তুরস্কের দাবানল নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!
jugantor
তুরস্কের দাবানল নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!

  সরোয়ার আলম   

০৮ আগস্ট ২০২১, ২৩:০২:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

তুরস্ক

তুরস্কে দাবানল শুরু হয়েছে দশ দিন আগে কিন্তু এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি পুরোপুরি।

তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের ৪০টিতে দেখা যায় এই জঙ্গলের আগুন। অর্থাৎ দেশের অর্ধেক প্রদেশে কোনো না কোনো জায়গায় বনে আগুন লেগেছে এই ১০-১১ দিনে। মোট ২০৮ এলাকায় আগুন লাগে এর মধ্যে ১৯৬ জায়গায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এখনো পাঁচটি প্রদেশের ১২টি পয়েন্টে আগুন জ্বলছে।

গতকাল একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগলে মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি আরে বিস্ফোরণ ঠেকাতে সরকার সব দাহ্য পদার্থ বের করে নিয়ে আসে। প্রায় ১১ ঘণ্টায় ধরে পুড়তে থাকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। এখন সেখানে আগুন নিভে গেছে। অনেকের প্রশ্ন- কেন সরকার কেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না?

সরকার কি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না? আসলে দাবানল এমন একটা জিনিস যদি আবহাওয়া অনুকূলে না থাকে তাহলে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। কারণ পানি দিয়ে আগুনের গতিরোধ করা সম্ভব না যদি তাপমাত্রা বেশি থাকে আর সঙ্গে প্রচুর বাতাস। তুরস্কের যে আন্তালিয়া মুলা এলাকায় এখন আগুন জ্বলছে সেখানে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার। তাই এই বিশাল জঙ্গলে পানি দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আগুন।

আগুন নেভাতে যেমন তুরস্কের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ছুটে গেছে তেমনি বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে দমকল বাহিনী, গাড়ি, বিমান, হেলিকপ্টার। এই মুহূর্তে আসল সহয়তা হোলও আগুন নেভানোর গাড়ি, বিমান, হেলিকপ্টার এবং দমকল বাহিনী। এক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে আসে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। আগুন নেভানোর বিমান এবং হেলিকপ্টার পাঠায় তারা। পরে আসে আজারবাইজান।

বিশাল এক দমকল বাহিনীর বহর পাঠায় তুরস্কে। প্রথমে ১১০ জন কর্মী, বিমান এবং বহু আগুন নেভানোর গাড়ি পাঠায় দেশটি।পরে দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপে আরও বেশি লোক ও সরঞ্জাম পাঠায় আজার বাইজান। সঙ্গে থাকে সেনাবাহিনীর আগুন নেভানোর টিম। সবচেয়ে বেশি সহয়তা আসে এই আজারবাইজান থেকে। কারণ তাদের আছে তুরস্কের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আর গতবছরের নাগরনো কারাবাখ যুদ্ধে তুরস্কের সহয়তাও তারা ভুলছে না।

এরপরে আসে কাতার এবং ইরান। তারাও আগুন নেভাতে বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠায়। ইউরোপ থেকেও আসে সহযোগিতা। স্পেন এবং ক্রোয়েশিয়া পাঠায় বিমান।ইসরাইল থেকেও দুটি বিমান আসে আগুন নেভাতে। এখানে ইউরোপের সঙ্গে একটু সমস্যা হয় তুরস্কের।

অনেক ইউরোপীয় দেশ প্রথমে সাহায্য পাঠানোর প্রস্তাব দেয় কিন্তু পরে তারা সাহায্য পাঠায় না বা পাঠাতে পারে না। যেমন, ফ্রান্স, জার্মানি, এবং গ্রীস।কিন্তু সেটা আবার এরকমভাবে খবরে আসে যে তুরস্ক ওইসব দেশের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে এই সব খবর সঠিক না। কারণ, তুরস্ক এই দুর্যোগে কারো সঙ্গে শত্রুতা পোষণ বা কারো সঙ্গে দম্ভ করবে না। আগুন নেভাতে সবার কাছ থেকেই সহযোগিতা নিতে প্রস্তুত দেশটি। তবে তুরস্কের এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আর্থিক সাহায্যের দরকার নেই।

কিন্তু একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত তুরস্ককে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক একটা ক্যাম্পেইন চালু করেছে।

হেল্পতুর্কী নামক এই ক্যাম্পেইনে সু কৌশলে এমনভাবে তুরস্ককে এবং এর সরকারকে আক্রমণ করা হয়েছে যেন, তুরস্কের আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি কেনার টাকা নেই, তুরস্ক অর্থনৈতিক ভাবে শেষ হয়ে গেছে, এই সরকার তুরস্ককে নিঃশেষ করে দিয়েছে। এরা দেশ চালতে পারছে না। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার তাই হেল্প তুর্কি!

ধারণা করা হয় যে, এটা আসলে পুরোপুরি ফেতুল্লাহ গুলেন সমর্থিত গ্রুপের সুকৌশলে পরিচালিত একটা এরদোয়ান বিরোধী ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনে যোগ দিয়েছে দেশটির বিরোধী দল এবং কিছু জাতীয় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং তথাকথিত তুরস্কপ্রেমীরা। এমনকি এরদোয়ানের পদত্যাগের ডাক দিয়েও টুইটারে

ক্যাম্পেইন চালানো হয়। সেখানে মিলিয়ন মিলিয়ন টুইট করা হয় এ নিয়ে। যদিও অনেকে আবার সব ক্যাম্পেইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু এই বিরোধী গ্রুপটি দেশে বিদেশে অনেক শক্তিশালী। তারা এই সুযোগে দাবানল মোকাবেলার পরিবর্তে এরদোয়ানের পতনের ডাক দিয়েছে।

আসলে, তুরস্ক এখন যেটা ফেইস করছে সেটা হলো পুরোপুরিই একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আর এরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব দেশই পড়তে পারে। যেমন অনেক দেশে এ রকম দাবানল জ্বলছে এখনো। যা আগের ভিডিওতে বলেছিলাম। যেমন গ্রীস, ফ্রান্স, আমেরিকা, রাশিয়া সহ অনেক দেশ। কোনো কোনো দেশের দাবানল তুরস্কের চেয়েও ভয়ংকর। আর জ্বলছে একমাস ধরে। কই সেসব দেশে তো আন্তর্জাতিক এরকম হেল্প ক্যাম্পেইন চালু করেনি। অথচ তুরস্ককে নিয়ে কী হচ্ছে এসব? মনে হয় যেন তুরস্কের একটাও আগুন নেভানোর বিমান নেই বা এগুলো কেনার টাকা নেই।

তুরস্কের অনেকগুলো আগুন নেভানোর বিমান বা হেলিকপ্টার আছে। তবে সেগুলো যথেষ্ট না। কারণ এতো বড় দাবানলের জন্য কোন দেশই পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারে না। যেমন কোথাও ভূমিকম্পে যদি একটা শহর ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সে দেশটি যত শক্তিশালীই থাকুক না কেন তার হিমশিম খেতে হবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। যাইহোক এই ফেতুল্লাহ গুলেন গ্রুপের চক্রান্ত চলছে চলবে। অন্য একদিন এদের সব চক্রান্ত নিয়েও আলোচনা করবো।

এখন এই দাবানল নিভাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৯টি ড্রোন, ২০টি বিমান, ৫১টি হেলিকপ্টার এবং হাজার হাজার দমকলের গাড়ি এবং দমকলবাহিনীর কর্মী।

ইতিমধ্যে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সবকিছু দেয়ার ওয়াদা করেছে। যার যা ক্ষতি হয়েছে সব কিছু পুষিয়ে দিবে। যেমন, যার ঘর পুড়েছে তাকে আগামী এক বছরের মধ্যে ঘর করে দিবে। যার যতগুলো গবাদি পশু মারা গেছে তাকে ততগুলো পশু কেনার টাকা দিবে। যার ফসলের ক্ষতি হয়েছে তাকে সে ক্ষতিপূরণ দিবে সরকার।

অন্যদিকে তুরস্কের এই দাবানলে সহমর্মিতা জানিয়েছে প্রায় ৮০ টি দেশ। তুরস্কের রাষ্ট্রপতি সে দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।বাংলাদেশও এই বন্ধু দেশটির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে তো আমাদের শত্রুতা নেই। তুরস্ক আমাদের ক্রান্তিকালে তার সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় হোক, প্লাবন হোক বা রোহিঙ্গা ইস্যুই হোক। তুরস্ক সবসময় আমাদের পাশে ছিল। তাই বাংলাদেশও তুরস্কের পাশে আছে থাকবে। এর মধ্যে এই দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করতে ছুটে গিয়েছে একদল রোহিঙ্গা ছাত্র।

তুরস্কের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি স্কলারশিপে অধ্যয়নরত এসব শিক্ষার্থীরা তুরস্কের সরকারি সাহায্য সংস্থা তুরকিশ রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে সেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দেয়। গত চার পাঁচ দিন ধরে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের দাড়ে দাড়ে পৌঁছে দেয় খাবার এবং পানীয়। এদের মধ্যে একজন আমাকে জানান যে তুরস্ক রোহিঙ্গাদের জন্য যা করেছে তা হয়তো এর মাধ্যমে পুষিয়ে দেয়া সম্ভব না কিন্তু যে দেশটি আমাদের ক্রান্তিকালে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সে দেশটির একটা অঞ্চল এরকম পুড়ে যাচ্ছে আর আমরা বসে বসে দেখছি কিছুই করতে পারছি না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই কিছু একটা করার জন্য এবং তুর্ক খিযিলাই (TURK KIZILAY) বা টার্কিশ রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ইতিবাচক সারা দেয়।

এখনো তারা ওই এলাকায় সেচ্ছাসেবীর কাজ করছে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছে। এরকম আরও বিভিন্ন দেশের লোকজন ছুটে গিয়েছে সাহায্যে, যে যেভাবে পারছে সাহায্য করছে। আর যে কিছুই করতে পারেছে না সে দোয়া করছে।

আমরা দোয়া করি তুরস্ক যেন অতি দ্রুত এই দাবানল থেকে রক্ষা পায়। শুধু তুরস্কই না সারা বিশ্বের যেখানেই এরকম দাবানল জ্বলছে, হোক সেটা গ্রীস, ইতালি, রাশিয়া, ফ্রান্স বা আমেরিকা, সব দেশেরই দাবানল যেন তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তুরস্কের দাবানল নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!

 সরোয়ার আলম  
০৮ আগস্ট ২০২১, ১১:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
তুরস্ক
ফাইল ছবি

তুরস্কে দাবানল শুরু হয়েছে দশ দিন আগে কিন্তু এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি পুরোপুরি। 

তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের ৪০টিতে দেখা যায় এই জঙ্গলের আগুন। অর্থাৎ দেশের অর্ধেক প্রদেশে কোনো না কোনো জায়গায় বনে আগুন লেগেছে এই ১০-১১ দিনে। মোট ২০৮ এলাকায় আগুন লাগে এর মধ্যে ১৯৬ জায়গায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এখনো পাঁচটি প্রদেশের ১২টি পয়েন্টে আগুন জ্বলছে। 

গতকাল একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগলে মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি আরে বিস্ফোরণ ঠেকাতে সরকার সব দাহ্য পদার্থ বের করে নিয়ে আসে। প্রায় ১১ ঘণ্টায় ধরে পুড়তে থাকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। এখন সেখানে আগুন নিভে গেছে। অনেকের প্রশ্ন- কেন সরকার কেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না?

সরকার কি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না? আসলে দাবানল এমন একটা জিনিস যদি আবহাওয়া অনুকূলে না থাকে তাহলে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। কারণ পানি দিয়ে আগুনের গতিরোধ করা সম্ভব না যদি তাপমাত্রা বেশি থাকে আর সঙ্গে প্রচুর বাতাস। তুরস্কের যে আন্তালিয়া মুলা এলাকায় এখন আগুন জ্বলছে সেখানে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার। তাই এই বিশাল জঙ্গলে পানি দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আগুন। 

আগুন নেভাতে যেমন তুরস্কের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ছুটে গেছে তেমনি বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে দমকল বাহিনী, গাড়ি, বিমান, হেলিকপ্টার। এই মুহূর্তে আসল সহয়তা হোলও আগুন নেভানোর গাড়ি, বিমান, হেলিকপ্টার এবং দমকল বাহিনী। এক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে আসে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। আগুন নেভানোর বিমান এবং হেলিকপ্টার পাঠায় তারা। পরে আসে আজারবাইজান। 

বিশাল এক দমকল বাহিনীর বহর পাঠায় তুরস্কে। প্রথমে ১১০ জন কর্মী, বিমান এবং বহু আগুন নেভানোর গাড়ি পাঠায় দেশটি।পরে দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপে আরও বেশি লোক ও সরঞ্জাম পাঠায় আজার বাইজান। সঙ্গে থাকে সেনাবাহিনীর আগুন নেভানোর টিম। সবচেয়ে বেশি সহয়তা আসে এই আজারবাইজান থেকে। কারণ তাদের আছে তুরস্কের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আর গতবছরের নাগরনো কারাবাখ যুদ্ধে তুরস্কের সহয়তাও তারা ভুলছে না। 

এরপরে আসে কাতার এবং ইরান। তারাও আগুন নেভাতে বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠায়। ইউরোপ থেকেও আসে সহযোগিতা। স্পেন এবং ক্রোয়েশিয়া পাঠায় বিমান।ইসরাইল থেকেও দুটি বিমান আসে আগুন নেভাতে। এখানে ইউরোপের সঙ্গে একটু সমস্যা হয় তুরস্কের। 

অনেক ইউরোপীয় দেশ প্রথমে সাহায্য পাঠানোর প্রস্তাব দেয় কিন্তু পরে তারা সাহায্য পাঠায় না বা পাঠাতে পারে না। যেমন, ফ্রান্স, জার্মানি, এবং গ্রীস।কিন্তু সেটা আবার এরকমভাবে খবরে আসে যে তুরস্ক ওইসব দেশের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে এই সব খবর সঠিক না। কারণ, তুরস্ক এই দুর্যোগে কারো সঙ্গে শত্রুতা পোষণ বা কারো সঙ্গে দম্ভ করবে না। আগুন নেভাতে সবার কাছ থেকেই সহযোগিতা নিতে প্রস্তুত দেশটি। তবে তুরস্কের এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আর্থিক সাহায্যের দরকার নেই। 

কিন্তু একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত তুরস্ককে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক একটা ক্যাম্পেইন চালু করেছে। 

হেল্পতুর্কী নামক এই ক্যাম্পেইনে সু কৌশলে এমনভাবে তুরস্ককে এবং এর সরকারকে আক্রমণ করা হয়েছে যেন, তুরস্কের আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি কেনার টাকা নেই, তুরস্ক অর্থনৈতিক ভাবে শেষ হয়ে গেছে, এই সরকার তুরস্ককে নিঃশেষ করে দিয়েছে। এরা দেশ চালতে পারছে না। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার তাই হেল্প তুর্কি! 

ধারণা করা হয় যে, এটা আসলে পুরোপুরি ফেতুল্লাহ গুলেন সমর্থিত গ্রুপের সুকৌশলে পরিচালিত একটা এরদোয়ান বিরোধী ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনে যোগ দিয়েছে দেশটির বিরোধী দল এবং কিছু জাতীয় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং তথাকথিত তুরস্কপ্রেমীরা। এমনকি এরদোয়ানের পদত্যাগের ডাক দিয়েও টুইটারে

ক্যাম্পেইন চালানো হয়। সেখানে মিলিয়ন মিলিয়ন টুইট করা হয় এ নিয়ে। যদিও অনেকে  আবার সব ক্যাম্পেইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু এই বিরোধী গ্রুপটি দেশে বিদেশে অনেক শক্তিশালী। তারা এই সুযোগে দাবানল মোকাবেলার পরিবর্তে এরদোয়ানের পতনের ডাক দিয়েছে।  

আসলে, তুরস্ক এখন যেটা ফেইস করছে সেটা হলো পুরোপুরিই একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আর এরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব দেশই পড়তে পারে। যেমন অনেক দেশে এ রকম দাবানল জ্বলছে এখনো। যা আগের ভিডিওতে বলেছিলাম। যেমন গ্রীস, ফ্রান্স, আমেরিকা, রাশিয়া সহ অনেক দেশ। কোনো কোনো দেশের দাবানল তুরস্কের চেয়েও ভয়ংকর। আর জ্বলছে একমাস ধরে। কই সেসব দেশে তো আন্তর্জাতিক এরকম হেল্প ক্যাম্পেইন চালু করেনি। অথচ তুরস্ককে নিয়ে কী হচ্ছে এসব? মনে হয় যেন তুরস্কের একটাও আগুন নেভানোর বিমান নেই বা এগুলো কেনার টাকা নেই।

তুরস্কের অনেকগুলো আগুন নেভানোর বিমান বা হেলিকপ্টার আছে। তবে সেগুলো যথেষ্ট না। কারণ এতো বড় দাবানলের জন্য কোন দেশই পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারে না। যেমন কোথাও ভূমিকম্পে যদি একটা শহর ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সে দেশটি যত শক্তিশালীই থাকুক না কেন তার হিমশিম খেতে হবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। যাইহোক এই ফেতুল্লাহ গুলেন গ্রুপের চক্রান্ত চলছে চলবে। অন্য একদিন এদের সব চক্রান্ত নিয়েও আলোচনা করবো। 

এখন এই দাবানল নিভাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৯টি ড্রোন, ২০টি বিমান, ৫১টি হেলিকপ্টার এবং হাজার হাজার দমকলের গাড়ি এবং দমকলবাহিনীর কর্মী। 

ইতিমধ্যে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সবকিছু দেয়ার ওয়াদা করেছে। যার যা ক্ষতি হয়েছে সব কিছু পুষিয়ে দিবে। যেমন, যার ঘর পুড়েছে তাকে আগামী এক বছরের মধ্যে ঘর করে দিবে। যার যতগুলো গবাদি পশু মারা গেছে তাকে ততগুলো পশু কেনার টাকা দিবে। যার ফসলের ক্ষতি হয়েছে তাকে সে ক্ষতিপূরণ দিবে সরকার। 

অন্যদিকে তুরস্কের এই দাবানলে সহমর্মিতা জানিয়েছে প্রায় ৮০ টি দেশ। তুরস্কের রাষ্ট্রপতি সে দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।বাংলাদেশও এই বন্ধু দেশটির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে তো আমাদের শত্রুতা নেই। তুরস্ক আমাদের ক্রান্তিকালে তার সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড় হোক, প্লাবন হোক বা রোহিঙ্গা ইস্যুই হোক। তুরস্ক সবসময় আমাদের পাশে ছিল। তাই বাংলাদেশও তুরস্কের পাশে আছে থাকবে। এর মধ্যে এই দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করতে ছুটে গিয়েছে একদল রোহিঙ্গা ছাত্র।

তুরস্কের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি স্কলারশিপে অধ্যয়নরত এসব শিক্ষার্থীরা তুরস্কের সরকারি সাহায্য সংস্থা তুরকিশ রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে সেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দেয়। গত চার পাঁচ দিন ধরে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের দাড়ে দাড়ে পৌঁছে দেয় খাবার এবং পানীয়। এদের মধ্যে একজন আমাকে জানান যে তুরস্ক রোহিঙ্গাদের জন্য যা করেছে তা হয়তো এর মাধ্যমে পুষিয়ে দেয়া সম্ভব না কিন্তু যে দেশটি আমাদের ক্রান্তিকালে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সে দেশটির একটা অঞ্চল এরকম পুড়ে যাচ্ছে আর আমরা বসে বসে দেখছি কিছুই করতে পারছি না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই কিছু একটা করার জন্য এবং তুর্ক খিযিলাই (TURK KIZILAY) বা টার্কিশ রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ইতিবাচক সারা দেয়।

এখনো তারা ওই এলাকায় সেচ্ছাসেবীর কাজ করছে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছে। এরকম আরও বিভিন্ন দেশের লোকজন ছুটে গিয়েছে সাহায্যে, যে যেভাবে পারছে সাহায্য করছে। আর যে কিছুই করতে পারেছে না সে দোয়া করছে।

আমরা দোয়া করি তুরস্ক যেন অতি দ্রুত এই দাবানল থেকে রক্ষা পায়। শুধু তুরস্কই না সারা বিশ্বের যেখানেই এরকম দাবানল জ্বলছে, হোক সেটা গ্রীস, ইতালি, রাশিয়া, ফ্রান্স বা আমেরিকা, সব দেশেরই দাবানল যেন তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণে আসে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : সরোয়ার আলমের লেখাসমূহ