যুক্তরাষ্ট্র না দিলে কোথা থেকে যুদ্ধবিমান কিনবে তুরস্ক?
jugantor
যুক্তরাষ্ট্র না দিলে কোথা থেকে যুদ্ধবিমান কিনবে তুরস্ক?

  অনলাইন ডেস্ক  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:১৭:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

নিজেদের বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে চায় তুরস্ক। আর এ কারণে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ নতুন যুদ্ধবিমান বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি একটি জটিল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তুরস্ককে যুদ্ধবিমান দিতে চান। কিন্তু তার প্রশাসনের অনেকে এটির বিরোধীতা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তুরস্ককে প্রমাণ করতে হবে যদি তারা এসব যুদ্ধবিমান পায় তাহলে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রেরও উপকারী হবে।

তাছাড়া তারা আরেকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সেটি হলো- তুরস্ককে অঙ্গিকারনামা দিতে হবে এসব যুদ্ধবিমান গ্রিসের ওপর দিয়ে চালাবে না তারা। তবে তুরস্ক কোনো শর্ত না মানার ঘোষণা দিয়েছে।

তুরস্ক চায় তাদের বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে। কিন্তু নতুন যুদ্ধবিমান না পেলে এটি সম্ভব না। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধবিমান না দেয় তাহলে তারা কোথা থেকে কিনবে যুদ্ধবিমান?

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন, বিশ্বে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিমান বিক্রি করে না। তাদের অন্য সূত্রও আছে।

৯ সেপ্টেম্বর একটি বক্তব্যে এরদোগান বলেছিলেন, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র যুদ্ধবিমান বিক্রিকারী দেশ না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং রাশিয়াও যুদ্ধবিমান বিক্রি করে। অন্যদের কাছ থেকে এগুলো কেনা সম্ভব। অন্যরা আমাদের এ ব্যাপারে সিগন্যালও দিয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর একটি সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছিলেন, যদি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা কোনো ফলাফল না পাই, তাহলে আমরা কি করব? অবশ্যই আমরা নিজেরাই আমাদের দায়িত্ব নেব।

অন্যদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন নিশ্চিত করেন, ইউরোপের বিক্রেতার সঙ্গে ইউরোফাইটার টাইফুন জেট কেনার ব্যাপারে আলোচনা করছেন তারা।

এরপরের দিন তুরস্কের প্রতিরক্ষা ইন্ডাস্ট্রির প্রধান ইসমাইল দেমির জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে সুখোই এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমানও কিনতে পারে তুরস্ক। ২০১৯ সালে তুরস্ককে যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া।

এদিকে ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে নিজেদের এস-৩৫ যুদ্ধবিমান পোগ্রাম থেকে তুরস্ককে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১০০টি এস-৩৫ বিমান কেনার পরিকল্পনা করেছিল তুরস্ক।

তুরস্কের প্রতিবেশী গ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এস-৩৫ বিমান নিয়েছে। তাছাড়া ফ্রান্সের রাফায়েলও নিয়েছে তারা। এতে গ্রিসের বিমান বাহিনীর শক্তি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন তুরস্ক। ফলে তারাও তাদের বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে চায়।

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

যুক্তরাষ্ট্র না দিলে কোথা থেকে যুদ্ধবিমান কিনবে তুরস্ক?

 অনলাইন ডেস্ক 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নিজেদের বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে চায় তুরস্ক। আর এ কারণে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ নতুন যুদ্ধবিমান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 

কিন্তু তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি একটি জটিল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তুরস্ককে যুদ্ধবিমান দিতে চান। কিন্তু তার প্রশাসনের অনেকে এটির বিরোধীতা করেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তুরস্ককে প্রমাণ করতে হবে যদি তারা এসব যুদ্ধবিমান পায় তাহলে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রেরও উপকারী হবে। 

তাছাড়া তারা আরেকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সেটি হলো- তুরস্ককে অঙ্গিকারনামা দিতে হবে এসব যুদ্ধবিমান গ্রিসের ওপর দিয়ে চালাবে না তারা। তবে তুরস্ক কোনো শর্ত না মানার ঘোষণা দিয়েছে। 

তুরস্ক চায় তাদের বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে। কিন্তু নতুন যুদ্ধবিমান না পেলে এটি সম্ভব না। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধবিমান না দেয় তাহলে তারা কোথা থেকে কিনবে যুদ্ধবিমান?

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন, বিশ্বে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিমান বিক্রি করে না। তাদের অন্য সূত্রও আছে। 

৯ সেপ্টেম্বর একটি বক্তব্যে এরদোগান বলেছিলেন, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র যুদ্ধবিমান বিক্রিকারী দেশ না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং রাশিয়াও যুদ্ধবিমান বিক্রি করে। অন্যদের কাছ থেকে এগুলো কেনা সম্ভব। অন্যরা আমাদের এ ব্যাপারে সিগন্যালও দিয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর একটি সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছিলেন, যদি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা কোনো ফলাফল না পাই, তাহলে আমরা কি করব? অবশ্যই আমরা নিজেরাই আমাদের দায়িত্ব নেব।

অন্যদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন নিশ্চিত করেন, ইউরোপের বিক্রেতার সঙ্গে ইউরোফাইটার টাইফুন জেট কেনার ব্যাপারে আলোচনা করছেন তারা। 

এরপরের দিন তুরস্কের প্রতিরক্ষা ইন্ডাস্ট্রির প্রধান ইসমাইল দেমির জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে সুখোই এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমানও কিনতে পারে তুরস্ক। ২০১৯ সালে তুরস্ককে যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। 

এদিকে  ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে নিজেদের এস-৩৫ যুদ্ধবিমান পোগ্রাম থেকে তুরস্ককে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১০০টি এস-৩৫ বিমান কেনার পরিকল্পনা করেছিল তুরস্ক।

তুরস্কের প্রতিবেশী গ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এস-৩৫ বিমান নিয়েছে। তাছাড়া ফ্রান্সের রাফায়েলও নিয়েছে তারা। এতে গ্রিসের বিমান বাহিনীর শক্তি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন তুরস্ক। ফলে তারাও তাদের বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে চায়। 

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনা