১৮৫ যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেল পাইলট মনিকার বুদ্ধিমত্তায়!
jugantor
১৮৫ যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেল পাইলট মনিকার বুদ্ধিমত্তায়!
ইঞ্জিনে আগুন লাগা বিমানটি ঠাণ্ডা মাথায় অবতরণ করান এই নারী

  অনলাইন ডেস্ক  

২১ জুন ২০২২, ১১:৪৪:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের পাটনা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল স্পাইসজেটের যাত্রীবাহী বিমানটি। টেক অফের কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয়দের নজরে পড়ে, বিমানের ডানায় আগুন।

সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে খবর দেওয়া হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম থেকে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয় বিমানচালকদের।

কিন্তু পাটনার বিমানবন্দর এমন জায়গায়, যার রানওয়ের একদিকে গাছের লম্বা সারি, অন্যদিকে রেললাইন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই পাটনার জয়প্রকাশ নারায়ণ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান অবতরণ করানো খুব সহজ নয়। তার ওপর এ রকম জরুরি অবস্থা।

বিমানের যাত্রী এবং কর্মীরা বেঁচে ফিরতে পারবেন তো? না কি মাঝ আকাশেই ইঞ্জিন থেকে পুরো বিমানে আগুন লেগে যাবে? চিন্তায় ছিলেন বিমানকর্মীরা।

এ নিয়ে প্রচণ্ড চিন্তায় ছিলেন সবাই। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন স্পাইসজেট বোয়িং ৭৩৭ বিমানের মহিলা পাইলট ক্যাপ্টেন মনিকা খন্না।

মনিকার সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন ডিজিসিএর কর্মকর্তাসহ বহু বিমান সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

তাদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ‘ওভারওয়েট ল্যান্ডিং’ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে মনিকা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।

মনিকা ২০১৮ সালে স্পাইসজেট বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। চার বছরে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তিনি।

কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনও হতে হয়নি তাকে। বিমানটি টেক অফের কিছু সময় পর ওই বিমানের ক্রু সদস্যরা মনিকাকে জানান, পাখির ডানার ঝাপটা লেগে বিমানের একটি ইঞ্জিন থেকে আগুনের ফুলকি বেরোচ্ছে।

বিমানের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝআকাশেই সবকটি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন মনিকা। তার পর ধীরে ধীরে বিমানটি রানওয়েতে নামিয়ে আনেন। এফও (ফার্স্ট অফিসার) বলপ্রীত সিংহ ভাটিয়ার অবদানও অনস্বীকার্য। অবতরণের সময় মনিকাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছিলেন তিনি।

১৮৫ যাত্রীকে নিরাপদে বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন তিনি। এ ঘটনার পর মনিকার অনুরাগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী পাইলট হিসাবে তিনি দেশবাসীর সামনে যে দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ইনস্টাগ্রামে তার অনুসরণকারীর সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি। দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন মনিকা।

নেপাল থেকে আর্মেনিয়া, মরিশাস—কর্মসূত্রে বহু জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি।

এখন অবশ্য কিছু দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে তাকে। তদন্ত শেষ হলেই আবার তিনি বিমান চালাতে পারবেন। তবে যে প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের পরিচয় তিনি দিয়েছেন, তা কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছে সবার কাছ থেকে।

১৮৫ যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেল পাইলট মনিকার বুদ্ধিমত্তায়!

ইঞ্জিনে আগুন লাগা বিমানটি ঠাণ্ডা মাথায় অবতরণ করান এই নারী
 অনলাইন ডেস্ক 
২১ জুন ২০২২, ১১:৪৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের পাটনা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল স্পাইসজেটের যাত্রীবাহী বিমানটি। টেক অফের কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয়দের নজরে পড়ে, বিমানের ডানায় আগুন।

সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে খবর দেওয়া হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম থেকে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয় বিমানচালকদের।

কিন্তু পাটনার বিমানবন্দর এমন জায়গায়, যার রানওয়ের একদিকে গাছের লম্বা সারি, অন্যদিকে রেললাইন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই পাটনার জয়প্রকাশ নারায়ণ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান অবতরণ করানো খুব সহজ নয়। তার ওপর এ রকম জরুরি অবস্থা।

বিমানের যাত্রী এবং কর্মীরা বেঁচে ফিরতে পারবেন তো? না কি মাঝ আকাশেই ইঞ্জিন থেকে পুরো বিমানে আগুন লেগে যাবে? চিন্তায় ছিলেন বিমানকর্মীরা।

এ নিয়ে প্রচণ্ড চিন্তায় ছিলেন সবাই। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন স্পাইসজেট বোয়িং ৭৩৭ বিমানের মহিলা পাইলট ক্যাপ্টেন মনিকা খন্না।

মনিকার সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন ডিজিসিএর কর্মকর্তাসহ বহু বিমান সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

তাদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ‘ওভারওয়েট ল্যান্ডিং’ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে মনিকা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।

মনিকা ২০১৮ সালে স্পাইসজেট বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। চার বছরে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তিনি।

কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনও হতে হয়নি তাকে। বিমানটি টেক অফের কিছু সময় পর ওই বিমানের ক্রু সদস্যরা মনিকাকে জানান, পাখির ডানার ঝাপটা লেগে বিমানের একটি ইঞ্জিন থেকে আগুনের ফুলকি বেরোচ্ছে।

বিমানের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝআকাশেই সবকটি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন মনিকা। তার পর ধীরে ধীরে বিমানটি রানওয়েতে নামিয়ে আনেন। এফও (ফার্স্ট অফিসার) বলপ্রীত সিংহ ভাটিয়ার অবদানও অনস্বীকার্য। অবতরণের সময় মনিকাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছিলেন তিনি।

১৮৫ যাত্রীকে নিরাপদে বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন তিনি। এ ঘটনার পর মনিকার অনুরাগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী পাইলট হিসাবে তিনি দেশবাসীর সামনে যে দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ইনস্টাগ্রামে তার অনুসরণকারীর সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি। দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন মনিকা।

নেপাল থেকে আর্মেনিয়া, মরিশাস—কর্মসূত্রে বহু জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি।

এখন অবশ্য কিছু দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে তাকে। তদন্ত শেষ হলেই আবার তিনি বিমান চালাতে পারবেন। তবে যে প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের পরিচয় তিনি দিয়েছেন, তা কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছে সবার কাছ থেকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন