বাগরাম কারাগারে বন্দিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তালেবান সদস্যের
jugantor
বাগরাম কারাগারে বন্দিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তালেবান সদস্যের

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৩:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

তালেবান

অন্ধকার আর লম্বা করিডর ভীষণ সন্তর্পণে পর্যবেক্ষণ করছিলেন হাজীমুমিন হামজা। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল জীবনে প্রথমবার ওই জায়গা দেখছেন। ৩৬ বছর বয়সী দাড়িওয়ালা আফগানিস্তানের ঐহিত্যবাহী পোশাক পরা ওই মানুষটি তালেবান সহযোদ্ধাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আফগানিস্তানের গুয়ানতানামো বে খ্যাত বাগরাম কারাগারে। করিডরে একটা চেয়ারের দিকে তার চোখ আটকে যায়।

ওই চেয়ারে হাত-পা বেঁধে বন্দিদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো বলে জানান বাগরাম কারাগারের সাবেক এই বন্দি। মাঝে মাঝে ওই চেয়ারে বসিয়ে বন্দিদের মারধরও করা হতো বলে জানান তিনি। ২০১৭ থেকে বাগরামে বন্দি ছিলেন তিনি। ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখলের পর বাগরাম থেকে পালান তিনি।

পারওয়ান প্রদেশের বিখ্যাত বাগরাম বিমানঘাঁটিতেই এই কারাগারের অবস্থান। প্রথমে অস্থায়ীভাবে এই কারাগার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের আগ পর্যন্ত এখানেই আটকে রাখা হয়েছিল পাঁচ হাজারের বেশি বন্দিকে।

ওই কারাগারে নির্যাতনের বিভিন্ন ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন হামজা। ইলেকট্রিক শক ছাড়াও বন্দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হতো বলে জানান তিনি। ঘুমন্ত বন্দিদের উপরে প্রয়োগ করা হতো পানি আর টিয়ার গ্যাস। বন্দিকে মাসের পর মাস ধরে আটকে রাখা হতো নির্জন অন্ধকার, জানলাবিহীন সেলে। ওই সেলে দিনের বেলা কোনো আলোই প্রবেশ করত না। এমনকি জ্বালানো হতো না উজ্জ্বল কোনো আলো।

বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনও চালাতো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি বন্দিদের ওপর এমন যন্ত্র ব্যবহার করা হতো যে অনেকে পুরুষত্বহীনও হয়ে যেতেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এসব নির্যাতন সাধারণত আফগানরাই চালাতেন। তবে মাঝে মাঝে মার্কিনিরাও বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। যদিও নির্যাতনের আদেশ সব সময় মার্কিনিরাই দিতেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে তালেবানে যোগ দেন হামজা। তার দৃষ্টিতে মার্কিনিরা তাদের ভূমিতে অনুপ্রবেশ করেছে। মার্কিনিদের বিরুদ্ধে লড়াইকে একজন আফগান ও একজন মুসলিম হিসেবে নিজের কর্তব্য মনে করেন হামজা। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে পড়তেন হামজা। ক্লাস শেষে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিতেন তিনি।

২০১৭ সালে ধরা পড়ার পর প্রথমে কাবুলের সাফারিয়াদ কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। পড়ে আরও দুই বন্দিশালা ঘুরে শেষমেষ বাগরামে ঠাঁই হয় তার। তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

বাগরামের ৮৫ ভাগ বন্দিই তালেবানের সদস্য বলে জানিয়েছেন হামজা। বাকিরা আইএসসহ অন্যান্য সংগঠনের সদস্য ছিলেন।

বাগরাম কারাগারে বন্দিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তালেবান সদস্যের

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
তালেবান
ছবি : সংগৃহীত

অন্ধকার আর লম্বা করিডর ভীষণ সন্তর্পণে পর্যবেক্ষণ করছিলেন হাজীমুমিন হামজা। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল জীবনে প্রথমবার ওই জায়গা দেখছেন। ৩৬ বছর বয়সী দাড়িওয়ালা আফগানিস্তানের ঐহিত্যবাহী পোশাক পরা ওই মানুষটি তালেবান সহযোদ্ধাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আফগানিস্তানের গুয়ানতানামো বে খ্যাত বাগরাম কারাগারে। করিডরে একটা চেয়ারের দিকে তার চোখ আটকে যায়।

ওই চেয়ারে হাত-পা বেঁধে বন্দিদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো বলে জানান বাগরাম কারাগারের সাবেক এই বন্দি। মাঝে মাঝে ওই চেয়ারে বসিয়ে বন্দিদের মারধরও করা হতো বলে জানান তিনি। ২০১৭ থেকে বাগরামে বন্দি ছিলেন তিনি। ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখলের পর বাগরাম থেকে পালান তিনি। 

পারওয়ান প্রদেশের বিখ্যাত বাগরাম বিমানঘাঁটিতেই এই কারাগারের অবস্থান। প্রথমে অস্থায়ীভাবে এই কারাগার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু  ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের আগ পর্যন্ত এখানেই আটকে রাখা হয়েছিল পাঁচ হাজারের বেশি বন্দিকে।

ওই কারাগারে নির্যাতনের বিভিন্ন ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন হামজা। ইলেকট্রিক শক ছাড়াও বন্দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হতো বলে জানান তিনি। ঘুমন্ত বন্দিদের উপরে প্রয়োগ করা হতো পানি আর টিয়ার গ্যাস।  বন্দিকে মাসের পর মাস ধরে আটকে রাখা হতো নির্জন অন্ধকার, জানলাবিহীন সেলে। ওই সেলে দিনের বেলা কোনো আলোই প্রবেশ করত না। এমনকি জ্বালানো হতো না উজ্জ্বল কোনো আলো।

বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনও চালাতো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি বন্দিদের ওপর এমন যন্ত্র ব্যবহার করা হতো যে অনেকে পুরুষত্বহীনও হয়ে যেতেন।  তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এসব নির্যাতন সাধারণত আফগানরাই চালাতেন। তবে মাঝে মাঝে মার্কিনিরাও  বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। যদিও নির্যাতনের আদেশ সব সময় মার্কিনিরাই দিতেন।  

মাত্র ১৬ বছর বয়সে তালেবানে যোগ দেন হামজা। তার দৃষ্টিতে মার্কিনিরা তাদের ভূমিতে অনুপ্রবেশ করেছে।  মার্কিনিদের বিরুদ্ধে লড়াইকে একজন আফগান ও একজন মুসলিম হিসেবে নিজের কর্তব্য মনে করেন হামজা।  কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে পড়তেন হামজা। ক্লাস শেষে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিতেন তিনি।

২০১৭ সালে ধরা পড়ার পর প্রথমে কাবুলের সাফারিয়াদ কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। পড়ে আরও দুই বন্দিশালা ঘুরে শেষমেষ বাগরামে ঠাঁই হয় তার।  তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

বাগরামের ৮৫ ভাগ বন্দিই তালেবানের সদস্য বলে জানিয়েছেন হামজা। বাকিরা আইএসসহ অন্যান্য সংগঠনের সদস্য ছিলেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন