২০২৪ সালের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ট্রাম্পকে হারাতে পারেন মাইক পেন্স!
jugantor
২০২৪ সালের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ট্রাম্পকে হারাতে পারেন মাইক পেন্স!

  কৌশলী ইমা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে  

২৮ জুন ২০২২, ০০:০৮:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স? অথবা অন্য কেউ? ট্রাম্প বা মাইক পেন্স কেউই ২০২৪ সালে হোয়াইট হাউসের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা এখনো ঘোষণা করেননি। তবে উভয়েরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সমীক্ষার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে পেন্স ট্রাম্পের বিরুদ্ধে খুব একটা ভালো করতে পারবেন না।

গত ১৬ জুন বৃহস্পতিবার হাউস কমিটি ৬ জানুয়ারি ২০২১-এ ইউএস ক্যাপিটলে দাঙ্গার তদন্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে ট্রাম্প যে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যায়িত না করায় পেন্সকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাসহ বিভিন্ন অভিযোগের উপর আলোকপাত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্পের কথিত পদক্ষেপগুলো দাঙ্গার অন্যতম প্রধান সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যে সময়ে পেন্সের জীবনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাচনী বিজয়ের সার্টিফিকেশনে হস্তক্ষেপ না করার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কারণে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে পেন্স এবং ট্রাম্পের মধ্যে টানাপোড়েন সম্পর্ক রয়েছে।

২০২১ সালের গ্রীষ্মে পেন্স এক রিপাবলিকান নৈশভোজে ৬ জানুয়ারিকে ‘একটি অন্ধকার দিন’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, তাকে এবং ট্রাম্পকে আর কখনো কোনো ইভেন্টে ‘চোখাচোখি’ দেখা যাবে না। এদিকে ট্রাম্প গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি নির্বাচনী জালিয়াতির দাবিকে পেন্স সমর্থন না করায় ‘খুব হতাশ’ হয়েছেন।

ট্রাম্প আমেরিকান রাজনীতিতে এক বিভাজনকারী ব্যক্তিত্ব। তারপরও বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, পেন্সের চেয়ে তিনি যথেষ্ট এগিয়ে আছেন। গত ১৮-১৯ মে অনুষ্ঠিত হার্ভার্ড সিএপিএস/হ্যারিস জরিপে নিবন্ধিত রিপাবলিকান/স্বতন্ত্র ভোটারদের ৪১ শতাংশ বলেছেন, ২০২৪ সালের জিওপি প্রাইমারি ‘আজ অনুষ্ঠিত হলে’ তারা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। মাত্র ৭ শতাংশ বলেছেন যে তারা পেন্সকে সমর্থন করবেন।

এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে হার্ভার্ড সিএপিএস/হ্যারিস জরিপে, একটি অনুমানমূলক জিওপি প্রাইমারিতেও ট্রাম্প বিজয়ী হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট সেই জরিপে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রাইমারি ভোটারদের কাছ থেকে ৫৭ শতাংশ সমর্থন পান, যেখানে পেন্সকে ১১ শতাংশ সমর্থন করেন।

এই ফলাফল একই মাসের শুরুতে রয়টার্স/ইপসোস জরিপের ফলাফলের সাথে প্রায় মিলে যায়। রয়টার্স/ইপসোস জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্প অনুমানমূলক প্রাইমারি ভোটারদের ৫৪ শতাংশ এবং পেন্স ৮ শতাংশের সমর্থন পান।

পেন্স এ পর্যন্ত ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা তা বলেননি। তবে তিনি সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, যদি প্রেন্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমি তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হব না। লোকেরা মাইক পেন্সকে নিয়ে খুবই হতাশ। যদি তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে আমি মনে করি না যে এটি একটি সমস্যা হবে।

পেন্স যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিসের কাছ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারেন। যদিও ডিসান্টিসও এখন পর্যন্ত তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। তবে তিনি টেক বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কসহ অনেক ভোটারের মধ্যে জনপ্রিয় পছন্দ বলে মনে করা হয়। ইলন মাস্ক ইতিমধ্যে ডিসান্টিসের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

গত মে মাসে হার্ভার্ড সিএপিএস/হ্যারিস জরিপে পেন্স ও ট্রাম্পসহ জিওপি প্রার্থীদের একটি অনুমানমূলক প্রাইমারিতে ডিস্যান্টিস ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ট্রাম্প প্রার্থী না হলে সম্ভাব্য জিওপি প্রাইমারি ভোটাররা কাকে সমর্থন করবেন, এর জবাবে ২৫ শতাংশ ডিস্যান্টিসকে এবং ১৫ শতাংশ পেন্সকে সমর্থন করেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জিওপি প্রাইমারিতে পেন্সই ট্রাম্পকে হারাতে পারেন।

২০২৪ সালের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ট্রাম্পকে হারাতে পারেন মাইক পেন্স!

 কৌশলী ইমা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে 
২৮ জুন ২০২২, ১২:০৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স? অথবা অন্য কেউ? ট্রাম্প বা মাইক পেন্স কেউই ২০২৪ সালে হোয়াইট হাউসের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা এখনো ঘোষণা করেননি। তবে উভয়েরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সমীক্ষার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে পেন্স ট্রাম্পের বিরুদ্ধে খুব একটা ভালো করতে পারবেন না।

গত ১৬ জুন বৃহস্পতিবার হাউস কমিটি ৬ জানুয়ারি ২০২১-এ ইউএস ক্যাপিটলে দাঙ্গার তদন্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে ট্রাম্প যে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যায়িত না করায় পেন্সকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাসহ বিভিন্ন অভিযোগের উপর আলোকপাত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্পের কথিত পদক্ষেপগুলো দাঙ্গার অন্যতম প্রধান সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যে সময়ে পেন্সের জীবনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাচনী বিজয়ের সার্টিফিকেশনে হস্তক্ষেপ না করার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কারণে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে পেন্স এবং ট্রাম্পের মধ্যে টানাপোড়েন সম্পর্ক রয়েছে।

২০২১ সালের গ্রীষ্মে পেন্স এক রিপাবলিকান নৈশভোজে ৬ জানুয়ারিকে ‘একটি অন্ধকার দিন’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, তাকে এবং ট্রাম্পকে আর কখনো কোনো ইভেন্টে ‘চোখাচোখি’ দেখা যাবে না। এদিকে ট্রাম্প গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি নির্বাচনী জালিয়াতির দাবিকে পেন্স সমর্থন না করায় ‘খুব হতাশ’ হয়েছেন।

ট্রাম্প আমেরিকান রাজনীতিতে এক বিভাজনকারী ব্যক্তিত্ব। তারপরও বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, পেন্সের চেয়ে তিনি যথেষ্ট এগিয়ে আছেন। গত ১৮-১৯ মে অনুষ্ঠিত হার্ভার্ড সিএপিএস/হ্যারিস জরিপে নিবন্ধিত রিপাবলিকান/স্বতন্ত্র ভোটারদের ৪১ শতাংশ বলেছেন, ২০২৪ সালের জিওপি প্রাইমারি ‘আজ অনুষ্ঠিত হলে’ তারা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। মাত্র ৭ শতাংশ বলেছেন যে তারা পেন্সকে সমর্থন করবেন।

এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে হার্ভার্ড সিএপিএস/হ্যারিস জরিপে, একটি অনুমানমূলক জিওপি প্রাইমারিতেও ট্রাম্প বিজয়ী হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট সেই জরিপে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রাইমারি ভোটারদের কাছ থেকে ৫৭ শতাংশ সমর্থন পান, যেখানে পেন্সকে ১১ শতাংশ সমর্থন করেন।

এই ফলাফল একই মাসের শুরুতে রয়টার্স/ইপসোস জরিপের ফলাফলের সাথে প্রায় মিলে যায়। রয়টার্স/ইপসোস জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্প অনুমানমূলক প্রাইমারি ভোটারদের ৫৪ শতাংশ এবং পেন্স ৮ শতাংশের সমর্থন পান।

পেন্স এ পর্যন্ত ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা তা বলেননি। তবে তিনি সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, যদি প্রেন্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমি তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হব না। লোকেরা মাইক পেন্সকে নিয়ে খুবই হতাশ। যদি তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে আমি মনে করি না যে এটি একটি সমস্যা হবে।

পেন্স যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিসের কাছ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারেন। যদিও ডিসান্টিসও এখন পর্যন্ত তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। তবে তিনি টেক বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কসহ অনেক ভোটারের মধ্যে জনপ্রিয় পছন্দ বলে মনে করা হয়। ইলন মাস্ক ইতিমধ্যে ডিসান্টিসের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

গত মে মাসে হার্ভার্ড সিএপিএস/হ্যারিস জরিপে পেন্স ও ট্রাম্পসহ জিওপি প্রার্থীদের একটি অনুমানমূলক প্রাইমারিতে ডিস্যান্টিস ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ট্রাম্প প্রার্থী না হলে সম্ভাব্য জিওপি প্রাইমারি ভোটাররা কাকে সমর্থন করবেন, এর জবাবে ২৫ শতাংশ ডিস্যান্টিসকে এবং ১৫ শতাংশ পেন্সকে সমর্থন করেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জিওপি প্রাইমারিতে পেন্সই ট্রাম্পকে হারাতে পারেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন