মালয়েশিয়ায় নির্বাচন

লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি, ভোটারদের মন জয়ে ৩ প্রতিশ্রুতি

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে ০৯ মে ২০১৮, ১১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

মাহাথির

মালয়েশিয়ার ১৪তম জাতীয় নির্বাচনের ভোট চলছে। আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।

দেশটিতে ভোটারের সংখ্যা এক কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ৬২৭ জন। পোলিং সেন্টার রয়েছে আট হাজার ৮৯৮টি।

২২২টি সংসদীয় আসন ও ৫৮৭টি প্রাদেশিক আসনের ভোটগ্রহণ চলছে। দেশের সাধারণ জনগণ নির্বাচনী আচরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে শতস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন প্রতিটি কেন্দ্রে।

এ নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করে দেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী, আমনোর প্রধান ও বারিশন নাসিওনাল জোটের নেতা নাজিব রাজাক শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তরুণদের কর অব্যাহতি দেয়ার আশ্বাস।

নাজিব তার দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বিষয়ে বলেছেন, যদি তিনি পুনর্নির্বাচিত হন, তা হলে ২৬ বছর বা তার কম বয়সী সবার কর মওকুফ করে দেবেন।

ওই বয়সসীমার মধ্যে কাউকে আর আয়কর দিতে হবে না। এমনকি যারা আগে দিয়ে ফেলেছেন, তারা কর বাবদ দেয়া অর্থ ফেরত পাবেন।

এ ছাড়া রোজার মাসের শুরুর দুই দিন তিনি সরকারি ছুটি ঘোষণা করবেন।

এর পাশাপাশি ঈদ কেন্দ্র করে মহাসড়কের টোল ৫ দিনের জন্য রহিত করে দেয়ার বিধানও পাস করবেন তিনি।

ঈদের আগের দুই দিন, ঈদের দিন ও তার পরের দুই দিন টোল দিতে হবে না, যদি তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

শেষ মুহূর্তে নতুন তিনটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে চাওয়া নাজিব রাজাক বলেন, ‘এই প্রতিশ্রুতিগুলোই প্রমাণ করে মালয়েশিয়া কোনো দেউলিয়া বা ব্যর্থ রাষ্ট্র নয়। একটি দেউলিয়া বা ব্যর্থ রাষ্ট্রের পক্ষে এমন প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা সম্ভব নয়।’

মঙ্গলবার দেওয়া এ বক্তব্যের সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন, ‘মালয়েশিয়া একটি সফল রাষ্ট্র। মালয়েশিয়ার নাগরিকদের একটি সুখী মালয়েশিয়া উপহার দেয়াই আমার প্রত্যাশা।’

নাজিব রাজাক যে সময়ে এই ভাষণ দেন, সেই একই সময়ে মাহাথিরও ভাষণ দিয়েছেন। নাজিবের ভাষণ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও মাহাথির মোহাম্মদের ভাষণ প্রচারিত হয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

সাবেক নেতা ও সহকর্মী মাহাথির মোহাম্মদের সমালোচনা করে নাজিব রাজাক বলেন, ‘মাহাথির নিজেই নিজেকে একনায়ক বলেছেন। আর একনায়ক কখনও বদলায় না।

তিনি বলেন, মাহাথির তার সাবেক সহকর্মীদের ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। তেমনি তার সাবেক সহকর্মীরাও তাকে ক্ষমতার জন্য ব্যবহার করছে। তাদের ভণ্ডামি দেখলে দম বন্ধ হয়ে যায়।’

গত সপ্তাহে নাজিব আমনোর দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে বহিষ্কার করেছেন। তাদের বহিষ্কারের পর আরেকজনকে একই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে, যিনি বিরোধীদের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এরা সবাই মাহাথিরের এককালের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী।

এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নাজিব রাজাকের জনসমর্থন হারানোর কথা জানিয়েছে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা মেরদেকা সেন্টার। তাদের ভাষ্য, জনপ্রিয়তা হারালেও এখনও সরকার গঠনের সম্ভাবনার দৌড়ে টিকে আছে ক্ষমতাসীন বারিশন নাসিওনাল জোট।

আবার দেশটির প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব যেতে পারে ৯২ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদের হাতে।

মাহাথির মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা নেতা। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

আজকের নির্বাচনে তার লড়াই হবে ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতাসীন এককালের সহকর্মী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে। নাজিব খুব সহজেই এবারের নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

কিন্তু লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের’ প্রায় ৭০ কোটি ডলারের দুর্নীতি নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েন নাজিব।

এমনকি যে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ক্ষমতাসীন বারিশন নাসিওনাল জোটের সমর্থন বেশি বলে মনে করা হতো, সেসব স্থানেও নাজিব রাজাকের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভোটের জোর হিসেবে মালয় নৃগোষ্ঠীর টান রয়েছে মাহাথিরের দিকে।

নির্বাচনসংক্রান্ত প্রচার এগিয়ে ছিল মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা।

মাহাথির নিজে একসময় আমনোর প্রধান ছিলেন। এখন তিনি আমনোর জোট বারিশন নাসিওনালের বিরুদ্ধে থাকা পাকাতান হারাপান জোটের নেতা।

বারিশন নাসিওনালের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো পাকাতান হারাপান জোটের (অ্যালায়েন্স অফ হোপ) নেতা মাহাথির মোহাম্মদ অবস্থান শক্তিশালী করতে হাত মিলিয়েছেন তার এককালের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরবর্তী সময় বিরোধী রাজনীতিতে যোগ দেয়া আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে।

আনোয়ার ইব্রাহীমকে সমকামের দায়ে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ওই সময় ক্ষমতায় ছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ। মাহাথিরকে বিরোধীরা তাদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করলেও তা তরুণ ভোটারদের হতাশাগ্রস্ত করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে তাদের পর্যবেক্ষণ, মাহাথির মোহাম্মদ সুবিধা পাবেন মালয়দের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে। তাদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন মাহাথির। মালয়েশিয়ায় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মালয়রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।

মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দেশটির কৃষকরা নাজিব রাজাকের সরকারের কাছ থেকে বিপুল ভর্তুকি পেয়েছে এবং গ্রামীণ এলাকা হওয়ায় ওয়ানএমডিবি দুর্নীতি নিয়ে তাদের বিশেষ মাথাব্যথা নেই।

ফলে তাদের ভোটপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আশাবাদী হতে পারেন নাজিব রাজাক। তা ছাড়া বারিশন নাসিওনালকে সুবিধা এনে দিতে পারে সাম্প্রতিককালে নির্বাচনী আসনগুলোর পরিবর্তিত সীমানা।

নাজিবের নিজের দল আমনো জানিয়েছে, নির্বাচনে যদি তারা ১৩০টির কম আসন পায়, তা হলে নির্বাচন-পরবর্তীকালে নাজিবের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বর্তমানে ‘বারিশন নাসিওনাল’ জোটের ২২২টি আসন রয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে ‘হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ মালয়েশিয়ার’ আবেদন খারিজ করে দেয়া হলেও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, আজারবাইজান, কম্বোডিয়া, কিরগিজিস্তান ও তিমুর লেস্তে।

ঘটনাপ্রবাহ : মালয়েশিয়ায় নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugan[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter