অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভারতীয় হিসাবরক্ষক গ্রেফতার
jugantor
অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভারতীয় হিসাবরক্ষক গ্রেফতার

  এসএ রব, আয়ারল্যান্ড থে‌কে  

১৪ আগস্ট ২০২১, ০০:২১:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আয়ারল্যান্ডের কোম্পানির প্রায় ১২ লাখ ইউরো চুরি ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক ভারতীয় হিসাবরক্ষককে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। একই মামলায় অভিযুক্ত তার ছোটভাইকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে।

ডাবলিনের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ভিপুল ধূত (৩৫) নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত বছরের বিভিন্ন তারিখে অর্থ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার ভাইও জড়িত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

গারদা ন্যাশনাল ইকোনমিক ক্রাইম ব্যুরোর তদন্তের পর ওই দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় ওই দুই ভাই বেশ কয়েক বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বসবাস করছেন। গ্রেফতারের পর তাদের ডাবলিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জজ ব্রেইন ও’ শিয়ার আদালতে তাদের হাজির করা হয়।

গারদা ডিটেকটিভ ইউনিটের কর্মকর্তা রোনান ফারেলি আদালতে জানান, ভিপুল ধূতের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর তিনি কোনো প্রতিউত্তর করেননি। আসামিদের জামিন বাতিলের সুপারিশ করেন ফারেলি। তিনি আদালতে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা নমুনামাত্র। পুরো তদন্তে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ ইউরো চুরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে- ভিপুল ধূত নামের ওই ভারতীয় ব্যক্তি কোম্পানির কিছু খাতে কাল্পনিক খরচ দেখিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কোম্পানি নিয়মিত সেবা নেয় এমন একটি সার্ভিস প্রোভাইডারের নামে এসব অর্থ প্রদান দেখানো হয়েছে; কিন্তু বাস্তবে তাদের এত অর্থ দেয়া হয়নি।


তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, চলতি বছরের শুরুতে ভিপুল ধূত তার পাসপোর্ট তদন্ত সংস্থার কাছে জমা রেখেছিলেন; কিন্তু এরপর তিনি পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে চেষ্টা করেছেন। যদিও আসামি এ অভিযোগ স্বীকার করেননি।

আসামী পক্ষের আইনজীবী জামিন চাইলেও ভিপুল ধূতের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আর রাজেশ ধূতকে জামিন দেয়া হয়েছে দেশত্যাগ না করার শর্তে। তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতিদিন তদন্ত সংস্থার অফিসে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে এবং পাসপোর্ট আদালতের কাছে জমা দিতে হবে।

আত্মসাতের ঘটনা আয়ারল্যান্ডে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বি‌ভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠা‌নে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘ‌টে‌ছে। কিন্তু হিসাবরক্ষক দ্বারা বিপুল প‌রিমা‌ণের অর্থ আত্মসাতের প্রথম ঘটনা এ‌টি। এ ধরনের নৈ‌তিক পদস্খল‌নের কার‌ণে পেশার ভাবমূ‌র্তি‌ দারুণভা‌বে ক্ষুণ্ন হ‌য়ে‌ছে ব‌লে সং‌শ্লিষ্টরা মনে কর‌ছেন।

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভারতীয় হিসাবরক্ষক গ্রেফতার

 এসএ রব, আয়ারল্যান্ড থে‌কে 
১৪ আগস্ট ২০২১, ১২:২১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আয়ারল্যান্ডের কোম্পানির প্রায় ১২ লাখ ইউরো চুরি ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক ভারতীয় হিসাবরক্ষককে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। একই মামলায় অভিযুক্ত তার ছোটভাইকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে।

ডাবলিনের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ভিপুল ধূত (৩৫) নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত বছরের বিভিন্ন তারিখে অর্থ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার ভাইও জড়িত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

গারদা ন্যাশনাল ইকোনমিক ক্রাইম ব্যুরোর তদন্তের পর ওই দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় ওই দুই ভাই বেশ কয়েক বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বসবাস করছেন। গ্রেফতারের পর তাদের ডাবলিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জজ ব্রেইন ও’ শিয়ার আদালতে তাদের হাজির করা হয়।

গারদা ডিটেকটিভ ইউনিটের কর্মকর্তা রোনান ফারেলি আদালতে জানান, ভিপুল ধূতের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর তিনি কোনো প্রতিউত্তর করেননি। আসামিদের জামিন বাতিলের সুপারিশ করেন ফারেলি। তিনি আদালতে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা নমুনামাত্র। পুরো তদন্তে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ ইউরো চুরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে- ভিপুল ধূত নামের ওই ভারতীয় ব্যক্তি কোম্পানির কিছু খাতে কাল্পনিক খরচ দেখিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কোম্পানি নিয়মিত সেবা নেয় এমন একটি সার্ভিস প্রোভাইডারের নামে এসব অর্থ প্রদান দেখানো হয়েছে; কিন্তু বাস্তবে তাদের এত অর্থ দেয়া হয়নি।


তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, চলতি বছরের শুরুতে ভিপুল ধূত তার পাসপোর্ট তদন্ত সংস্থার কাছে জমা রেখেছিলেন; কিন্তু এরপর তিনি পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে চেষ্টা করেছেন। যদিও আসামি এ অভিযোগ স্বীকার করেননি।

আসামী পক্ষের আইনজীবী জামিন চাইলেও ভিপুল ধূতের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আর রাজেশ ধূতকে জামিন দেয়া হয়েছে দেশত্যাগ না করার শর্তে। তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতিদিন তদন্ত সংস্থার অফিসে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে এবং পাসপোর্ট আদালতের কাছে জমা দিতে হবে। 

আত্মসাতের ঘটনা আয়ারল্যান্ডে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বি‌ভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠা‌নে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘ‌টে‌ছে। কিন্তু হিসাবরক্ষক দ্বারা বিপুল প‌রিমা‌ণের অর্থ আত্মসাতের প্রথম ঘটনা এ‌টি। এ ধরনের নৈ‌তিক পদস্খল‌নের কার‌ণে পেশার ভাবমূ‌র্তি‌ দারুণভা‌বে ক্ষুণ্ন হ‌য়ে‌ছে ব‌লে সং‌শ্লিষ্টরা মনে কর‌ছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন