ভোট কারচুপি হবে মালয়েশিয়ায়

হারবেন মাহাথির জিতবেন নাজিব * ইতিহাসের সেরা লড়াই দেখবে মালয়বাসী * বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে ব্যবহার * প্রতিবার নতুন করে নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ

  যুগান্তর ডেস্ক ০৯ মে ২০১৮, ০৮:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়া
কুয়ালালামপুরে পোলিং স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করছেন ভোটাররা-এএফপি

মালয়েশিয়ায় সাধারণ জনগণের ভোট দেয়ার এ আনন্দ-উচ্ছ্বাস দিন শেষে জলে যায়। এটাই এখন মালয়েশিয়ার নতুন ভোট সংস্কৃতি।

ভোট কারচুপি-জালভোট : গত কয়েক দশক ধরেই মালয় নির্বাচনে নতুন ইতিহাস। সুতরাং এটা নিঃসন্দেহ যে, ফি বারের মতো এবারের নির্বাচনেও কারচুপি হবে।

কেননা নির্বাচনে কারচুপি করার যাবতীয় পথ খোলা রেখেছে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দল বরিসন ন্যাশনাল জোট।

সরকার ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ, প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের অপব্যবহার, দেশি-বিদেশি অভিজাত মহলের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি ও ভোট কেনাবেচা- এমন কোনো উপায় নেই এ নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে না।

মালয়েশিয়া নির্বাচনের মাস খানেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ভোট কারচুপির কথা বলা হয়েছে।

চীনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য ডিপলোম্যাটের ‘মালয়েশিয়া’স লং হিস্ট্রি অব রিগিং (১১ জানুয়ারি, ২০১৮), দ্য এশিয়ান টাইমসের ‘নাজিব রিম্যাপস অ্যানাদার রিগড ইলেকশন (৫ এপ্রিল, ২০১৮)’, দ্য ইকোনমিস্টের ‘হাউ মালয়েশিয়া’স নেক্সট ইলেকশন উইল বি রিগড (৮ মার্চ, ২০১৮) প্রতিবেদনগুলোতে কোনো রাখঢাক না রেখে একেবারে স্পষ্ট করেই ভোট কারচুপির কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় দৈনিক মালয় মেইল, মালয়েশিয়া টুডে, দ্য স্টার, নিউ সাবাহ টাইমস, দ্য বোর্নিও পোস্টের নির্বাচনী খবরেও বারবার এই আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে।

নির্বাচনের সময় ঘোষণার পর থেকে গত কয়েক মাসের জনমত জরিপ বিরোধীদলীয় জোট সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইবরাহিমের পাকাতান হারাপানকে এগিয়ে রেখেছে।

সেই তুলনায় বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন।

কিন্তু জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকলেও এক দিক দিয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এশিয়া টাইমস জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে গত ২৮ মার্চ নতুন করে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে নতুন ‘ইলেকটোরাল ম্যাপ’ তথা ‘নির্বাচনী এলাকার নতুন মানচিত্র’ পাস করে।

নতুন এই মানচিত্রের কারণে মালয়েশিয়ার ২২২টি নির্বাচনী আসনের অর্ধেক আসনের ফলাফলই প্রভাবিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এই পদক্ষেপ ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) চালিত বরিসন ন্যাশনাল জোটের পক্ষেই কাজ করবে।

দ্য ডিপলোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব-এশিয়ার বহু দেশেই নির্বাচন একটা প্রহসন ও অর্থহীন চর্চায় পরিণত হয়েছে।

নির্বাচনের আয়োজন থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই একই দল বারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাচ্ছে। মালয়েশিয়া তার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। দেশটির নির্বাচনের মান খুবই দুর্বল।

কারচুপি করে নির্বাচনে জেতার একটা দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে দেশটির। গত কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন বরিসন ন্যাশনাল জোটের কারচুপির কারণে এটা এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

যে যে প্রক্রিয়ায় দেশটিতে নির্বাচনে কারচুপি করা হয় তার মধ্যে রয়েছে- প্রথমত, প্রতিবার নির্বাচনের আগে নতুন করে নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ, দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে ব্যবহার, তৃতীয়ত, দেশি-বিদেশি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর সঙ্গে দেন-দরবার প্রভৃতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতায় টিকে থাকতে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে খ্যাত মাহাথির মোহাম্মদও বারবার কারচুপির চোরাপথ ব্যবহার করেছেন।

টানা ২২ বছর ক্ষমতায় টিকে ছিলেন তিনি। নাজিব রাজাককে নিজের উত্তরসূরি বানিয়ে ২০০৩ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি।

তবে জীবনের পড়ন্ত বেলায় ৯২ বছর বয়সে আবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন তিনি। আজকের নির্বাচনে বিরোধী পাকাতান হারাপান জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী তিনি।

দ্য ডিপলোম্যাট জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় গত কয়েক বছর ধরেই একপেশে নির্বাচন হয়ে আসছে। ১৩তম বারের জন্য ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসে বরিসান ন্যাশনাল।

এটার কারণ এমন নয় যে, দলটি মালয়েশিয়ায় বড় ধরনের উন্নয়ন বা সংস্কার সাধন করেছে। এর নেপথ্যের কারণ হচ্ছে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি।

মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত রাজনৈতিক গবেষক কাই অস্টওয়াল্ড ‘হাউ টু উইন এ লস্ট ইলেকশন’ নিবন্ধে বলেন, কারচুপির প্রধান পদ্ধতি হচ্ছে, নির্বাচনের আগে আগে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ। নির্দিষ্ট এলাকার ভোট ব্যাংক দলের পক্ষে টানতে বা বিরোধী দলের ভোট ব্যাংক নষ্ট করতে এটা করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : মালয়েশিয়ায় নির্বাচন

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter