উত্তরের চোখ বেঁধে দক্ষিণে থাড ক্ষেপণাস্ত্র উন্নত করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৮, ১৬:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার চোখে ‘শান্তিচুক্তির পর্দা বেঁধে’ দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণের রাজধানী সিউল ও এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্র দেশের বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিরোধে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।

পেন্টাগন কর্মকর্তা ও মার্কিন মিসাইল ডিফেন্স এজেন্সি বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থার পরিচালক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যাম গ্রিভস বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করি, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা সফল হয়েছে।

কিন্তু একইসঙ্গে নিরাপত্তা সক্ষমতার ব্যাপারে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’ উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে গত কয়েক মাস ধরে ‘ত্রিভুজ কূটনৈতিক তৎপরতা’ দেখা যাচ্ছে।

চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে কিমের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। এসব বৈঠকে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কয়েকটি শান্তিচুক্তিও স্বাক্ষর করেছে সিউল ও ওয়াশিংটন।

এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও প্যাট্রট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছরের মার্চ মাসে ‘থাড’ স্থাপনের কাজ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

‘থাড’ হচ্ছে ‘টার্মিনাল হাই-অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ কথাটির সংক্ষেপ, যা শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার একটি ব্যবস্থা। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হুমকি থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের উদ্দেশ্য।

এদিকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পরমাণু কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করছে উত্তর কোরিয়া। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিঙ্গাপুর সামিটে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। সেই প্রতিশ্র“তি পাশে সরিয়ে রেখে এখনও পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ করছে দেশটি। খবর এএফপির।

সিঙ্গাপুর বৈঠকের পরই ট্রাম্প দাবি করেন, খুব শিগগিরই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। চলতি সপ্তাহেও তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করা হবে এবং সেটা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’

তবে স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখানে নতুন করে আরও অবকাঠামো নির্মাণের কাজও চলছে।

প্রভাবশালী ৩৮ নর্থ ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ২১ জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত স্যাটেলাইট ছবি মতে, দ্রুতগতি চলছে ইয়ংবিয়ন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের কাজ।

নিষেধাজ্ঞা কাটলেই রেললাইন : উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কাটলেই দুই কোরিয়ার মধ্যে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

অব্যাহতভাবে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর গত কয়েক বছরে দফা দফায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ।

দুই কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না বলে জানা গেছে। দুই কোরিয়ার মাঝে সংযোগ স্থাপনে রেললাইন বসানোর চিন্তা-ভাবনা করছে দেশ দুটির সরকার।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দু’দেশের মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছে। এ বৈঠকে রেললাইনের ব্যাপারে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। তবে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।