মিয়ানমারে সব হারানো একাপলই এখন থাইল্যাল্ডের সত্যিকারের নায়ক

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ জুলাই ২০১৮, ১৪:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

একাপল
ছবি: সংগৃহীত

'সব বাবা-মাকে বলছি- শিশুরা ভালো আছে। কথা দিচ্ছি, আমি তাদের সর্বোচ্চ যত্ন নেব।'

১২ কিশোর ফুটবলারকে নিয়ে জলমগ্ন থাম লুয়াং গুহায় আটকেপড়ার পর প্রথম চিঠিতে এই কথাগুলো বলেছিলেন কোচ একাপল চ্যান্টাওয়াং।

মিয়ানমারে জন্ম নেয়া একাপল শৈশবেই তার বাবা-মাকে হারিয়েছেন। ওয়াইল্ড বোর ১২ ফুটবল দলের কোচ হওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর তিনি বৌদ্ধ মঠে কাটিয়েছিলেন।

চলাফেরা সীমিত করে ও মেডিটেশনের মাধ্যমে কীভাবে শক্তি ধরে রাখা যায়, মঠে থাকাবস্থায় তিনি তা শিখেছিলেন। গুহায় আটকেপড়ার পর তিনি কিশোর ফুটবলারদের সেই কৌশল শেখান।

কিশোরদের অন্ধকার গুহার ভেতরে নিয়ে যাওয়ায় প্রথমে থাইল্যান্ডে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু পরে সাহসিকতার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন।

মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও কিশোররা যাতে দিশেহারা কিংবা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে না পড়ে, সে জন্য তিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন।

গুহার ভেতরে শ্বাস নিতে কিশোরদের সাহায্য করেছেন। বালকরা যখন মৃত্যুকূপ থেকে বেরিয়ে আসবে, তার আগে তাদের প্রস্তুত করে দেন।

এই সাবেক শিক্ষানবিশ বৌদ্ধ ভিক্ষুকে নিয়মিতই ধ্যান করতে হয়। তিনি জানেন, প্রতিকূলতার মধ্যে কীভাবে টিকে থাকতে হয়।

একাপলের জীবনের শুরুটা দুঃখ ও যন্ত্রণায় মোড়ানো। তার বয়স যখন ১০, তখন প্রাণঘাতী রোগে বাবা-মা ও ভাইকে হারান তিনি। কাজেই তিনি ইতিমধ্যে মৃত্যুর সঙ্গে প্রতারণা করে বেঁচে আছেন।

তখন সেই ভয়ঙ্কর রোগ তাদের গ্রামটিকে উজাড় করে দিলেও কেবল তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তাকে সবাই আদর করে 'এইক' নামে ডাকেন।

তার চাচি থাম চ্যান্টহাওয়াং বলেন, বাবা-মা ও ভাইকে হারিয়ে একাপল একটি একান্নবর্তী পরিবারে কিছু দিন ছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন ও একাকিত্ববোধ করছিলেন। তাই সন্ন্যাসী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে তাকে একটি বৌদ্ধ মঠে পাঠানো হয়।

১০ বছরের বেশি সেই মঠে অবস্থান করেন। এখনও মাঝেমধ্যে মেডিটেশন করতে সেই মঠে তার যাওয়া হয়।

থাম চান্টহাওয়াং আরও বলেন, একাপল সচরাচর এক ঘণ্টা করে মেডিটেশন করতেন। এতে করে গুহার ভেতরে শান্ত থাকতে তাদের সাহায্য করেছে।

দেশটির পুলিশ বলেছিল, তারা একাপলের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু সন্তানদের নিরাপদ রাখায় কিশোর ফুটবল খেলোয়াড়দের বাবা-মা কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কাজেই পুলিশ পরে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি।

ওয়াইল্ড বোয়ারের জ্যেষ্ঠ কোচ বলেন, একাপল নিজের চেয়েও কিশোরদের বেশি ভালোবাসে।

নোপাডন কান্থাওয়াংয় নামে এক থাই নাগরিকের ১৩ বছর বয়সী ছেলেও ওয়াইল্ড বোয়ারের হয়ে খেলে। তিনি বলেন, দলের প্রতি 'এইক' খুবই আন্তরিক। স্কুল শেষ হওয়ার পর কিশোররা মাঠে না আসা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতেন। আমি বলতে পারি, তারা একে অপরকে খুবই পছন্দ করে।

গত ২৩ জুন ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর ফু্টবলারদের নিয়ে ভয়ঙ্কর গুহাটিতে আটকে পড়েন তিনি। উদ্ধারকারীরা তাদের অবস্থান শনাক্ত করার আগে এক সপ্তাহের বেশি সময় তারা না খেয়ে ছিল।

খেলোয়াড়দের বন্ধুরা একাপলকেই সত্যিকার নায়ক বলে অভিহিত করেছে। অটাপোন ক্যামহেং নামে এক কিশোর বলল, আমি এইককে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। সে-ই একমাত্র ব্যক্তি যে আমার বন্ধুদের যত্ন নেয়ার যোগ্য।

সে জানায়, যারা প্রাণ নিয়ে গুহা থেকে ফিরেছে, তারা সবাই নায়ক। কিন্তু মহানায়ক হচ্ছে কোচ একাপল।

SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"event";s:[0-9]+:"থাইল্যান্ডে গুহায় আটকা পড়েছে ফুটবল টিম".*') AND publish = 1) AND id<>69266 ORDER BY id DESC

ঘটনাপ্রবাহ : থাইল্যান্ডে গুহায় আটকা পড়েছে ফুটবল টিম

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.