরে যুদ্ধের পর আমেরিকা বুঝেছে, যুদ্ধ করে তালেবানকে হারানো যাবে না এবং তারা মেনে নিয়েছে তালেবানই আফগানিস্তানের প্রধান শক্তি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালেবানকে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসক ভাবছে চীন

 অনলাইন ডেস্ক 
২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কান্দাহারের একটি বাজারে একজন দোকানী
কান্দাহারের একটি বাজারে একজন দোকানী। ছবি: বিবিসি

তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লাহ আব্দুল গনি বারাদার বুধবার চীন সফরে গেছেন। সেখানে তিয়ানজিং শহরে তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, চীন পাকিস্তানের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরেই তালেবানের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রক্ষা করছে। কিন্তু এই প্রথম এত উঁচু মাপের কোনো তালেবান নেতা চীন সফরে গেলেন। 

তালেবান নেতার এই সফরের চারদিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি চীনে যান। সেখানকার চেংডু শহরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, আফগানিস্তানে যেকোনো অস্থিতিশীলতার প্রভাব প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তানে সরাসরি গিয়ে পড়বে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আগামী মাসের (অগাস্ট) মধ্যেই মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণার পর আফগানিস্তান নিয়ে সমস্ত প্রতিবেশী দেশগুলো অনিশ্চয়তা-উদ্বেগে ভুগছে। নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাই এখন সচেষ্ট।

তবে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে চীন।

অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানকে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বি আর আই) প্রকল্পে যুক্ত করার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে চীন। সেই সঙ্গে, আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদের ওপর চীনের লোভ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড করপোরেশনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যান এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, চীন আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসক হিসাবে তালেবানকে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, শুধু চীন নয় বাকি বিশ্বও এক রকম নিশ্চিত যে তালেবানই আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিচ্ছে বা অন্তত ক্ষমতার প্রধান শরীক হতে চলেছে।

তিনি বলেন, খোদ আমেরিকাও সেটা মেনে নিয়েছে। আমেরিকা নিজেই ক'বছর আগে তালেবানের সঙ্গে মীমাংসা শুরুর জন্য জালমে খালিলজাদকে দোহায় পাঠিয়েছে। ২০ বছর ধরে যুদ্ধের পর আমেরিকা বুঝেছে, যুদ্ধ করে তালেবানকে হারানো যাবে না এবং তারা মেনে নিয়েছে তালেবানই আফগানিস্তানের প্রধান শক্তি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন