নাজিবের দুর্নীতির তদন্ত শুরু

লিখিত অভিযোগ দাখিল দুর্নীতি দমন কমিশনের এক সাবেক কর্মকর্তার * দুদকের নতুন প্রধান নিয়োগ করবেন মাহাথির

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ মে ২০১৮, ০৮:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

রাজাক

মালয়েশিয়ায় সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। নাজিবের করা দুর্নীতির ব্যাপারে এক লিখিত অভিযোগের পর সোমবার তদন্ত শুরু হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সোমবার প্রথম অফিস করেন মাহাথির মোহাম্মদ।

প্রথমদিনের এক বৈঠকে সাবেক সরকারের সব দুর্নীতি তদন্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া রোববার থেকে কুয়ালালামপুরে এক অভিজাত এলাকায় একটি অ্যাপার্ট ব্লকে নাজিবের ব্যক্তিগত বিলাসবহুল বাসভবন ঘেরাও করে রেখেছে দেশটির পুলিশ।

এর আগের দিন নাজিব ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নাজিবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ওয়ানএমডিবি নামে একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্প থেকে কয়েকশ’ কোটি ডলার উধাও করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিকে এবারের নির্বাচনে নাজিবের জোটের ভরাডুবির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মাহাথির এসব অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব অর্থের বেশিরভাগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। সোমবার মাহাথির বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে নতুন প্রধান নিয়োগ করবেন তিনি। আগের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ, সব তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এএফপি জানায়, নাজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মালয়েশিয়া দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের (এমএসিসি) সাবেক এক কর্মকর্তা।

কমিশনের তদন্ত ও গোয়েন্দাবিষয়ক সাবেক পরিচালক আবদুল রাজাক ইদ্রিস সোমবার ওই অভিযোগ দাখিল করেন। নাজিবের বিরুদ্ধে তিনি দুটি অভিযোগ এনেছেন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিলাস পূরণের জন্য নিজের ক্ষমতা ও প্রধানমন্ত্রী পদের অপব্যবহার করেছেন নাজিব। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, নাজিব এমন সব সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা গোপন রাখা হয়েছে। অর্থাৎ অবৈধ উপায়ে বহু অজ্ঞাত সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

আবদুল রাজাক তার অভিযোগে বলেন, ‘আমি এ সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদি আমার আরও একটি রিপোর্ট দেয়ার প্রয়োজন পড়ে, তা-ও দেব।

সেটা করা হবে দণ্ডবিধির ২১৭ ও ২১৮ ধারায়। সেই অভিযোগ করা হবে পুলিশে। তিনি আরও বলেন, ‘কমিশন যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে, সেজন্য আমি আজই অভিযোগ দাখিল করলাম।’ এমএসিসি প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ পেশ করতে প্রবেশ করার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এ সময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, কেন তিনি এখন এ রিপোর্ট বা অভিযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। জবাবে আবদুল রাজাক দাবি করেন, আগে যদি আমি এই অভিযোগ বা রিপোর্ট পেশ করতাম, তাহলে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হতো না।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য ২০০৯ সালে ওয়ানএমডিবি তহবিল গঠন করা হয়। ওই তহবিলে কয়েকশ’ কোটি ডলার অর্থ ছিল।

এর মাধ্যমে রাজধানী কুয়ালালামপুরকে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার পাশাপাশি কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি গতিশীল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর বেশিরভাগ অর্থ লুট করে তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ওই তহবিল থেকে অন্তত ৪৫০ কোটি ডলার সরানো হয়েছে এবং এ অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পকর্ম থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট এমনকি বিলাসবহুল ইয়ট কেনা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : মালয়েশিয়ায় নির্বাচন

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter