সবুজ চোখের আফগান সেই ‘মোনালিসা’ এখন ইতালিতে
jugantor
সবুজ চোখের আফগান সেই ‘মোনালিসা’ এখন ইতালিতে

  অনলাইন ডেস্ক  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৪৩:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সাময়িকীর প্রচ্ছদে ১৯৮৫ সালে আলোকচিত্রী স্টিভ ম্যাককারির তোলা সবুজ চোখের এক আফগান মেয়ের ছবি প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়।

‘আফগান গার্ল’ নামে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠা শরবত গুলা নামে সেই মেয়েটির বিবর্ণ পোশাক ও ধুলোমাখা ক্লান্ত মুখে সবুজ চোখের মর্মভেদী দৃষ্টি ছবিটিকে পরিচিত করে তোলে। খবর রয়টার্সের।

বিপন্নতা, অসহায়ত্ব, উদ্বেগ—কী ছিল না ওই চোখ দুটিতে। জ্বলজ্বলে সবুজ চোখে যেন সারা দুনিয়ার মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলছিল ওই কিশোরী।

সেই শরবত গুলা এখন ইতালিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির দপ্তর জানিয়েছে।

আলোকচিত্রী স্টিভ ম্যাককারি ১৯৮৪ সালে পেশোয়ারের কাছাকাছি এক শরণার্থীশিবির থেকে শরবত গুলার ওই ছবি তুলেছিলেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর ১৯৮৫ সালের জুন সংখ্যার প্রচ্ছদে ওই ছবি ছাপা হয়। ওই সময় শরবত গুলার বয়স ছিল আনুমানিক ১২ বছর।

অনেক দিন পর ২০০২ সালে স্টিভ ম্যাককারি আবারও খুঁজে পান শরবত গুলাকে। শরবতের চোখের দৃষ্টি তখনো ছিল সেই আগের মতোই তীক্ষ্ণ। ‘আফগান যুদ্ধের মোনালিসা’ বলেও ডাকা হয়েছে শরবত গুলাকে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের মুখে মাত্র চার–পাঁচ বছর বয়সে আফগানিস্তান ছেড়ে প্রথম পাকিস্তানে পাড়ি জমান শরবত গুলা। পরে দেশ ফিরে সংসার শুরু করেন তিনি।

তবে তালেবানের প্রথম শাসনামলে আবারও দেশ ছাড়েন শরবত গুলা। আশ্রয় নেন পাকিস্তানে। নাম-পরিচয় পাল্টে দেশটিতে বসবাস করতে শুরু করেন তিনি।

তিন কন্যার জননী শরবত গুলা আবারও আলোচনায় আসেন ২০১৪ সালে। ওই সময় পাকিস্তানে মিথ্যা নাম-পরিচয়ে নাগরিকত্ব পেতে আবেদন করেন তিনি। তবে সবুজ চোখের জন্যই ধরা পড়ে যান তিনি।

ওই সময় ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। গ্রেফতারের পর ২০১৬ সালে শরবত গুলাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান। তখন থেকে তিনি আফগানিস্তানে বসবাস করছিলেন।

গত আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর এখন আবারও শরণার্থী জীবন বেছে নিতে হয়েছে শরবত গুলাকে।

গত সেপ্টেম্বরে কাবুল ছেড়ে ইতালির রোমে চলে গেছেন তিনি। যে পাঁচ হাজার আফগানকে উদ্ধারের পর ইতালিতে আশ্রয় দিয়েছে দেশটির সরকার, তাদের মধ্যে আছেন সেই আফগান ‘মোনালিসাও’।

সবুজ চোখের আফগান সেই ‘মোনালিসা’ এখন ইতালিতে

 অনলাইন ডেস্ক 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৪৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সাময়িকীর প্রচ্ছদে ১৯৮৫ সালে আলোকচিত্রী স্টিভ ম্যাককারির তোলা সবুজ চোখের এক আফগান মেয়ের ছবি প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়।

 ‘আফগান গার্ল’ নামে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠা শরবত গুলা নামে সেই মেয়েটির বিবর্ণ পোশাক ও ধুলোমাখা ক্লান্ত মুখে সবুজ চোখের মর্মভেদী দৃষ্টি ছবিটিকে পরিচিত করে তোলে। খবর রয়টার্সের।

বিপন্নতা, অসহায়ত্ব, উদ্বেগ—কী ছিল না ওই চোখ দুটিতে। জ্বলজ্বলে সবুজ চোখে যেন সারা দুনিয়ার মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলছিল ওই কিশোরী।

সেই শরবত গুলা এখন ইতালিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির দপ্তর জানিয়েছে।

আলোকচিত্রী স্টিভ ম্যাককারি ১৯৮৪ সালে পেশোয়ারের কাছাকাছি এক শরণার্থীশিবির থেকে শরবত গুলার ওই ছবি তুলেছিলেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর ১৯৮৫ সালের জুন সংখ্যার প্রচ্ছদে ওই ছবি ছাপা হয়। ওই সময় শরবত গুলার বয়স ছিল আনুমানিক ১২ বছর।

 অনেক দিন পর ২০০২ সালে স্টিভ ম্যাককারি আবারও খুঁজে পান শরবত গুলাকে। শরবতের চোখের দৃষ্টি তখনো ছিল সেই আগের মতোই তীক্ষ্ণ। ‘আফগান যুদ্ধের মোনালিসা’ বলেও ডাকা হয়েছে শরবত গুলাকে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের মুখে মাত্র চার–পাঁচ বছর বয়সে আফগানিস্তান ছেড়ে প্রথম পাকিস্তানে পাড়ি জমান শরবত গুলা। পরে দেশ ফিরে সংসার শুরু করেন তিনি।

তবে তালেবানের প্রথম শাসনামলে আবারও দেশ ছাড়েন শরবত গুলা। আশ্রয় নেন পাকিস্তানে। নাম-পরিচয় পাল্টে দেশটিতে বসবাস করতে শুরু করেন তিনি।

তিন কন্যার জননী শরবত গুলা আবারও আলোচনায় আসেন ২০১৪ সালে। ওই সময় পাকিস্তানে মিথ্যা নাম-পরিচয়ে নাগরিকত্ব পেতে আবেদন করেন তিনি। তবে সবুজ চোখের জন্যই ধরা পড়ে যান তিনি।

ওই সময় ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। গ্রেফতারের পর ২০১৬ সালে শরবত গুলাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান। তখন থেকে তিনি আফগানিস্তানে বসবাস করছিলেন।

গত আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর এখন আবারও শরণার্থী জীবন বেছে নিতে হয়েছে শরবত গুলাকে।

গত সেপ্টেম্বরে কাবুল ছেড়ে ইতালির রোমে চলে গেছেন তিনি। যে পাঁচ হাজার আফগানকে উদ্ধারের পর ইতালিতে আশ্রয় দিয়েছে দেশটির সরকার, তাদের মধ্যে আছেন সেই আফগান ‘মোনালিসাও’।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান