ব্রাজিলে রক্ষী ছাড়া কারাগার

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ১৫:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত রেনেটা ডি সিলভা কারাগারে সারাক্ষণ বই পড়ে ও কাজ করে সময় কাটান-গার্ডিয়ান

কারাবন্দিদের সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল। দেশটির কারাগারগুলোতে ৭ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি বন্দি রয়েছে।

অনেক কারাগারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। কারাগারগুলোকে কেন্দ্র করে নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে। গ্যাং লিডাররা মাদক কেনা-বেচা করে গোপনে।

এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত বছর এমন সংঘর্ষে ১২৫ জন নিহত হয়। এর মধ্যে মানায়ুস প্রদেশের একটি কারাগারেই দাঙ্গায় নিহত হয় ৫৬ জন।

বিবিসি জানায়, ব্রাজিলের এই শোচনীয় কারাগারগুলোর জায়গায় বিকল্প হিসেবে এমন একটি ব্যবস্থা সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে যেখানে নেই কোনো কারারক্ষী, নেই কোনো গ্যাং লিডারের অস্ত্রের ঝনঝনানি।

অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যাসিসট্যান্স টু কনভিক্টস (এপাক) নামের একটি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই কারাগার। নতুন এ কারাগারগুলোতে বন্দিদের জন্য থাকছে দরকারি সব সুযোগ-সুবিধা।

সম্প্রতি দেশটির মিনাস গিরেইস রাজ্যের ইতাউনা শহরে উদ্বোধন করা হয়েছে এমনই একটি কারাগার। পুরনো কারাগারগুলো থেকে বন্দিদের আনা হচ্ছে নতুন ও সম্ভাবনময় এ কারাগারে।

কারাগারে নতুন যারা এসেছেন তাদের অন্যতম হচ্ছেন ২৬ বছর বয়সী দুই সন্তানের মা তাতিয়ানা কোরেইয়া ডা লিমা।
১২ বছরের কারাদণ্ড খাটছেন তিনি। যেদিন প্রথম তাকে নতুন ধরনের কারাগারে আনা হয়, আয়নায় মুখ দেখে নিজেকেই যেন চিনতে পারছিলেন না তিনি।

লিমা বলেন, ‘আয়নায় নিজেকে দেখে একেবারেই অন্যরকম লাগছিল। প্রথমে আমি নিজেকে নিজেই চিনতে পারিনি যে, আমি আসলে কে।’

ব্রাজিলের পুরনো কারাগারগুলোতে নারীদের অবস্থা আরও শোচনীয়। তবে এপাকের নতুন কারাগারগুলোতে লিমার মতো বন্দিদের প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় পরতে দেয়া হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে একটি আয়না এমনকি মেকআপ ও চুল রং করার সুযোগও।

এ কারাগারগুলোর প্রধান যে আকর্ষণ সেটা হচ্ছে, এগুলোতে কোনো কারারক্ষী নেই। আরও নিরাপদ, আরও সুলভ ও মানবিক হওয়ার কারণে দেশটিতে এর চাওয়া ও স্বীকৃতি ক্রমেই বাড়ছে।