একদিকে আফগান শরণার্থী অন্যদিকে দাবানল, কী করবে তুরস্ক?
jugantor
একদিকে আফগান শরণার্থী অন্যদিকে দাবানল, কী করবে তুরস্ক?

  সরোয়ার আলম  

০৬ আগস্ট ২০২১, ২০:৩০:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

আফগান শরণার্থীদের নিয়ে চিন্তিত তুরস্ক 

দিন যত যাচ্ছে কাবুলের দিকে দৃঢ় পায়ে এগুচ্ছে তালেবান। আফগানিস্তানে নিত্য নতুন এলাকা চলে যাচ্ছে তালেবানের অধীনে। কোথাও স্বেচ্ছায় কোথাওবা সংঘর্ষ করেই এই সব এলাকার দখল নিচ্ছে তালেবান। আবার আশরাফ ঘানি সরকারের সমর্থনে তালেবানের বিভিন্ন পজিশনে হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলেই আফগানিস্তান পুরোপুরি ছেড়ে যাবে কিনা বলা মুশকিল। তবে তারা নতুন এক শরণার্থী স্রোত তৈরি করতে চাচ্ছে যার ভুক্তভোগী হবে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং তুরস্ক।

আমেরিকা ৫০ হাজার আফগানকে শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে কত বছরে গ্রহণ করবে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। আরেকটা বিষয় তারা বলেছে। আমেরিকা এই আফগান শরণার্থীদের আফগানিস্তান থেকে নিবে না। নিবে অন্য কোনো তৃতীয় দেশ থেকে। অর্থাৎ কেউ যদি আমেরিকায় শরণার্থী হিসেবে যেতে চায় তাকে হয়তো পাকিস্তান, নয়তো তুরস্ক নয়তো অন্য কোন দেশে যেতে হবে আবেদন করার জন্য।

আর এই আবদেন করলেও তাকে আবেদনের পর ১২ থেকে ১৪ মাস অপেক্ষা করতে হবে ফাইনাল ফলাফল জানতে। অর্থাৎ কোনো আফগান আমেরিকায় শরণার্থী হিসেবে যেতে চাইলে অন্য কোন দেশে গিয়ে ১২-১৪ মাস থাকতে হবে। পরে ভাগ্য ভিসা জুটলে যাবে না হলে কী করবে? এর কোনো উত্তর নেই। তবে একটা বিষয় এখানে নিশ্চিত যে আমেরিকার এই চাল নতুন করে শরণার্থী স্রোত চালু করবে পাকিস্তান এবং তুরস্কে।

হয়তো কোনো বছর ১০০-২০০ আফগান নেবে তারা কিন্তু এই ১০০-২০০ লোককে দেখে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য হাজার হাজার লোক পাড়ি জমাবে এই তৃতীয় দেশে। নতুন এক শরণার্থী সংকট। কিছুটা বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের জাকাতের কাপড় দেয়ার মতো।

১০টা কাপড় দেয়ার জন্য সারা এলাকায় মাইকিং করে পরে শত শত লোক আসে সেই কাপড় নিতে। আর ডজন ডজন মানুষ মারা যায় সেই ভিড়ে। তাতে ওই নেতার কোনো ক্ষতি হয় না ক্ষতি যা হয় জনগণের।

যাইহোক, আফগানিস্তানে এখন তালেবানের অগ্রগতি দ্রুত বাড়ছে। নিত্য নতুন এলাকা দখলে নিচ্ছে তালেবান। কিছু কিছু জায়গায় তালেবানকে স্বাগত জানাচ্ছে সাধারণ জনগণ আবার কোন কোন এলাকায় তালেবান বিরোধী মিছিলও করছে লোকজন।

আসলে এই ধরনের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে সাধারণ লোকজনের চাওয়া পাওয়ার কোনও মূল্য থাকে না। বছরের পর বছর তারা শুধু ভুক্তভোগী হয়েই বেঁচে থাকে। রাষ্ট্র যখন অকেজো হয়ে যায় সরকার তখন দেশের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। শক্তিশালী গোষ্ঠী গুলো চড়াও হয় সাধারণ জনগণের ওপর। তাই সাধারণ জনগণের তখন সুখ দুঃখ বলার বা দেখার কেউ থাকে না।

তারা তখন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অধীনেই নিজের পরিবারের জন্য শান্তি খোঁজে।

গত ৪২ বছরে আফগানিস্তানের জনগণ এই শান্তিটুকু পায়নি। প্রথম এক গ্রুপ এসে তছনছ করে দেয় তাদের শান্তির নীড়। পরে আসে আরেক গ্রুপ।সোভিয়েত রাশিয়া থেকে শুরু করে এভাবেই চলে আসছে সেখানে। জনগণ সেখানে শুধু একটু শান্তি চায়, দুবেলা দুমুঠো খাবার চায়।

রাষ্ট্র ক্ষমতায় কে এলো আর কে গেলও তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ, নিজের ভবিষ্যৎ এবং জানমালের নিরাপত্তা যে দেবে সেই তাদের কাছে দেবতা সমতুল্য। এ কারণে এরকম যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় লোকজন সবসময় শক্তিশালীর পাশে দাঁড়ায়। আর যারা টিকতে না পারে তারা সবকিছু ছেড়ে আশ্রয় নেয় কোন শরণার্থী শিবিরে বা পারি জমায় অন্য কোন দেশে।

এরকম লাখ লাখ আফগান আশ্রয় নিয়েছে পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে।

জাতিসংঘেরহিসেব অনুযায়ী, আফগানিস্তানেরআনুমানিক ৩০ লাখ লোক শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। এর মধ্যে পাকিস্তানে আছে ১৮ লাখ আর ইরানে ৯ লাখ। এর বাইরে যে কত লোক উদ্বাস্তু হয়ে আছে কে রাখে তার হিসেব।

এই আফগান শরণার্থীদের নিয়ে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগীতাদের শুরুতেই আসবে পাকিস্তান এবং তুরস্কের নাম। আফগান শরণার্থীর ভারে পাকিস্তান প্রায় মুহ্যমান।

আর তুরস্কের কথা কী বলবো। এক দিকে ৪৬ লাখ সিরিয়ান শরণার্থী, অন্যদিকে ইরাকী, আর আফগানি। সাথে আছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, এবং অনেক আফ্রিকান দেশ থেকে আসা হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীদের চাপ। সবকিছু মিলিয়ে দেশটিতে শরণার্থী আর অভিবাসীদের সংখ্যা ৫০ লাখের উপড়ে। তুরস্কে এখন কত আফগান শরণার্থী আছে এ নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে ধারণা করা হয় এই সংখ্যা কয়েক লাখ হবে।

আফগানশরণার্থীদের নিয়ে টেনশনে তুরস্ক

Xinhua এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী তুরস্কে ৪ লাখ আফগান শরণার্থী আছে। দেশটিতে সিরিয়ার শরণার্থীদের পরেই হবে আফগানদের অবস্থান।

এখন আবার নতুন করে ধেয়ে আসছে শরণার্থী স্রোত। তুরস্কের দিকে ছুটছে হাজার হাজার আফগান শরণার্থী। ৩০-৪০ দিন হেটে তারা পৌঁছে তুরস্কের সীমান্তে। আফগানিস্তান হয়ে ইরানের মধ্য দিয়ে আসছে তুরস্কে। তুরস্কের সীমান্তে ইরান তাদেরকে রুখে দিতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে খবর আসছে। আসলে তুরস্ক এবং ইরান সীমান্ত পাহারা দেয় শুধু তুরস্কের সেনাবাহিনী। আর ইরানের তুরস্ক তাদেরকে ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে।

ইরান সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে এই শরণার্থী ঠেকানোর জন্য। কিন্তু জঙ্গল আর পাহাড়ে ঘেরা এই সীমান্তের প্রতি ইঞ্চি পাহারা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই প্রতিদিন নতুন নতুন আফগান শরণার্থী আসছে তুরস্কে।

তুরস্কে এখনও আছে কয়েক লাখ আফগান শরণার্থী। তাই দেশের মধ্যে আফগান শরণার্থী বিরোধী মনোভাব এখন তুঙ্গে। মানুষজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তাদের বিরক্তি প্রকাশ করছে। বিরোধী দলগুলো এটাকে বড় একটা ইস্যু তৈরি করছে। তুরস্কে চলতে থাকা দাবানলের মধ্যেও প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এই নিয়ে তুলোধুনা করেছেন রাষ্ট্রপতি এরদোয়ানকে।

প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেছেন,আরও বেশি আফগান শরণার্থী গ্রহণ করতে তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তিনি এখানে কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেয় নিয়েও সরকারকে দোষারোপ করেন। যদিও তুরস্কের সেনাবাহিনীর কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার যে আলোচনা এতদিন চলে আসছে এখনও সেখানে কোন সুরহা হয়নি।তালেবান তুরস্কের এই ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার অবস্থান নমনীয় করেনি। কিন্তু তুরস্ক সেখানে থাকতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে ন্যাটোর অধীনে আফগানিস্তানের স্পেশাল ফোর্সকে ট্রেনিং দেয়া শুরু করেছে তুরস্ক।

ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো তুরস্কের কাবুল বিমানবন্দরে থাকার পূর্ব প্রস্তুতি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তালেবানের ঘোর বিরোধিতা সত্ত্বেও তুরস্ক যদি কাবুল বিমানবন্দরে থাকে তাহলে কী হবে? আজকে সে আলোচনায় গেলাম না। আরেকদিন এ নিয়ে বিস্তারিত লেখার আশা রেখে আফগানিস্তান নিয়ে আজকে এখানে ইতি টানি।

একদিকে আফগান শরণার্থী অন্যদিকে দাবানল, কী করবে তুরস্ক?

 সরোয়ার আলম 
০৬ আগস্ট ২০২১, ০৮:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আফগান শরণার্থীদের নিয়ে চিন্তিত তুরস্ক 
ফাইল ছবি

দিন যত যাচ্ছে কাবুলের দিকে দৃঢ় পায়ে এগুচ্ছে তালেবান। আফগানিস্তানে নিত্য নতুন এলাকা চলে যাচ্ছে তালেবানের অধীনে। কোথাও স্বেচ্ছায় কোথাওবা সংঘর্ষ করেই এই সব এলাকার দখল নিচ্ছে তালেবান। আবার আশরাফ ঘানি সরকারের সমর্থনে তালেবানের বিভিন্ন পজিশনে হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলেই আফগানিস্তান পুরোপুরি ছেড়ে যাবে কিনা বলা মুশকিল। তবে তারা নতুন এক শরণার্থী স্রোত তৈরি করতে চাচ্ছে যার ভুক্তভোগী হবে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং তুরস্ক। 

আমেরিকা ৫০ হাজার আফগানকে শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে কত বছরে গ্রহণ করবে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। আরেকটা বিষয় তারা বলেছে। আমেরিকা এই আফগান শরণার্থীদের আফগানিস্তান থেকে নিবে না। নিবে অন্য কোনো তৃতীয় দেশ থেকে। অর্থাৎ কেউ যদি আমেরিকায় শরণার্থী হিসেবে যেতে চায় তাকে হয়তো পাকিস্তান, নয়তো তুরস্ক নয়তো অন্য কোন দেশে যেতে হবে আবেদন করার জন্য। 

আর এই আবদেন করলেও তাকে আবেদনের পর ১২ থেকে ১৪ মাস অপেক্ষা করতে হবে ফাইনাল ফলাফল জানতে। অর্থাৎ কোনো আফগান আমেরিকায় শরণার্থী হিসেবে যেতে চাইলে অন্য কোন দেশে গিয়ে ১২-১৪ মাস থাকতে হবে। পরে ভাগ্য ভিসা জুটলে যাবে না হলে কী করবে? এর কোনো উত্তর নেই। তবে একটা বিষয় এখানে নিশ্চিত যে আমেরিকার এই চাল নতুন করে শরণার্থী স্রোত চালু করবে পাকিস্তান এবং তুরস্কে। 

হয়তো কোনো বছর ১০০-২০০ আফগান নেবে তারা কিন্তু এই ১০০-২০০ লোককে দেখে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য হাজার হাজার লোক পাড়ি জমাবে এই তৃতীয় দেশে। নতুন এক শরণার্থী সংকট। কিছুটা বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের জাকাতের কাপড় দেয়ার মতো। 

১০টা কাপড় দেয়ার জন্য সারা এলাকায় মাইকিং করে পরে শত শত লোক আসে সেই কাপড় নিতে। আর ডজন ডজন মানুষ মারা যায় সেই ভিড়ে। তাতে ওই নেতার কোনো ক্ষতি হয় না ক্ষতি যা হয় জনগণের। 

যাইহোক, আফগানিস্তানে এখন তালেবানের অগ্রগতি দ্রুত বাড়ছে। নিত্য নতুন এলাকা দখলে নিচ্ছে তালেবান। কিছু কিছু জায়গায় তালেবানকে স্বাগত জানাচ্ছে সাধারণ জনগণ আবার কোন কোন এলাকায় তালেবান বিরোধী মিছিলও করছে লোকজন। 

আসলে এই ধরনের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে সাধারণ লোকজনের চাওয়া পাওয়ার কোনও মূল্য থাকে না। বছরের পর  বছর তারা শুধু ভুক্তভোগী হয়েই বেঁচে থাকে। রাষ্ট্র যখন অকেজো হয়ে যায় সরকার তখন দেশের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। শক্তিশালী গোষ্ঠী গুলো চড়াও হয় সাধারণ জনগণের ওপর। তাই সাধারণ জনগণের তখন সুখ দুঃখ বলার বা দেখার কেউ থাকে না। 

তারা তখন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অধীনেই নিজের পরিবারের জন্য শান্তি খোঁজে। 

গত ৪২ বছরে আফগানিস্তানের জনগণ এই শান্তিটুকু পায়নি। প্রথম এক গ্রুপ এসে তছনছ করে দেয় তাদের শান্তির নীড়। পরে আসে আরেক গ্রুপ।সোভিয়েত রাশিয়া থেকে শুরু করে এভাবেই চলে আসছে সেখানে। জনগণ সেখানে শুধু একটু শান্তি চায়, দুবেলা দুমুঠো খাবার চায়।

রাষ্ট্র ক্ষমতায় কে এলো আর কে গেলও তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ, নিজের ভবিষ্যৎ এবং জানমালের নিরাপত্তা যে দেবে সেই তাদের কাছে দেবতা সমতুল্য। এ কারণে এরকম যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় লোকজন সবসময় শক্তিশালীর পাশে দাঁড়ায়। আর যারা টিকতে না পারে তারা সবকিছু ছেড়ে আশ্রয় নেয় কোন শরণার্থী শিবিরে বা পারি জমায় অন্য কোন দেশে।

এরকম লাখ লাখ আফগান আশ্রয় নিয়েছে পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, আফগানিস্তানের আনুমানিক ৩০ লাখ লোক শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। এর মধ্যে পাকিস্তানে আছে ১৮ লাখ আর ইরানে ৯ লাখ। এর বাইরে যে কত লোক উদ্বাস্তু হয়ে আছে কে রাখে তার হিসেব। 

এই আফগান শরণার্থীদের নিয়ে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী তাদের শুরুতেই আসবে পাকিস্তান এবং তুরস্কের নাম। আফগান শরণার্থীর ভারে পাকিস্তান প্রায় মুহ্যমান। 

আর তুরস্কের কথা কী বলবো। এক দিকে ৪৬ লাখ সিরিয়ান শরণার্থী, অন্যদিকে ইরাকী, আর আফগানি। সাথে আছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, এবং অনেক আফ্রিকান দেশ থেকে আসা হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীদের চাপ। সবকিছু মিলিয়ে দেশটিতে শরণার্থী আর অভিবাসীদের সংখ্যা ৫০ লাখের উপড়ে। তুরস্কে এখন কত আফগান শরণার্থী আছে এ নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে ধারণা করা হয় এই সংখ্যা কয়েক লাখ হবে। 

আফগান শরণার্থীদের নিয়ে টেনশনে তুরস্ক

Xinhua এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী তুরস্কে ৪ লাখ আফগান শরণার্থী আছে। দেশটিতে সিরিয়ার শরণার্থীদের পরেই হবে আফগানদের অবস্থান।

এখন আবার নতুন করে ধেয়ে আসছে শরণার্থী স্রোত। তুরস্কের দিকে ছুটছে হাজার হাজার আফগান শরণার্থী। ৩০-৪০ দিন হেটে তারা পৌঁছে তুরস্কের সীমান্তে। আফগানিস্তান হয়ে ইরানের মধ্য দিয়ে আসছে তুরস্কে। তুরস্কের সীমান্তে ইরান তাদেরকে রুখে দিতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে খবর আসছে। আসলে তুরস্ক এবং ইরান সীমান্ত পাহারা দেয় শুধু তুরস্কের সেনাবাহিনী। আর ইরানের তুরস্ক তাদেরকে ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। 

ইরান সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে এই শরণার্থী ঠেকানোর জন্য। কিন্তু জঙ্গল আর পাহাড়ে ঘেরা এই সীমান্তের প্রতি ইঞ্চি পাহারা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই প্রতিদিন নতুন নতুন আফগান শরণার্থী আসছে তুরস্কে। 

তুরস্কে এখনও আছে কয়েক লাখ আফগান শরণার্থী। তাই দেশের মধ্যে আফগান শরণার্থী বিরোধী মনোভাব এখন তুঙ্গে। মানুষজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তাদের বিরক্তি প্রকাশ করছে। বিরোধী দলগুলো এটাকে বড় একটা ইস্যু তৈরি করছে। তুরস্কে চলতে থাকা দাবানলের মধ্যেও প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এই নিয়ে তুলোধুনা করেছেন রাষ্ট্রপতি এরদোয়ানকে। 

প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেছেন, আরও বেশি আফগান শরণার্থী গ্রহণ করতে তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তিনি এখানে কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেয় নিয়েও সরকারকে দোষারোপ করেন। যদিও তুরস্কের সেনাবাহিনীর কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার যে আলোচনা এতদিন চলে আসছে এখনও সেখানে কোন সুরহা হয়নি।তালেবান তুরস্কের এই ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার অবস্থান নমনীয় করেনি। কিন্তু তুরস্ক সেখানে থাকতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে ন্যাটোর অধীনে আফগানিস্তানের স্পেশাল ফোর্সকে ট্রেনিং দেয়া শুরু করেছে তুরস্ক। 

ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো তুরস্কের কাবুল বিমানবন্দরে থাকার পূর্ব প্রস্তুতি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তালেবানের ঘোর বিরোধিতা সত্ত্বেও তুরস্ক যদি কাবুল বিমানবন্দরে থাকে তাহলে কী হবে? আজকে সে আলোচনায় গেলাম না। আরেকদিন এ নিয়ে বিস্তারিত লেখার আশা রেখে আফগানিস্তান নিয়ে আজকে এখানে ইতি টানি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : সরোয়ার আলমের লেখাসমূহ