চীনে আকাশ ছোঁয়া ডিমের দামের নেপথ্যে…
jugantor
চীনে আকাশ ছোঁয়া ডিমের দামের নেপথ্যে…

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৫৮:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

চীনে আকাশ ছোঁয়া ডিমের দামের নেপথ্যে…

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে চীনের বিশাল অংশে দেখা দিয়েছে তীব্র খরা। আর খরার কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাসের পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দাম। বার্তা সংস্থা এএফপি শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, পূর্ব চীনে প্রচণ্ড তাপমাত্রার কারণে ডিমের দাম বেড়ে গেছে। কারণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরমে মুরগি কম পাড়ে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া আরও ঘন ঘন চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত আরও তীব্র হবে, যা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি এবং সমাজকে প্রভাবিত করবে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

চীনের একাধিক প্রধান শহর এই বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন রেকর্ড করেছে। দেশটিতে সোমবার তীব্র দাবদাহের কারণে জারি করা হয় রেড অ্যালার্ট।

তাপপ্রবাহ শুধু মানুষ নয়, প্রাণীদেরও চাপের মধ্যে ফেলেছে।

চীনের হেফেই শহরের খামারিরা গরমের কারণে মুরগির ডিম পাড়ার হার কমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কোনো কোনো খামারি খামারে কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা শুরু করেছে।

আর মুরগি ডিম কম পাড়ার কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ডিমের দাম।

এদিকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলে গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দীর্ঘতম সময় রেকর্ড করা হয়েছে বলে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তীব্র দাবদাহের কারণে পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম ইয়াংসিসহ কয়েকটি নদীর পানি শুকিয়ে গেছে।

ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে শুধুমাত্র জাহাজ চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়নি; নিমজ্জিত ইয়াংসি নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে একটি ডুবে যাওয়া দ্বীপ ও তিনটি বৌদ্ধ মূর্তি বের হয়ে এসেছে

এশিয়ার বৃহত্তম নদী ইয়াংসি চীনের প্রায় চারশ’ মিলিয়ন মানুষের খাওয়ার পানির উৎস। এর অববাহিকা উপকূলীয় সাংহাই থেকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে সিচুয়ান প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং বেশ কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্র এই নদীকে ঘিরে স্থাপিত হয়েছে।

তবে তীব্র খরার দাপটে রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গেছে এশিয়ার এই দীর্ঘতম নদীর পানির স্তর। চীনের কিছু অংশে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। জলবিদ্যুতের জলাধার কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। রেকর্ড ২ মাস ধরে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে দেশটিতে। সঙ্গত কারণেই ঘাটতি দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহে। প্রকৃতির দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে তাই কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর ব্যবস্থা নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

তবে শুধু এশিয়াই নয়, কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে ইউরোপ। তীব্র খরার কারণে প্রায় একশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে ইউরোপের অন্যতম দীর্ঘ দানিয়ুব নদীর পানি। দানিয়ুব নদীর পানি কমে যাওয়ায় সার্বিয়ার নদী বন্দর শহর প্রাহোভোর কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া বিস্ফোরক বোঝাই জার্মান যুদ্ধজাহাজ বের হয়ে এসেছে।

চীনে আকাশ ছোঁয়া ডিমের দামের নেপথ্যে…

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চীনে আকাশ ছোঁয়া ডিমের দামের নেপথ্যে…
প্রতীকী ছবি

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে চীনের বিশাল অংশে দেখা দিয়েছে তীব্র খরা। আর খরার কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাসের পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দাম। বার্তা সংস্থা এএফপি শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, পূর্ব চীনে প্রচণ্ড তাপমাত্রার কারণে ডিমের দাম বেড়ে গেছে। কারণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরমে মুরগি কম পাড়ে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া আরও ঘন ঘন চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত আরও তীব্র হবে, যা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি এবং সমাজকে প্রভাবিত করবে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। 

চীনের একাধিক প্রধান শহর এই বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন রেকর্ড করেছে।  দেশটিতে সোমবার তীব্র দাবদাহের কারণে জারি করা হয় রেড অ্যালার্ট। 

তাপপ্রবাহ শুধু মানুষ নয়, প্রাণীদেরও চাপের মধ্যে ফেলেছে। 

চীনের হেফেই শহরের খামারিরা গরমের কারণে মুরগির ডিম পাড়ার হার কমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কোনো কোনো খামারি খামারে কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা শুরু করেছে।

আর মুরগি ডিম কম পাড়ার কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ডিমের দাম। 

এদিকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলে গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দীর্ঘতম সময় রেকর্ড করা হয়েছে বলে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।  তীব্র দাবদাহের কারণে পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম ইয়াংসিসহ কয়েকটি নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। 

ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে শুধুমাত্র জাহাজ চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়নি; নিমজ্জিত ইয়াংসি নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে একটি ডুবে যাওয়া দ্বীপ ও তিনটি বৌদ্ধ মূর্তি বের হয়ে এসেছে

এশিয়ার বৃহত্তম নদী ইয়াংসি চীনের প্রায় চারশ’ মিলিয়ন মানুষের খাওয়ার পানির উৎস। এর অববাহিকা উপকূলীয় সাংহাই থেকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে সিচুয়ান প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং বেশ কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্র এই নদীকে ঘিরে স্থাপিত হয়েছে। 

তবে তীব্র খরার দাপটে রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গেছে এশিয়ার এই দীর্ঘতম নদীর পানির স্তর। চীনের কিছু অংশে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। জলবিদ্যুতের জলাধার কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। রেকর্ড ২ মাস ধরে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে দেশটিতে। সঙ্গত কারণেই ঘাটতি দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহে। প্রকৃতির দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে তাই কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর ব্যবস্থা নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। 

তবে শুধু এশিয়াই নয়, কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে ইউরোপ। তীব্র খরার কারণে প্রায় একশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে ইউরোপের অন্যতম দীর্ঘ দানিয়ুব নদীর পানি। দানিয়ুব নদীর পানি কমে যাওয়ায় সার্বিয়ার নদী বন্দর শহর প্রাহোভোর কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া বিস্ফোরক বোঝাই জার্মান যুদ্ধজাহাজ বের হয়ে এসেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন