কাবুলে খোলা আকাশের নিচে এখনও হাজারো ক্ষুধার্ত মানুষ
jugantor
কাবুলে খোলা আকাশের নিচে এখনও হাজারো ক্ষুধার্ত মানুষ

  অনলাইন ডেস্ক  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:০৮:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যে ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। যদিও এর আগে বিভিন্ন প্রদেশে লড়াই করতে হয়েছে সশস্ত্র এ গোষ্ঠীকে। এ সময় বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বহু আফগান আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে রাজধানী কাবুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা এখনও সেখানেই খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। ক্ষুধা ও নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব আফগান যাপন করছেন মানবেতর জীবন।

আফগানিস্তানের শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। খবর টোলো নিউজের।

খবরে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ও গৃহহীন হাজার হাজার আফগান এখনও কাবুলে বাস করছেন। যাদের জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা দরকার।

কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে চার হাজার অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবারকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের নিজ নিজ প্রদেশে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহাম্মদ আরসালা খারোটি বলেন, শুধুমাত্র সহায়তা যথেষ্ট নয়। আফগানিস্তানের মানুষ নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। তাই তাদের সমস্যার দিকে পরিপূর্ণ নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি পরিপূর্ণভাবে পূরণ করা হয়নি এবং আফগানিস্তানে পৌঁছায়নি।

এদিকে কিছু অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বেশকিছু মানুষের দাবি, তাদের সমস্যার সমাধান করা হয়নি। এখন জরুরিভিত্তিতে তাদের আশ্রয় দরকার।

হেলমান্দ প্রদেশ থেকে পালিয়ে কাবুলে আশ্রয় নেওয়া ৫০ বছর বয়সি তাওস খান বলেন, আমার দুটি স্ত্রী ও ১৮ সন্তান রয়েছে। শীত প্রায় এসে গেছে। আমাদের ঘরে খাবার নেই। আমাদের বহু সমস্যা রয়েছে।

তাওস খানের প্রথম স্ত্রী শাহ বিবি বলেন, তার আট সন্তান রয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাদের পর্যাপ্ত খাবার নেই এবং সমস্যার কোনো সমাধানও হচ্ছে না। আমরা হেলমান্দ থেকে এসেছি। আমরা ক্ষুধার্ত। আমাদের কিছু নেই।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার ওপর নির্ভরতা থেকে বের হয়ে অর্থনৈতিক ধস ঠেকিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরাজ ফাকিরি নামের এক অর্থনীতিবিদ বলেন, কার্যকর সহায়তা অবশ্যই দিতে হবে। একই সঙ্গে সৃষ্টি করতে হবে কর্মসংস্থান। যেসব প্রদেশ থেকে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নিতে হবে।

১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর বেশ কিছুদিন পর সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি। যদিও নতুন সরকারকে এখনও কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে নানা ধরনের সংকটে থেকে বের হতে পারছে না আফগানিস্তান।

কাবুলে খোলা আকাশের নিচে এখনও হাজারো ক্ষুধার্ত মানুষ

 অনলাইন ডেস্ক 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যে ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। যদিও এর আগে বিভিন্ন প্রদেশে লড়াই করতে হয়েছে সশস্ত্র এ গোষ্ঠীকে। এ সময় বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বহু আফগান আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে রাজধানী কাবুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা এখনও সেখানেই খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। ক্ষুধা ও নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব আফগান যাপন করছেন মানবেতর জীবন।

আফগানিস্তানের শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। খবর টোলো নিউজের।

খবরে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ও গৃহহীন হাজার হাজার আফগান এখনও কাবুলে বাস করছেন। যাদের জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা দরকার।

কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে চার হাজার অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবারকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের নিজ নিজ প্রদেশে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহাম্মদ আরসালা খারোটি বলেন, শুধুমাত্র সহায়তা যথেষ্ট নয়। আফগানিস্তানের মানুষ নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। তাই তাদের সমস্যার দিকে পরিপূর্ণ নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি পরিপূর্ণভাবে পূরণ করা হয়নি এবং আফগানিস্তানে পৌঁছায়নি।

এদিকে কিছু অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বেশকিছু মানুষের দাবি, তাদের সমস্যার সমাধান করা হয়নি। এখন জরুরিভিত্তিতে তাদের আশ্রয় দরকার।

হেলমান্দ প্রদেশ থেকে পালিয়ে কাবুলে আশ্রয় নেওয়া ৫০ বছর বয়সি তাওস খান বলেন, আমার দুটি স্ত্রী ও ১৮ সন্তান রয়েছে। শীত প্রায় এসে গেছে। আমাদের ঘরে খাবার নেই। আমাদের বহু সমস্যা রয়েছে।

তাওস খানের প্রথম স্ত্রী শাহ বিবি বলেন, তার আট সন্তান রয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাদের পর্যাপ্ত খাবার নেই এবং সমস্যার কোনো সমাধানও হচ্ছে না। আমরা হেলমান্দ থেকে এসেছি। আমরা ক্ষুধার্ত। আমাদের কিছু নেই।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার ওপর নির্ভরতা থেকে বের হয়ে অর্থনৈতিক ধস ঠেকিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরাজ ফাকিরি নামের এক অর্থনীতিবিদ বলেন, কার্যকর সহায়তা অবশ্যই দিতে হবে। একই সঙ্গে সৃষ্টি করতে হবে কর্মসংস্থান। যেসব প্রদেশ থেকে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নিতে হবে।

১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর বেশ কিছুদিন পর সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।  যদিও নতুন সরকারকে এখনও কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে নানা ধরনের সংকটে থেকে বের হতে পারছে না আফগানিস্তান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান