যুক্তরাষ্ট্রের ইরান চুক্তি বাতিল

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সংকটের আশঙ্কা

প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৮, ১৩:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি ও জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোরতম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এতে ইউরোপে মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ভাঙন দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।-খবর গার্ডিয়ান অনলাইনের।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন- ২০১৫ সালে অন্যান্য বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে মিলে করা চুক্তি থেকে তারা বেরিয়ে এসেছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাদের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে জয়েন্ট কমপ্রেহেনশিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে এ চুক্তিটি সই হয়েছিল।

এতে ইরানের বিপরীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি ছিল।

চুক্তিতে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পায় ইরান। এতে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একযুগের অচলাবস্থার অবসান ঘটেছিল।

প্রায় দুই বছর নিবিড় আলোচনার পর ভিয়েনায় ওই চুক্তিটি সই হয়েছিল।

এটি ছিল দুপক্ষের দেনদরবারের বিষয়। নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে কঠোর বিধিনিষিধের মেনে নিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করেছিল দেশটি।

চুক্তির আওতায় ইরান তার দুই-তৃতীয়াংশ সেন্ট্রি-ফিউজের সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল। ৯৮ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে দিয়ে প্লুটোনিয়াম উৎপাদন চুল্লি কংক্রিট দিয়ে ভরে দেয়।

এমনকি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর পর্যবেক্ষণ মেনে নিয়েছিল তেহরান। দেশটি চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলছে কিনা তা যাচাই করতে ১০ বার পর্যবেক্ষণে গিয়েছিল সংস্থাটির পর্যবেক্ষকরা।

এসব কিছুর পর ইরানের ওপর থেকে ২০১৬ সালে জানুয়ারিতে পরমাণুসংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেহরানের ফের যোগাযোগ স্থাপিত হয়।