নজরদারি করতে ব্রিটেনে বাড়িও কিনতে চেয়েছিলেন আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট
jugantor
নজরদারি করতে ব্রিটেনে বাড়িও কিনতে চেয়েছিলেন আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৩৭:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম তার সাবেক স্ত্রীর বাড়ির পাশে ব্রিটেনের অন্যতম ব্যয়বহুল বাড়ি কেনার চেষ্টা করেছিলেন।

আল-মাকতুমের এজেন্ট ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিনিময়ের পার্কউড এস্টেট থেকে বাড়ি কিনতে চেয়েছিলেন।

তার সাবেক স্ত্রী হায়া বিনতে আল-হুসাইন বিচ্ছেদ নিয়ে তার আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে লন্ডনের উচ্চ আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন বলে মামলার রায় প্রকাশের পর জানা গেছে।

বার্কশায়ারে হায়ার ক্যাসলউডের বাড়ির কাছে বাড়ি কেনার সব সবকিছু ঠিকঠাকও করে ফেলেছিলেন আল-মাকতুম। হায়া বাড়িটি তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আল-মাকতুমের তরফ থেকে ওই চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০১৯ সালে হায়া ইংল্যান্ডে পালিয়ে আসার পর থেকেই আমিরাতের শাসক আল-মাকতুম তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন বলে বিচারক অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলান জানিয়েছেন।

আল-মাকতুন ওই বাড়ি কিনে হায়ার ওপর নজরদারি করতেন কিংবা তাদের দুই সন্তানকে অপহরণের চেষ্টা করতেন বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি।

আদালতে জমা দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে হায়া জানিয়েছেন, আমার মনে হতো আমার ওপর নজদারি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে হায়ার আইনজীবী জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে তারা প্রথমবারের মতো শেখের বাড়ি কেনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। তবে বিষয়টি শেখের আইনজীবীদের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি।
২০২০ সালের শেষের দিকে হায়া একটি বিশ্বস্ত সূত্রে শেখের বাড়ি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

এছাড়া ডিভোর্সের পর ইসরাইলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করে প্রিন্সেস হায়ার ফোনেও নজরদারি করেছিলেন বলে লন্ডনের আদালত জানিয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বিশ্বব্যাপী তার দেশকে বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর এক শীর্ষস্থানীয় গন্তব্যে পরিণত করার জন্য পরিচিত। ৭০ বছর বয়স্ক এই শাসক শত শত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক।

২০০৪ সালে জর্ডানের প্রয়াত বাদশা হুসাইনের মেয়ে ও জর্ডানের বর্তমান বাদশা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সৎ বোন প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসাইনকে বিয়ে করেন শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তাদের দুই সন্তান আল-জলিলা এবং জায়েদ। ২০১৮ সালে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ছেলেমেয়েদের নিয়ে জার্মানি হয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান।

গত বছর প্রিন্সেস হায়া তার স্বামী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের বিরুদ্ধে লন্ডনের আদালতে অপহরণ, জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে নেওয়া, নির্যাতন এবং ভীতিপ্রদর্শন করার মামলা করেন। ২০২০ সালের মার্চে লন্ডনের হাইকোর্ট রায় দেয়, শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম তার দুই কন্যাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক তাদের ব্রিটেন থেকে দুবাইতে নিয়ে গেছেন, এবং তার সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভীতিপ্রদর্শন করে চলেছেন।

হাইকোর্ট একটি ফ্যাক্টফাইন্ডিং জাজমেন্ট বা এফসিজে প্রকাশ করে - যাতে এসব অভিযোগের সত্যতা মেলে।

নজরদারি করতে ব্রিটেনে বাড়িও কিনতে চেয়েছিলেন আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট  শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম তার সাবেক স্ত্রীর বাড়ির পাশে ব্রিটেনের অন্যতম ব্যয়বহুল বাড়ি কেনার চেষ্টা করেছিলেন।  

আল-মাকতুমের এজেন্ট ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিনিময়ের পার্কউড এস্টেট থেকে বাড়ি কিনতে চেয়েছিলেন। 

তার সাবেক স্ত্রী হায়া বিনতে আল-হুসাইন বিচ্ছেদ নিয়ে তার আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে লন্ডনের উচ্চ আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন বলে মামলার রায় প্রকাশের পর জানা গেছে।

বার্কশায়ারে হায়ার ক্যাসলউডের বাড়ির কাছে বাড়ি কেনার সব সবকিছু ঠিকঠাকও করে ফেলেছিলেন আল-মাকতুম। হায়া বাড়িটি তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আল-মাকতুমের তরফ থেকে ওই চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

২০১৯ সালে হায়া ইংল্যান্ডে পালিয়ে আসার পর থেকেই আমিরাতের শাসক আল-মাকতুম তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন বলে বিচারক অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলান জানিয়েছেন।

আল-মাকতুন ওই বাড়ি কিনে হায়ার ওপর নজরদারি করতেন কিংবা তাদের দুই সন্তানকে অপহরণের চেষ্টা করতেন বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি। 

আদালতে জমা দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে হায়া জানিয়েছেন, আমার মনে হতো আমার ওপর নজদারি করা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে হায়ার আইনজীবী জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে তারা প্রথমবারের মতো শেখের বাড়ি কেনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। তবে বিষয়টি শেখের আইনজীবীদের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি। 
২০২০ সালের শেষের দিকে হায়া একটি বিশ্বস্ত সূত্রে শেখের বাড়ি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত হন। 

এছাড়া ডিভোর্সের পর ইসরাইলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করে প্রিন্সেস হায়ার ফোনেও নজরদারি করেছিলেন বলে লন্ডনের আদালত জানিয়েছে। 

শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বিশ্বব্যাপী তার দেশকে বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর এক শীর্ষস্থানীয় গন্তব্যে পরিণত করার জন্য পরিচিত। ৭০ বছর বয়স্ক এই শাসক শত শত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক।

২০০৪ সালে জর্ডানের প্রয়াত বাদশা হুসাইনের মেয়ে ও জর্ডানের বর্তমান বাদশা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সৎ বোন প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসাইনকে বিয়ে করেন শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তাদের দুই সন্তান আল-জলিলা এবং জায়েদ। ২০১৮ সালে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ছেলেমেয়েদের নিয়ে জার্মানি হয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান।

গত বছর প্রিন্সেস হায়া তার স্বামী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের বিরুদ্ধে লন্ডনের আদালতে অপহরণ, জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে নেওয়া, নির্যাতন এবং ভীতিপ্রদর্শন করার মামলা করেন। ২০২০ সালের মার্চে লন্ডনের হাইকোর্ট রায় দেয়, শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম তার দুই কন্যাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক তাদের ব্রিটেন থেকে দুবাইতে নিয়ে গেছেন, এবং তার সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভীতিপ্রদর্শন করে চলেছেন।

হাইকোর্ট একটি ফ্যাক্টফাইন্ডিং জাজমেন্ট বা এফসিজে প্রকাশ করে - যাতে এসব অভিযোগের সত্যতা মেলে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন