বিচারক লোয়ার মৃত্যু: সন্দেহে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ

  অনলাইন ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতের বিচারপতি

ভারতের বিশেষ সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) আদালতের বিচারক ব্রিজগোপাল হরকিষণ লোয়ার মৃত্যুর জন্য ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহকে অভিযুক্ত করেছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের দাবি, বিচারক লোয়ার মৃত্যুর ঘটনায় অমিত শাহের বিরুদ্ধে নতুন করে ফৌজদারি মামলা করতে হবে।

গোয়ার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শান্তারাম নায়েক বলেছেন, ফৌজদারি মামলায় অমিত শাহের নাম রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চার প্রবীণ বিচারপতির সাংবাদিক সম্মেলনের পরে ওই মামলাটি নতুন করে খোলা দরকার। নাগপুরে বিচারক লোয়ার রহস্যজনক মৃত্যুও ফের খতিয়ে দেখা উচিত।

বিচারক লোয়ার মৃত্যুরহস্যে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবির মামলা নিয়েই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে চার প্রবীণ বিচারপতি নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর এ বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে।

প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন। এটি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বাকিরা।

ভারতের প্রবীণ আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে টিভি চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কে না জানে, বিচারপতি অরুণ মিশ্র বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ!

আর কংগ্রেস নেতা শান্তারাম প্রশ্ন তুলেছেন, কোন মামলা কোন বিচারপতি শুনবেন, তা ঠিক করার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদেও প্রশ্ন তোলা যায় না। তাহলে সরকার কীভাবে নিজের ক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে?

বিচারক লোয়ার মৃত্যু হয় ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর। মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী লোয়া সেই সময়ে একটি মামলাই শুনছিলেন। তাহলো ২০০৫ সালে গুজরাট পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে সোহরাবুদ্দিন শেখকে হত্যার অভিযোগের মামলা। অমিত শাহ তখন গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

সিবিআইয়ের চার্জশিটে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অমিতের নাম ছিল। এই সময়েই নাগপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিচারক লোয়ার আকস্মিক মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদরোগে মৃত্যু হয় তার। কিন্তু প্রয়াত বিচারকের পরিবার সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে লোয়াকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তিনি তা প্রত্যাখান করেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ওই মামলাটি গুজরাট থেকে মহারাষ্ট্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষ হওয়ার আগে বিচারককে বদলি না করার নির্দেশও দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তা সত্ত্বেও লোয়ার পূর্বসূরি, বিচারক জে টি উটপতকে বদলি করে দেয়া হয়।

এরপর ২০১৪ সারে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে বিচারক লোয়ার মৃত্যু হলে মামলার দায়িত্ব পান বিচারক এম বি গোসাভি। ওই মাসের শেষেই তিনি অমিতকে বেকসুর খালাস করে দেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter