‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’
jugantor
‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক  

০৪ আগস্ট ২০২১, ০৫:৫৯:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

আফগানিস্তানে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্করগাহের নিয়ন্ত্রণ নিতে শহরটি ঘিরে রেখেছেন তালেবান যোদ্ধারা। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন তারা। তালেবানের কাছে আফগানিস্তানের প্রথম কোনো প্রাদেশিক রাজধানীর পতন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এমন পরিস্থিতিতে লস্করগাহকে তালেবান মুক্ত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। রাজধানীর প্রায় দুই লাখ বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আফগান জেনারেল সামি সাদাত।

সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব। আমি জানি, আপনাদের পক্ষে বাড়িঘর ছাড়া কঠিন। আমাদের জন্যও এটা কঠিন। আপনারা যদি কিছুদিনের জন্য বাস্তুচ্যুত হন, তাহলে দয়া করে আমাদের ক্ষমা করবেন। কিন্তু আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তালেবানরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই লড়াই হবে। একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না।’

তালেবানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এ আহ্বান জানানো হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানে হেলমান্দ ছিল কেন্দ্রস্থল। ওই অঞ্চল তালেবানের দখলে গেলে আফগান সরকারের বড় ধরনের পরাজয় বলা হবে একে।

যে কারণে তালেবানের কাছে লস্করগাহ না হারানোর প্রতিজ্ঞা করেছে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। সেখানে দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিমান ও স্থলপথে হামলায় মঙ্গলবার তালেবানের ৭৭ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

জেনারেল সামি সাদাত বলছেন, তালেবান শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।

তবে খবর বলছে, ইতোমধ্যে তালেবান হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্করগাহের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে।

দুই পক্ষের এই দাবির মাঝে অসহায় ও মৃত্যুমুখে পতিত লস্করগাহর বাসিন্দারা। তালেবান ও সরকারি বাহিনীর মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেছেন, ‘তালেবান আমাদের প্রতি সদয় হবে না। আর আফগান সরকারও বোমা হামলা থামাবে না। রাস্তায় লাশের পর লাশ। আমরা জানি না, তারা তালেবান নাকি বেসামরিক নাগরিক।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘শহরের সব প্রান্তেই লড়াই চলছে। আমি জানি না কোথায় যাব।’

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের লড়াই তীব্র হয়েছে। তালেবান এ পর্যন্ত ২২৩টি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এ ছাড়া ১১৬টি জেলায় লড়াই চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম লং ওয়ার জার্নালের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৭টির রাজধানী তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
০৪ আগস্ট ২০২১, ০৫:৫৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আফগানিস্তানে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্করগাহের নিয়ন্ত্রণ নিতে শহরটি ঘিরে রেখেছেন তালেবান যোদ্ধারা। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন তারা। তালেবানের কাছে আফগানিস্তানের প্রথম কোনো প্রাদেশিক রাজধানীর পতন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এমন পরিস্থিতিতে লস্করগাহকে তালেবান মুক্ত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। রাজধানীর প্রায় দুই লাখ বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আফগান জেনারেল সামি সাদাত।

সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব। আমি জানি, আপনাদের পক্ষে বাড়িঘর ছাড়া কঠিন। আমাদের জন্যও এটা কঠিন। আপনারা যদি কিছুদিনের জন্য বাস্তুচ্যুত হন, তাহলে দয়া করে আমাদের ক্ষমা করবেন। কিন্তু আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তালেবানরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই লড়াই হবে। একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না।’

তালেবানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এ আহ্বান জানানো হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানে হেলমান্দ ছিল কেন্দ্রস্থল। ওই অঞ্চল তালেবানের দখলে গেলে আফগান সরকারের বড় ধরনের পরাজয় বলা হবে একে।

যে কারণে তালেবানের কাছে লস্করগাহ না হারানোর প্রতিজ্ঞা করেছে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। সেখানে দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিমান ও স্থলপথে হামলায় মঙ্গলবার তালেবানের ৭৭ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে  সরকারি বাহিনী।

জেনারেল সামি সাদাত বলছেন, তালেবান শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।

তবে খবর বলছে, ইতোমধ্যে তালেবান হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্করগাহের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে।  

দুই পক্ষের এই দাবির মাঝে অসহায় ও মৃত্যুমুখে পতিত লস্করগাহর বাসিন্দারা। তালেবান ও সরকারি বাহিনীর মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেছেন, ‘তালেবান আমাদের প্রতি সদয় হবে না। আর আফগান সরকারও বোমা হামলা থামাবে না। রাস্তায় লাশের পর লাশ। আমরা জানি না, তারা তালেবান নাকি বেসামরিক নাগরিক।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘শহরের সব প্রান্তেই লড়াই চলছে। আমি জানি না কোথায় যাব।’

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের লড়াই তীব্র হয়েছে। তালেবান এ পর্যন্ত ২২৩টি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এ ছাড়া ১১৬টি জেলায় লড়াই চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম লং ওয়ার জার্নালের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৭টির রাজধানী তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন