যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইয়েমেন ছারখার করছে- সৌদি আরব

সোকোত্রা দ্বীপে প্রধানমন্ত্রীসহ ১০ মন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করেছে আমিরাত

প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৮, ০৮:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ একটি দল কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই বাহিনীটি ইয়েমেনের ভেতরে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে রিয়াদকে সহায়তা করছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সহায়তা নিচ্ছে সৌদি আরব।

পরিচয় গোপন রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর দিয়েছে।

পত্রিকাটির বরাতে আলজাজিরা শনিবার জানায়, স্পেশাল ফোর্স ‘গ্রিন বেরেটস’-এর ১০-১২ জন সদস্য সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে রয়েছেন।
গত বছর ডিসেম্বরের দিকে তাদের সেখানে পাঠানো হয়। ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছাকাছি চলে আসার পর গ্রিন বেরেটস সদস্যরা সেখানে পৌঁছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ এ বাহিনীর সদস্যরা সীমান্ত নিরাপত্তায় সৌদি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও ইয়েমেনের ভেতরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষকদের সঙ্গে কাজ করছেন।

সম্প্রতি গ্রিন বেরেটসের অভিযান সম্পর্কিত নথিপত্র পত্রিকাটির কাছে হস্তান্তর করেছেন মার্কিন কর্মকর্তা ও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা। কিন্তু এতদিন জনসম্মুখে ইয়েমেনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে কিছুই জানায়নি মার্কিন প্রশাসন।

নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে যে নথিপত্রগুলো আছে,  সেগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অনুসারে, ইয়েমেনে মার্কিন সহায়তা কেবল সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমানগুলোয় জ্বালানি ভরে দেয়া, দিকনির্দেশনা দেয়া ও গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এদিকে ইয়েমেনের প্রত্যন্ত অঞ্চল সোকোত্রা দ্বীপের সমুদ্র ও বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী। সেখানে আমিরাতের চারটি সামরিক বাহন ও শতাধিক সৈন্য মোতায়েনের একদিন পর দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিল দেশটি।

শনিবার ইয়েমেনের সরকারি এক কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানান, সোকোত্রার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আমিরাতের সেনাবাহিনী ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ ওবাইদ বিন দাঘর ও আরও ১০ মন্ত্রীকে দ্বীপে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শুক্রবার ওই দ্বীপ ত্যাগ করতে দেয়া হয়নি তাদের।