যে কারণে লন্ডন সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

লন্ডনে নতুন মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের জন্য ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সফরের কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই সফর বাতিল করেছেন। লন্ডনে তাকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশংকা এবং এই সফরকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরের মর্যাদা দেয়া হবে না। এসব বিবেচনাতেই তিনি এই সফর বাতিল করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটবার্তায় দাবি করছেন লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস যেভাবে নতুন জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে সেটা তিনি পছন্দ করেননি। সে জন্যই তিনি এই দূতাবাস উদ্বোধন করতে আসছেন না। তিনি বলেছেন, লন্ডনের সবচেয়ে দামি একটি এলাকা থেকে ভক্সহলে যেখানে মার্কিন দূতাবাস নেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়ে তিনি ফিতা কেটে এটি উদ্বোধন করবেন, তার প্রশ্নই উঠে না। খবর বিবিসি বাংলার।

লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস ছিল নগরীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে অভিজাত এলাকা মেফেয়ারে, ট্রাফালগার স্কোয়ারের অদূরে। সেখান থেকে মার্কিন দূতাবাস এখন সরিয়ে নেয়া হয়েছে দক্ষিণ লন্ডনে টেমস নদীর ধারে এক বিশাল নতুন ভবনে, যেটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামাকে দোষারোপ করে বলেছেন, দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার এই পরিকল্পনাটি ছিল খুবই বাজে। যদিও এই দূতাবাস সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিলে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলে।

সফল বাতিল করার ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবর্তে এখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন নতুন মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইটবার্তায় যে দাবিই করুন, তার সফর বাতিলের পেছনে অন্য কারণ আছে বলে সন্দেহ করেন অনেকে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যখন তাকে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই এর তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল ব্রিটেনে। ব্রিটেনের বামপন্থী দল এবং গোষ্ঠীগুলো হুমকি দিয়েছিল যে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করবে এবং পুরো লন্ডন অচল করে দেবে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান থেকে শুরু করে এমনকি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিরও কোনো কোনো এমপি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানোর বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ এবং অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন।