তালেবানে দ্বন্দ্ব: কাবুল ছাড়লেন মোল্লা বারাদার!
jugantor
তালেবানে দ্বন্দ্ব: কাবুল ছাড়লেন মোল্লা বারাদার!

  অনলাইন ডেস্ক  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৫:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

তালেবান নেতা এবং আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরে তা অস্বীকার করা হয় গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে। এবার জানা গেল তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা বারাদার কাবুল ছেড়েছেন। এর কারণ হিসেবে সামনে এসেছে খলিল হাক্কানির সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব!

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এসব তথ্য জানায়।

তালেবানের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, সম্প্রতি নতুন সরকার গঠন নিয়ে গোষ্ঠীর নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। যার একপক্ষে ছিলেন মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার, অপরপক্ষে ছিলেন মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী এক মন্ত্রী। বেশ কিছু দিন ধরে বারাদার জনসম্মুখে আসছিলেন না। এর পর থেকেই মূলত মতবিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। যদিও তালেবান দ্বন্দ্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

গোষ্ঠীটির একটি সূত্র জানায়, বারাদার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা এবং শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল উর-রহমান হাক্কানির মধ্যে সম্প্রতি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় তাদের সমর্থকরাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

কাতারে তালেবানের আলোচক দলের এক সদস্য এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি গত সপ্তাহে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, তর্কের শুরু নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়ে বারাদারের অসন্তুষ্টি থেকে। তালেবানের বিজয়ের প্রকৃত দাবিদার কে তা নিয়েও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বারাদার মনে করেন, এ বিজয় এসেছে তার মতো কূটনীতিকদের কারণে। কিন্তু হাক্কানি গ্রুপের মতে, যুদ্ধের মাধ্যমেই এসেছে বিজয়।

বারাদারই প্রথম তালেবান নেতা, যিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে ২০২০ সালে আলাপ করেছেন। এর আগে তিনি তালেবানের পক্ষে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত দোহা চুক্তিতে সই করেন।

অপরদিকে প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানে আফগান বাহিনী এবং তার বিদেশি মিত্রদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটিকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয়। এ গোষ্ঠীর নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তালেবানের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বাকবিতণ্ডার পর কাবুল ছেড়ে কান্দাহারে চলে গেছেন মোল্লা বারাদার।

সোমবার বারাদার একটি অডিওবার্তায় বলেন, আমি একটি সফরে আছি। আমি এই মুহূর্তে যেখানেই থাকি না কেন, আমরা সবাই ভালো আছি।

যদিও বিবিসি এ অডিও রেকর্ডিংটি যাচাই করে দেখতে পারেনি।

একটি সূত্র জানায়, আশা করা হচ্ছে— মোল্লা বারাদার কাবুলে ফিরে আসবেন এবং এসব বিরোধের বিষয় নাকচ করে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেবেন।

দীর্ঘ ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটি থেকে বিদেশি সব সেনা প্রত্যাহারের পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।

তালেবানে দ্বন্দ্ব: কাবুল ছাড়লেন মোল্লা বারাদার!

 অনলাইন ডেস্ক 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তালেবান নেতা এবং আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরে তা অস্বীকার করা হয় গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে। এবার জানা গেল তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা বারাদার কাবুল ছেড়েছেন। এর কারণ হিসেবে সামনে এসেছে খলিল হাক্কানির সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব!

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এসব তথ্য জানায়।

তালেবানের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, সম্প্রতি নতুন সরকার গঠন নিয়ে গোষ্ঠীর নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। যার একপক্ষে ছিলেন মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার, অপরপক্ষে ছিলেন মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী এক মন্ত্রী। বেশ কিছু দিন ধরে বারাদার জনসম্মুখে আসছিলেন না। এর পর থেকেই মূলত মতবিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। যদিও তালেবান দ্বন্দ্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

গোষ্ঠীটির একটি সূত্র জানায়, বারাদার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা এবং শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল উর-রহমান হাক্কানির মধ্যে সম্প্রতি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় তাদের সমর্থকরাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

কাতারে তালেবানের আলোচক দলের এক সদস্য এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি গত সপ্তাহে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, তর্কের শুরু নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়ে বারাদারের অসন্তুষ্টি থেকে। তালেবানের বিজয়ের প্রকৃত দাবিদার কে তা নিয়েও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বারাদার মনে করেন, এ বিজয় এসেছে তার মতো কূটনীতিকদের কারণে। কিন্তু হাক্কানি গ্রুপের মতে, যুদ্ধের মাধ্যমেই এসেছে বিজয়।

বারাদারই প্রথম তালেবান নেতা, যিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে ২০২০ সালে আলাপ করেছেন। এর আগে তিনি তালেবানের পক্ষে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত দোহা চুক্তিতে সই করেন।

অপরদিকে প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানে আফগান বাহিনী এবং তার বিদেশি মিত্রদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটিকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয়। এ গোষ্ঠীর নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তালেবানের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বাকবিতণ্ডার পর কাবুল ছেড়ে কান্দাহারে চলে গেছেন মোল্লা বারাদার।

সোমবার বারাদার একটি অডিওবার্তায় বলেন, আমি একটি সফরে আছি। আমি এই মুহূর্তে যেখানেই থাকি না কেন, আমরা সবাই ভালো আছি।

যদিও বিবিসি এ অডিও রেকর্ডিংটি যাচাই করে দেখতে পারেনি।

একটি সূত্র জানায়, আশা করা হচ্ছে— মোল্লা বারাদার কাবুলে ফিরে আসবেন এবং এসব বিরোধের বিষয় নাকচ করে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেবেন।

দীর্ঘ ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।  দেশটি থেকে বিদেশি সব সেনা প্রত্যাহারের পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান