কাশ্মীরে গোলাগুলিতে ব্যবসায়ী-চিকিৎসকসহ নিহত ৪
jugantor
কাশ্মীরে গোলাগুলিতে ব্যবসায়ী-চিকিৎসকসহ নিহত ৪

  অনলাইন ডেস্ক  

১৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:২৭:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতশাসিত জন্ম-কাশ্মীরের শ্রীনগরের হায়দরপোরা এলাকায় সোমবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের পরিবারের দাবি— সংঘর্ষের সময় তাদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

সোমবার সন্ধ্যায় হায়দরপোরায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এ সময় ওই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমার জানান, সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গি হায়দার ও তার এক স্থানীয় সঙ্গী আমির মাগরে।

মাগরে বানিহালের বাসিন্দা। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।

বিজয় কুমার জানান, নিহত বাকি দুজনের নাম আলতাফ বাট ও মুদাসির গুল। তাদের মধ্যে আলতাফ ওই বাণিজ্যিক ভবনের মালিক। তারও ওই ভবনে একটি অফিস ছিল।

আর মুদাসির গুল দন্তচিকিৎসক ও ব্যবসায়ী। হায়দরপোরার ওই ভবনে তার একটি কম্পিউটার সেন্টার ছিল। বিজয় কুমারের দাবি, মুদাসির গুল জঙ্গিদের সহযোগী।

তিনিই হায়দর ও তার সঙ্গীকে আশ্রয় দিতে আলতাফের বাণিজ্যিক ভবনে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছিলেন। উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে জঙ্গিদের যাতায়াতের ব্যবস্থাও করতেন।

কিন্তু পুলিশের দাবি মানতে নারাজ আলতাফ বাট ও মুদাসির গুলের পরিবারের সদস্যরা। আলতাফের বড় মেয়ের গণমাধ্যমকে বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন— আমার বাবাকে নিয়ে সংঘর্ষের সময়ে তিনবার ওই বাড়িতে ঢুকেছিল বাহিনী। দুবার তাকে ফিরতে দেওয়া হয়। তৃতীয়বার তিনি নিহত হন।

আলতাফের পরিবারের দাবি, তাকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মুদাসির গুলের মা বলেন, ‘আমার ছেলে ডাক্তার। জঙ্গিদের সঙ্গে ওর যোগ ছিল না।’

তার বোনের বক্তব্য, ‘বেশিরভাগ সময়েই দিল্লিতে থাকত মুদাসির। সোমবারই জম্মু হয়ে এখানে আসেন তিনি। এ দুজনের মরদেহ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন আলতাফ ও মুদাসিরের পরিবারের সদস্যেরা।

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কাশ্মীরের রাজনীতিকরাও। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, নিরীহ নাগরিকদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পরে তাদের জঙ্গি সহযোগীর তকমা দেওয়া হচ্ছে।

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কাশ্মীরে গোলাগুলিতে ব্যবসায়ী-চিকিৎসকসহ নিহত ৪

 অনলাইন ডেস্ক 
১৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:২৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতশাসিত জন্ম-কাশ্মীরের শ্রীনগরের হায়দরপোরা এলাকায় সোমবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের পরিবারের দাবি— সংঘর্ষের সময় তাদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

সোমবার সন্ধ্যায় হায়দরপোরায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এ সময় ওই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমার জানান, সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গি হায়দার ও তার এক স্থানীয় সঙ্গী আমির মাগরে।

মাগরে বানিহালের বাসিন্দা। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।

বিজয় কুমার জানান, নিহত বাকি দুজনের নাম আলতাফ বাট ও মুদাসির গুল। তাদের মধ্যে আলতাফ ওই বাণিজ্যিক ভবনের মালিক। তারও ওই ভবনে একটি অফিস ছিল।

আর মুদাসির গুল দন্তচিকিৎসক ও ব্যবসায়ী। হায়দরপোরার ওই ভবনে তার একটি কম্পিউটার সেন্টার ছিল। বিজয় কুমারের দাবি, মুদাসির গুল জঙ্গিদের সহযোগী।

তিনিই হায়দর ও তার সঙ্গীকে আশ্রয় দিতে আলতাফের বাণিজ্যিক ভবনে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছিলেন। উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে জঙ্গিদের যাতায়াতের ব্যবস্থাও করতেন।

কিন্তু পুলিশের দাবি মানতে নারাজ আলতাফ বাট ও মুদাসির গুলের পরিবারের সদস্যরা। আলতাফের বড় মেয়ের গণমাধ্যমকে বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন— আমার বাবাকে নিয়ে সংঘর্ষের সময়ে তিনবার ওই বাড়িতে ঢুকেছিল বাহিনী। দুবার তাকে ফিরতে দেওয়া হয়। তৃতীয়বার তিনি নিহত হন।

আলতাফের পরিবারের দাবি, তাকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মুদাসির গুলের মা বলেন, ‘আমার ছেলে ডাক্তার। জঙ্গিদের সঙ্গে ওর যোগ ছিল না।’

তার বোনের বক্তব্য, ‘বেশিরভাগ সময়েই দিল্লিতে থাকত মুদাসির। সোমবারই জম্মু হয়ে এখানে আসেন তিনি।  এ দুজনের মরদেহ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন আলতাফ ও মুদাসিরের পরিবারের সদস্যেরা।

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কাশ্মীরের রাজনীতিকরাও। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, নিরীহ নাগরিকদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পরে তাদের জঙ্গি সহযোগীর তকমা দেওয়া হচ্ছে।

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : কাশ্মীর সংকট