‘আমি ফার্স্ট ক্লাস, চাকরি দেবেন’
jugantor
‘আমি ফার্স্ট ক্লাস, চাকরি দেবেন’

  অনলাইন ডেস্ক  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫১:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

লন্ডনের ব্যাস্ত পাতাল ট্রেনস্টেশনের বাইরে একটি বোর্ড টানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এক যুবক।

২৪ বছর বয়সি যুবক হায়দার মালিকের হাতে ব্যাঙ্কিং ও ফিনান্সের ফার্স্ট ক্লাস ডিগ্রির সার্টিফিকেট। খবর ইয়াহু নিউজের।

‘প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি আছে আমার’— বোর্ডে এই বার্তা নিয়েই স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন হায়দার।

প্রথম প্রথম পথচারীদের সঙ্গে কথা বলতে সঙ্কোচ হলেও পরে তা এক প্রকার জেদ করেই কাটিয়ে ওঠেন হায়দার।

নিজে থেকেই এগিয়ে গিয়ে কথা বলতে শুরু করেন ব্যস্ত স্টেশনের বাইরে দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষজনের সঙ্গে। হায়দার দেখেন, এতে অনেক বেশি সাড়া মিলছে। কেউ কেউ নিজেদের ভিজিটিং কার্ড আর ফোন নম্বরও এগিয়ে দেন হায়দারের দিকে।

চাকরির বাজার কঠিন করে তুলেছে করোনা মহামারির প্রকোপ। সব রকম চেষ্টা শেষে এক রকম মরিয়া হয়েই গত ২ নভেম্বর লন্ডনের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ক্যানারি হোয়ার্ফের টিউব স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে পড়েন মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র, পাক বংশোদ্ভূত হায়দার মালিক।

সঙ্গে রাখেন একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে সাঁটা তার বায়োডাটার কিউআর কোড। অভিনব পন্থা অবলম্বনে সুফলও মিলেছে হাতেনাতে। ১৪ দিনের মাথায় অচেনা কোনও পথিকের সহযোগিতায় শেষমেশ ‘ট্রেজ়ারি অ্যানালিস্টের’ পদে যোগ দিয়েছেন তিনি।

তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে হায়দারের পাশে ‘দেবদূতের’ মতো এসে দাঁড়ান ইম্যানুয়েল নামে এক ব্যক্তি।

লিঙ্কড-ইনে হায়দরের ছবি পোস্ট করে তিনি আবেদন জানিয়েছিলেন, কারও হাতে চাকরি থাকলে তিনি যেন সত্বর হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয় ইম্যানুয়েলের সেই পোস্ট।

সেদিন সকাল ৭টার মধ্যেই স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। যখন ফোনটা বেজে ওঠে তখন ঘড়িতে বাজে সাড়ে ৯টা। ফোনটি এসেছিল একটি সংস্থা থেকে। ও প্রান্ত থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর বলেন— ট্রেজারি অ্যানালিস্টের চাকরি আছে, তবে ইন্টারভিউয়ের জন্য পৌঁছতে হবে এক ঘণ্টার মধ্যে। সঙ্গে গাড়ি ছিলই। সময় নষ্ট না করে দ্রুত রওনা হয়ে যান হায়দার।

পরের টানা তিন দিনও একাধিক চাকরির প্রস্তাব নিয়ে ফোন বেজেছে তার। তবে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ওই সংস্থাতেই ইন্টারভিউয়ের দ্বিতীয় ধাপ পেরিয়ে যান হায়দার। চাকরির চিঠি হাতে চলে আসে তার তাতে।

চাকরি পেয়েই সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি হায়দার। বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘অচেনা’ ইমানুয়েলকে।

হায়দার জানান, কিশোর বয়সে পাকিস্তান থেকে লন্ডনে এসেছিলেন তার বাবা। ট্যাক্সি চালাতেন তিনি। তবে এখন অবসর নিয়েছেন। বাবার কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে অভিনব ভাবে জীবনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

তবে সাফল্য যে এভাবে কড়া নাড়বে ভাবতে পারেননি তিনি। উচ্ছ্বসিত হায়দার সমাজমাধ্যমে নিজের দু’টো ছবি পোস্ট করেছেন, সঙ্গে লিখেছেন, ‘১৪ দিনে অনেক কিছু বদলে যায়!’

‘আমি ফার্স্ট ক্লাস, চাকরি দেবেন’

 অনলাইন ডেস্ক 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

লন্ডনের ব্যাস্ত পাতাল ট্রেনস্টেশনের বাইরে একটি বোর্ড টানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এক যুবক।

২৪ বছর বয়সি যুবক হায়দার মালিকের হাতে ব্যাঙ্কিং ও ফিনান্সের ফার্স্ট ক্লাস ডিগ্রির সার্টিফিকেট। খবর ইয়াহু নিউজের।

‘প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি আছে আমার’— বোর্ডে এই বার্তা নিয়েই স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন হায়দার।

প্রথম প্রথম পথচারীদের সঙ্গে কথা বলতে সঙ্কোচ হলেও পরে তা এক প্রকার জেদ করেই কাটিয়ে ওঠেন হায়দার।

নিজে থেকেই এগিয়ে গিয়ে কথা বলতে শুরু করেন ব্যস্ত স্টেশনের বাইরে দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষজনের সঙ্গে। হায়দার দেখেন, এতে অনেক বেশি সাড়া মিলছে। কেউ কেউ নিজেদের ভিজিটিং কার্ড আর ফোন নম্বরও এগিয়ে দেন হায়দারের দিকে।

চাকরির বাজার কঠিন করে তুলেছে করোনা মহামারির প্রকোপ। সব রকম চেষ্টা শেষে এক রকম মরিয়া হয়েই গত ২ নভেম্বর লন্ডনের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ক্যানারি হোয়ার্ফের টিউব স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে পড়েন মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র, পাক বংশোদ্ভূত হায়দার মালিক।

সঙ্গে রাখেন একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে সাঁটা তার বায়োডাটার কিউআর কোড। অভিনব পন্থা অবলম্বনে সুফলও মিলেছে হাতেনাতে। ১৪ দিনের মাথায় অচেনা কোনও পথিকের সহযোগিতায় শেষমেশ ‘ট্রেজ়ারি অ্যানালিস্টের’ পদে যোগ দিয়েছেন তিনি।

তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে হায়দারের পাশে ‘দেবদূতের’ মতো এসে দাঁড়ান ইম্যানুয়েল নামে এক ব্যক্তি।

লিঙ্কড-ইনে হায়দরের ছবি পোস্ট করে তিনি আবেদন জানিয়েছিলেন, কারও হাতে চাকরি থাকলে তিনি যেন সত্বর হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয় ইম্যানুয়েলের সেই পোস্ট।

সেদিন সকাল ৭টার মধ্যেই স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। যখন ফোনটা বেজে ওঠে তখন ঘড়িতে বাজে সাড়ে ৯টা। ফোনটি এসেছিল একটি সংস্থা থেকে। ও প্রান্ত থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর বলেন— ট্রেজারি অ্যানালিস্টের চাকরি আছে, তবে ইন্টারভিউয়ের জন্য পৌঁছতে হবে এক ঘণ্টার মধ্যে। সঙ্গে গাড়ি ছিলই। সময় নষ্ট না করে দ্রুত রওনা হয়ে যান হায়দার।

পরের টানা তিন দিনও একাধিক চাকরির প্রস্তাব নিয়ে ফোন বেজেছে তার। তবে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ওই সংস্থাতেই ইন্টারভিউয়ের দ্বিতীয় ধাপ পেরিয়ে যান হায়দার। চাকরির চিঠি হাতে চলে আসে তার তাতে।

চাকরি পেয়েই সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি হায়দার। বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘অচেনা’ ইমানুয়েলকে।

হায়দার জানান, কিশোর বয়সে পাকিস্তান থেকে লন্ডনে এসেছিলেন তার বাবা। ট্যাক্সি চালাতেন তিনি। তবে এখন অবসর নিয়েছেন। বাবার কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে অভিনব ভাবে জীবনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

তবে সাফল্য যে এভাবে কড়া নাড়বে ভাবতে পারেননি তিনি। উচ্ছ্বসিত হায়দার সমাজমাধ্যমে নিজের দু’টো ছবি পোস্ট করেছেন, সঙ্গে লিখেছেন, ‘১৪ দিনে অনেক কিছু বদলে যায়!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন