গুহায় আটকেপড়া ফুটবলাররা মেধাবী ও ডানপিঠে

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ জুলাই ২০১৮, ১৪:২২ | অনলাইন সংস্করণ

১২ ফুটবলার
ছবি: গার্ডিয়ান

থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের জলমগ্ন গুহায় আটকে পড়া কিশোর ফুটবলারদের সবাই একটি দলের। উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের বাবা-মা, পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা ২৪ ঘণ্টা গুহার চারপাশে ছিলেন। এই ১২ কিশোরের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে। তাদের সবার স্বপ্ন, তারা একসময় দেশটির জাতীয় দলে খেলবে।

পানুমাস সাংদি (১৩)

ডাক নাম : মিগ

পালের গোদা

পাকাপোক্ত ডিফেন্ডার। ফুটবলের মাঠে রক্ষণভাগে তার দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কোচের ভাষায়, তার শারীরিক মনোবলও খুব জোরালো। ফুটবলে তার নিপুণ দক্ষতা রয়েছে। বন্ধুমহলে সে ‘পালের গোদা’ হিসেবেই পরিচিত।

স্মার্ট বয়

বন্ধুদের কাছে স্মার্ট ও শান্ত ছেলে। ফুটবল খুব ভালোবাসে। শিগগিরই প্রাদেশিক টিমে খেলতে চায়। রক্ষণভাগে খেলে থাকে। মাঝে মাঝে গোলরক্ষকও থাকে।

একারাত ওয়াংশুকেহান, প্রাজাক সুথাম ও পিপাট বোধহু-গার্ডিয়ান

প্রাজাক সুথাম (১৫)

ডাক নাম : নোট

লাজুক নায়ক

নায়ক দলের প্রধান প্রেরণা। ফুটবলের বহু কারসাজি সে জানে। দলকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা ও ভালো বোধশক্তি রয়েছে তার।

লাজুক স্বভাবের ছেলে।

দুগানপেট প্রমটেপ (১৩)

ডাক নাম : ডোম

সেই ওয়াইল্ড বোয়ার দলের ক্যাপ্টেন। স্থানীয় পত্রিকাকে তার পরিবার জানিয়েছে, সেই গ্রুপের অনুপ্রেরণাকারী। তার সহখেলোয়াড়রা বলেছে, তার ভেতরে নেতৃত্বের গুণাবলী আছে। এছাড়া সে একজন মেধাবী খেলোয়াড়। স্থানীয় শীর্ষ দলের হয়ে খেলার চেষ্টা করেছে সে।

পিপাট বোধহু (১৫)

ডাক নাম : নিক

নতুন গোলরক্ষক

মূলত সে ওয়াইল্ড বোয়ার্স দলের খেলোয়াড় নয়। প্রশিক্ষণে সবে যোগ দেয়। গোলরক্ষক একারাতের খুব ভালো বন্ধু। দলের নতুন গোলরক্ষক হওয়ার চেষ্টা করছে।

চঞ্চল নাইট

ছেলেবেলা থেকেই চঞ্চল। গুহার মৃত্যুকূপেই সে ১৭ বছরে পা দিয়েছে। গত ৩ জুলাই ছিল তার ১৭তম জন্মদিন। বাবা-মা এখনও তার কেক সযত্নে রেখে দিয়েছেন। বেঁচে ফিরলে কাটা হবে।

পিরাপাত সোমপিয়াংজাই (১৭)

ডাক নাম : নাইট

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সে মাঝমাঠের খেলোয়াড়। তাকে সবাই নাইট নামে ডাকে।

নাত্তাওয়াট তাকামরং (১৪)

ডাক নাম : টার্ন

ডানপিটে ছেলে

বাবা-মা-শিক্ষক সবার কাছে শান্ত ছেলে। ডানপিটে স্বভাবের বেশ সাহসী ছেলে। গুহা থেকে বাবা-মাকে সাহসী হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের দুশ্চিন্তা না করার জন্য বলে।

পানুমাস সাংদি ও পর্নচাই কামলুয়াং-গার্ডিয়ান

ছানিন ভিবুলরানগুরুয়াং (১১)

ডাক নাম : টিটান

সবচেয়ে ক্ষুদে খেলোয়াড়। মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই ফুটবল খেলা শুরু। ক্ষুদে হলেও দলের অন্যতম পুরনো খেলোয়াড়। গত চার বছর ধরে এই টিমে খেলছে।

পড়ুয়া ছেলে

শিক্ষক ও পরিবারের কাছে খুবই ভদ্র ছেলে। তার বাবা থিনাকর্ন বলেন, আমার ছেলে খুবই পড়ুয়া। সে পড়তে ভালোবাসে। পড়ালেখার বাইরে সে ফুটবল খেলতে ভালোবাসে।

মঙ্কল বোনপিয়াম (১৩)

ডাক নাম : মার্ক

আর বাঁদরামি করবে না

দলের গোলরক্ষক। গুহা থেকে লেখা চিঠিতে সে জানায়, মা, আর বাঁদরামি করব না। বেঁচে ফিরলে মাকে দোকানের কাজে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয় সে। তারা বাবা জানিয়েছেন, সে ভালো ছেলে। যে ফুটবলের মতো পড়াশুনা করতে ভালোবাসে। বছরখানেক আগে সে ওয়াইল্ড বোয়ার ফুটবল দলে যোগ দেয়।

সামপং জাইওয়াং, আবুল সাম ও পিরাপাত সোমপিয়াংজাই-গার্ডিয়ান

একারাত ওয়াংশুকেহান (১৪)

ডাক নাম : বিউ

দলের দুইজন গোলকিপারের মধ্যে সে একজন। তাকে সবাই বিউ নামে ডাকে।

আবুল সাম-ওয়ান (১৪)

ডাক নাম : আবুল

সবজান্তা পণ্ডিত

থাই ভাষা ছাড়াও বার্মিজ, চাইনিজ ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী। এসব কারণে বন্ধুমহলে ‘সবজান্তা পণ্ডিত’ নামে বেশি পরিচিত। ভলিবল টিমেরও সদস্য। উত্তর থাইল্যান্ড ওয়াইড টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় স্থান লাভ। মিয়ানমারে রাষ্ট্রহীনভাবে জন্ম নিয়েছে সে। থাইল্যান্ডের খ্রীষ্টান শিক্ষকদের কাছে সে বেড়ে উঠেছে।

কিশোরদের মধ্যেই একমাত্র সেই ব্রিটিশ ডুবুরিদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতে পেরেছে।

পর্নচাই কামলুয়াং (১৬)

ডাক নাম : তি

রক্ষণভাগের পাহাড়

দলে রক্ষণভাগে খেলে থাকে। কোচের ভাষায়, তাকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে ঢোকানো খুবই কঠিন। তবে একটু ভিতু প্রকৃতিরও বটে।

ফুটবলপাগল

মনেপ্রাণে জাতীয় ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন লালন করে। ইংল্যান্ড দলের ভক্ত। গুহায় নিখোঁজ হওয়ার দিনও তার পরনে ইংল্যান্ড দলের জার্সি ছিল।

ছানিন ভিবুলরানগুরুয়াং, দুগানপেট প্রমটেপ ও নাত্তাওয়াট তাকামরং-গার্ডিয়ান

সামপং জাইওয়াং (১৩)

ডাক নাম : পং

মাঝমাঠে খেলতে অভ্যস্ত পং বিশ্বকাপ ফুটবলে ইংল্যান্ডের সমর্থক। একজন বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই সে বিভোর থাকে সবসময়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সে দেশের হয়ে খেলতে চায়। পং সবসময় উচ্ছ্বল থাকে। ফুটবলসহ সব খেলাই ভালোবাসে সে।

তার পরিবার জানায়, সে লিভারপুল ক্লাবের সমর্থক। সে চায়, ইংল্যান্ড দল যেন জয়ী হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : থাইল্যান্ডে গুহায় আটকা পড়েছে ফুটবল টিম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×