জর্ডানের বাদশাহর ১০ কোটি ডলারের গোপন সম্পদ
jugantor
জর্ডানের বাদশাহর ১০ কোটি ডলারের গোপন সম্পদ

  অনলাইন ডেস্ক  

০৪ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৩৯:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

উইকিলিকসের পর এবার চারদিকে হইচই ফেলে দেওয়া ‘প্যান্ডোরা পেপারস’ নামের ফাঁস হওয়া আর্থিক নথিতে দেখা গেছে— কীভাবে জর্ডানের বাদশাহ গোপনে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

প্যান্ডোরা পেপারস অনুসারে জর্ডানের বাদশাহর এ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি। খবর বিবিসির।

জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন ১৯৯৯ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের অফশোর কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ১৫টি বাড়ি কিনেছেন।

এর মধ্যে মালিবু, ক্যালিফোর্নিয়া, লন্ডন ও আস্কটে তিনটি মহাসাগর ভিউয়েও তার অন্তত ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সম্পত্তি রয়েছে। মালিবু শহর সেলিব্রিটিদের বিলাসবহুল বাড়ির জন্য বিখ্যাত। সেখানে সৈকতে চাকচিক্যময় হোটেলের মতো বাদশাহর ২৬ কক্ষের বাড়িটি সবার দৃষ্টি কাড়ে।

কয়েক বছর ধরে বাদশাহ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নানা কঠোর পদক্ষেপ ও কর বৃদ্ধির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট খারাপ হওয়ার শঙ্কায় ও নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহর আইনজীবীরা বলছেন, এসব সম্পত্তি পুরোটাই ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে কেনা হয়েছে। এমনকি বাদশাহ জর্ডানের নাগরিকদের জন্য প্রকল্পে অর্থায়ন করতেও ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করেন।

তারা বলেন, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিদের অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে সম্পত্তি কেনা এখন সাধারণ অভ্যাস।

তবে আইসিআইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ওই অর্থ দিয়ে বিপুল সম্পদ বানিয়েছেন বাদশাহ।

প্যান্ডোরা পেপারসে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ধনী ও প্রভাবশালীদের গোপন অর্থ লেনদেনের তথ্য ফাঁস হয়েছে। করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত পানামা, দুবাই, মোনাকো, সুইজারল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের মতো দেশ এবং অঞ্চলের কোম্পানিতে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যে অর্থ রেখেছেন ও গোপন লেনদেন করেছেন, সেসব তথ্য ফাঁস হয়েছে।

জর্ডানের বাদশাহ ছাড়াও এ তালিকায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বাবিসের মতো নেতাদের নাম এসেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যে ১৩০ জনেরও বেশি ধনকুবের রয়েছেন, সেই সঙ্গে সেলিব্রিটি, রক স্টার, খেলোয়াড় ও ব্যবসায়ী নেতাদেরও নাম রয়েছে।

জর্ডানের বাদশাহর ১০ কোটি ডলারের গোপন সম্পদ

 অনলাইন ডেস্ক 
০৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

উইকিলিকসের পর এবার চারদিকে হইচই ফেলে দেওয়া ‘প্যান্ডোরা পেপারস’ নামের ফাঁস হওয়া আর্থিক নথিতে দেখা গেছে— কীভাবে জর্ডানের বাদশাহ গোপনে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

প্যান্ডোরা পেপারস অনুসারে জর্ডানের বাদশাহর এ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি। খবর বিবিসির।

জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন ১৯৯৯ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের অফশোর কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ১৫টি বাড়ি কিনেছেন।

এর মধ্যে মালিবু, ক্যালিফোর্নিয়া, লন্ডন ও আস্কটে তিনটি মহাসাগর ভিউয়েও তার অন্তত ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সম্পত্তি রয়েছে। মালিবু শহর সেলিব্রিটিদের বিলাসবহুল বাড়ির জন্য বিখ্যাত। সেখানে সৈকতে চাকচিক্যময় হোটেলের মতো বাদশাহর ২৬ কক্ষের বাড়িটি সবার দৃষ্টি কাড়ে।

কয়েক বছর ধরে বাদশাহ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নানা কঠোর পদক্ষেপ ও কর বৃদ্ধির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট খারাপ হওয়ার শঙ্কায় ও নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহর আইনজীবীরা বলছেন, এসব সম্পত্তি পুরোটাই ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে কেনা হয়েছে। এমনকি বাদশাহ জর্ডানের নাগরিকদের জন্য প্রকল্পে অর্থায়ন করতেও ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করেন।

তারা বলেন, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিদের অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে সম্পত্তি কেনা এখন সাধারণ অভ্যাস।

তবে আইসিআইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ওই অর্থ দিয়ে বিপুল সম্পদ বানিয়েছেন বাদশাহ।

প্যান্ডোরা পেপারসে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ধনী ও প্রভাবশালীদের গোপন অর্থ লেনদেনের তথ্য ফাঁস হয়েছে। করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত পানামা, দুবাই, মোনাকো, সুইজারল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের মতো দেশ এবং অঞ্চলের কোম্পানিতে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যে অর্থ রেখেছেন ও গোপন লেনদেন করেছেন, সেসব তথ্য ফাঁস হয়েছে।

জর্ডানের বাদশাহ ছাড়াও এ তালিকায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বাবিসের মতো নেতাদের নাম এসেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যে ১৩০ জনেরও বেশি ধনকুবের রয়েছেন, সেই সঙ্গে সেলিব্রিটি, রক স্টার, খেলোয়াড় ও ব্যবসায়ী নেতাদেরও নাম রয়েছে।  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন