চীনের সাবেক প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস থেকে সরিয়ে নেওয়ার নতুন ভিডিও
jugantor
চীনের সাবেক প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস থেকে সরিয়ে নেওয়ার নতুন ভিডিও

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ অক্টোবর ২০২২, ১৪:১০:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

ছবি:

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসের সমাপনী অনুষ্ঠান থেকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে বের করে দেওয়ার ঘটনা আলোচিত হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। হু জিনতাওকে নাটকীয়ভাবে সরিয়ে নেওয়ার আগের মুহূর্তগুলোতে যা যা ঘটেছিল, তার একটি নতুন ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তিই পরে হু জিনতাওকে মঞ্চ ছেড়ে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন এবং হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে যান।

ওই ভিডিওতে হুর বামে বসা পলিট ব্যুরোর বিদায়ী সদস্য লি ঝানশুকে সাবেক প্রেসিডেন্টের হাত থেকে একটি নথি সরিয়ে নিতে ও তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া টুইটে জানায়, অসুস্থ বোধ করায় হুকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। চীনে টুইটার নিষিদ্ধ থাকায় দেশটির জনসাধারণ অবশ্য সিনহুয়ার এ ভাষ্য জানতে পারেনি।

হু জিনতাওকে কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে শি তার ক্ষমতা দেখিয়েছেন; বুঝিয়েছেন ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হুর যুগ সুস্পষ্টভাবেই শেষ হয়ে গেছে। তবে অনেকেই বলছেন— মূলত হুর অসুস্থতার কারণেই তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চ্যানেল নিউজ এশিয়ার ওই ফুটেজ ‘হুর অসুস্থতা’ সংক্রান্ত চীনা সরকারের অবস্থান খারিজ না করলেও সাবেক প্রেসিডেন্টের সামনে থাকা নথিটিও যে তাকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে।

একপর্যায়ে ঝানশু হুকে সহায়তায় উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যদিও শেষমেষ পলিট ব্যুরোর এই বিদায়ী সদস্য আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি, তার আগেই বাম পাশে থাকা ওয়াং হানিং তাকে টেনে ধরে ফের আসনে বসিয়ে দেন বলে মনে হচ্ছে।

তাকে হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় হু প্রেসিডেন্ট শিকে কিছু একটা বলেন, সেই সময় শিকেও মাথা নাড়তে দেখা গেছে। তবে চীনের এখনকার নেতার চোখেমুখে সেই সময় আবেগের কোনো বহিঃপ্রকাশ ছিল না।

হুকে নিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্চের সামনের সারিতে বসে থাকা বাকি নেতাদের তার দিকে ঘুরে তাকাতেও দেখা যায়নি।

কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা স্টাডি টাইমসের সাবেক সম্পাদক দেং ইউয়েন বলেছেন, চারপাশে এত এত ক্যামেরা, এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে হুর পড়ার অধিকার নেই, এমন কোনো নথি তার সামনে রাখার কোনো কারণই নেই।

তিনি বলেন, এটি অবশ্যই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ওই নথিতে কী ছিল এবং ওই সময়ে ঘটনাস্থলে কী নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল সে বিষয়ে আরও তথ্যপ্রমাণ না পাওয়া গেলে কেউ-ই এ ঘটনার ব্যাখ্যা করতে পারবে না।

হু জিনতাও ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সেই সময় তিনি দেশকে বাইরের বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করার প্রয়াস নিয়েছিলেন বলেই মনে করা হয়। অন্যদিকে শি এমন একটা দেশ পরিচালনা করছেন, যেটি ক্রমশ নিজেকে পশ্চিমাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

হুকে সরিয়ে নেওয়ার ওই ঘটনার পর দিনই সিপিসির শীর্ষকর্তা হিসেবে শির তৃতীয় মেয়াদ শুরুর ঘোষণা আসে; এবার দলের পলিট ব্যুরোতেও তার অনুগতরাই আরও জেঁকে বসেছে বলেও ভাষ্য পশ্চিমা গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের।

চীনের সাবেক প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস থেকে সরিয়ে নেওয়ার নতুন ভিডিও

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ অক্টোবর ২০২২, ০২:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ছবি:
ছবি: বিবিসি

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসের সমাপনী অনুষ্ঠান থেকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে বের করে দেওয়ার ঘটনা আলোচিত হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। হু জিনতাওকে নাটকীয়ভাবে সরিয়ে নেওয়ার আগের মুহূর্তগুলোতে যা যা ঘটেছিল, তার একটি নতুন ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তিই পরে হু জিনতাওকে মঞ্চ ছেড়ে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন এবং হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে যান।

ওই ভিডিওতে হুর বামে বসা পলিট ব্যুরোর বিদায়ী সদস্য লি ঝানশুকে সাবেক প্রেসিডেন্টের হাত থেকে একটি নথি সরিয়ে নিতে ও তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া টুইটে জানায়, অসুস্থ বোধ করায় হুকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। চীনে টুইটার নিষিদ্ধ থাকায় দেশটির জনসাধারণ অবশ্য সিনহুয়ার এ ভাষ্য জানতে পারেনি।

হু জিনতাওকে কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে শি তার ক্ষমতা দেখিয়েছেন; বুঝিয়েছেন ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হুর যুগ সুস্পষ্টভাবেই শেষ হয়ে গেছে। তবে অনেকেই বলছেন— মূলত হুর অসুস্থতার কারণেই তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চ্যানেল নিউজ এশিয়ার ওই ফুটেজ ‘হুর অসুস্থতা’ সংক্রান্ত চীনা সরকারের অবস্থান খারিজ না করলেও সাবেক প্রেসিডেন্টের সামনে থাকা নথিটিও যে তাকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে।

একপর্যায়ে ঝানশু হুকে সহায়তায় উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যদিও শেষমেষ পলিট ব্যুরোর এই বিদায়ী সদস্য আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি, তার আগেই বাম পাশে থাকা ওয়াং হানিং তাকে টেনে ধরে ফের আসনে বসিয়ে দেন বলে মনে হচ্ছে। 

তাকে হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় হু প্রেসিডেন্ট শিকে কিছু একটা বলেন, সেই সময় শিকেও মাথা নাড়তে দেখা গেছে। তবে চীনের এখনকার নেতার চোখেমুখে সেই সময় আবেগের কোনো বহিঃপ্রকাশ ছিল না।

হুকে নিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্চের সামনের সারিতে বসে থাকা বাকি নেতাদের তার দিকে ঘুরে তাকাতেও দেখা যায়নি।

কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা স্টাডি টাইমসের সাবেক সম্পাদক দেং ইউয়েন বলেছেন, চারপাশে এত এত ক্যামেরা, এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে হুর পড়ার অধিকার নেই, এমন কোনো নথি তার সামনে রাখার কোনো কারণই নেই।

তিনি বলেন, এটি অবশ্যই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ওই নথিতে কী ছিল এবং ওই সময়ে ঘটনাস্থলে কী নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল সে বিষয়ে আরও তথ্যপ্রমাণ না পাওয়া গেলে কেউ-ই এ ঘটনার ব্যাখ্যা করতে পারবে না। 

হু জিনতাও ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সেই সময় তিনি দেশকে বাইরের বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করার প্রয়াস নিয়েছিলেন বলেই মনে করা হয়। অন্যদিকে শি এমন একটা দেশ পরিচালনা করছেন, যেটি ক্রমশ নিজেকে পশ্চিমাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

হুকে সরিয়ে নেওয়ার ওই ঘটনার পর দিনই সিপিসির শীর্ষকর্তা হিসেবে শির তৃতীয় মেয়াদ শুরুর ঘোষণা আসে; এবার দলের পলিট ব্যুরোতেও তার অনুগতরাই আরও জেঁকে বসেছে বলেও ভাষ্য পশ্চিমা গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন