মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে মাহাথির-আনোয়ার ‘আর্ট অব কম্প্রোমাইজ’

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে ১৯ মে ২০১৮, ১৩:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার রাজনীতির ইতিহাসে বহুল আলোচিত এক রাজনীতিবিদের নাম আনোয়ার ইব্রাহিম। এক সময় মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আনোয়ার ইব্রাহিম তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের সম্মুখীন হয়েছেন।

এই আনোয়ার ইব্রাহিম ইস্যুতেই মাহাথিরকে পশ্চিমা গণমাধ্যম সাফল্যের সঙ্গে চিত্রিত করতে পেরেছিল যে, মাহাথির আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজেকে আসীন করতে পারলেও তার উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি সংকটাপন্ন। তৃতীয় বিশ্বের গড়পড়তা কর্তৃত্বপরায়ণ শাসকের কাতারেই তার স্থান।

কিন্তু মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ নজির সৃষ্টি করেছেন মাহাথির। উন্নয়ন দর্শন ছাড়াও ভুল স্বীকার, ক্ষমা প্রদর্শন, আপসরফা এবং শত্রুকে মিত্র হিসেবে মেনে নেয়ার মতো কয়েকটি বিষয় মাহাথিরের কাছ থেকে শেখার আছে বিশ্ব নেতাদের।

তবে এতোদিন যারা বলে আসছিলেন, মাহাথির উন্নয়নের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সদাশয় স্বৈরাচার এবং বিরোধীদলীয় মতামত কম গ্রাহ্য করেছেন, এবারের অনন্য পর্বে তাকে সেই অভিধায় ফেলা যাবে না। শত্রুকে মিত্র হিসেবে মেনে নিয়ে যে অনন্য নজীর স্থাপন করেছে তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

দেশটির প্রভাবশালী কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনধিক দুই বছর তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। এরপর সম্ভবত আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে ক্ষমতা ছাড়বেন।

আসলে ‘সম্ভবত’ নয়, আনোয়ার ও তার স্ত্রীর (নবনিযুক্ত উপপ্রধানমন্ত্রী ওয়ান আজিজা) সঙ্গে তার পরিষ্কার সমঝোতার ফল হলো, তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে সক্ষম হওয়া।

এটাও এক পরিহাস যে, তিনি একদা তথাকথিত সমকামিতার অভিযোগে মিত্র থেকে শত্রুতে রূপান্তরিত হওয়া যে আনোয়ার ইব্রাহিমকে কারাগারে পুরেছিলেন, সেই আনোয়ারের আশীর্বাদ ও তার দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবেই মাহাথির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ইব্রাহিমের মর্যাদাপূর্ণ শর্তে মাহাথির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

মালয়েশিয়া তার রাজনীতির ইতিহাসের একটা অশ্রুতপূর্ব পালাবদল দেখছে। মূলত সাধারণ মানুষ ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলায় দন্ডিত ইব্রাহিমকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তিনি দন্ডিত, তাই নির্বাচনে অযোগ্য। মাহাথির অবশ্য নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ইব্রাহিমকেই দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন।

মাহাথিরের পরের পথপরিক্রমাটা কী হতে পারে, রাজনীতি পর্যবেক্ষকের মতে- মাহাথিরের পরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি থাকছেন ইব্রাহিমপত্মী। কোনো একটি উপনির্বাচনে জয়ী করে এনে আনোয়ারের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেবেন মাহাথির।

সাম্প্রতিক দেশটির রাজনীতিতে পট পরিবর্তনে পর্দার আড়ালের বাস্তবতা হলো, ইব্রাহিমই গেম চেঞ্জার। মাহাথির পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে শপথ নিয়েছেন। সাধারণ মানুষ তার ভুল স্বীকার করা, ঔদার্য ও মহত্তম উদাহরণ তৈরির জন্যই তাকে এভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।

একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মাহাথির ও ইব্রাহিমের এই বিরল সমঝোতা বা রিকনসিলিয়েশন সত্যিই এক বিস্ময়। গণতন্ত্রকে যে ‘আর্ট অব কম্প্রোমাইজ’ বলা হয়, মালয়েশিয়া তা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

সমঝোতার একটি নব্য ধ্রুপদি নজির স্থাপন করেছেন মাহাথির ও ইব্রাহিম। তারা প্রমাণ করেছেন, ‘সমঝোতা’ কোনো ফ্যান্টাসি নয়। বিদেশি শক্তির দয়াদাক্ষিণ্যের চেয়ে জনতায় ভরসা রাখাই শ্রেষ্ঠতম বিকল্প।

ঘটনাপ্রবাহ : মালয়েশিয়ায় নির্বাচন

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.