ট্রাম্পের সামনে হাঁটু গেড়ে মিনতি করেন কিম: আইনজীবীর দাবি

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৮, ১৪:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: এএফপি

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলন বাতিলের পর কিম জং উন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে হাঁটু গেড়ে ‘কাতর অনুরোধ’ করেছিলেন।

কিমের মিনতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি গুলিয়ানি। ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিয়ংইয়ং হাতজোড় করতে বাধ্য হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ইসরাইলে অনুষ্ঠিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় গুলিয়ানি এসব কথা বলেছেন। খবর বিবিসির।

গুলিয়ানি বলেন, ‘কিম জং উন করজোড়ে হাঁটু গেড়ে বৈঠকের জন্য অনুনয় করেছেন, এটাই সেই অবস্থান, যেখানে তাকে (কিম) দেখতে চান আপনি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ও মস্কোর সঙ্গে রিপাবলিকান শিবিরের যোগসাজশ নিয়ে চলা তদন্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন গুলিয়ানি। তার এ মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি উত্তর কোরিয়া।

এপ্রিলের শেষে দুই কোরিয়ার শীর্ষ সম্মেলনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কিম জং উনের বৈঠকের সম্ভাবনা দানা বাঁধতে থাকে। সপ্তাহদেড়েক পর ১০ মে ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিমের সঙ্গে ১২ জুন সিঙ্গাপুরে বসছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে ‘লিবিয়া মডেল’ অনুসরণ করা হতে পারে এমনটা বলার পর দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ সম্মেলন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বোল্টনের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানালে পরে ট্রাম্প জানান, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেত্রে ‘লিবিয়া মডেল’ অনুসরণের কথা ভাবছেন না তারা।

পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও বোল্টনের কথায় সুর মেলালে উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক বাতিলের হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতিতে পিয়ংইয়ংয়ের ‘ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও প্রকাশ্য শত্র“তা’কে দায় দিয়ে ২৪ মে প্রস্তাবিত বৈঠকটি বাতিল ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের পরও উত্তর কোরিয়া বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ দেখালে শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অন্যতম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিম ইয়ং-চোল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন।

তিনি কিমের চিঠি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। দু’জনের বৈঠক শেষে ট্রাম্প আগের নির্ধারিত ১২ জুনেই উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে তার বৈঠক হবে বলে নিশ্চিত করেন।