আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকপঞ্জি হবে: বিজেপি সভাপতি

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ২২:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে

কলকাতার মেয়ো রোডের জনসভায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। ছবি: সংগৃহীত

আসামের নাগরিকপঞ্জির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তিনি বলেন, আসাম থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হঠানোর নামই হল নাগরিকপঞ্জি। আগামী দিনে বাংলাতেও (পশ্চিমবঙ্গে) নাগরিকপঞ্জি করা হবে।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, বাংলাদেশি শরণার্থীরা ভারতে থাকবেন, নাগরিকত্বও পাবেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হবে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে নাগরিকপঞ্জি কার্যকর হবেই।

কলকাতার মেয়ো রোডের জনসভায় শনিবার এসব কথা বলেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ।

তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আগে বাংলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজত। এখন বাংলায় বোম ফাটে। বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা এ রাজ্যে এসে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। আর মমতা সরকার সেই অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে দেশ আগে। তারপর ভোট ব্যাংক। আমরা নাগরিকপঞ্জি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাব। বাংলার তৃণমূল ভুল বোঝাচ্ছে। কিন্তু বাংলাতেও নাগরিকপঞ্জি হবেই।
অমিত শাহ আরও বলেন, অনুপ্রবেশ রোখার একমাত্র উপায় হল এনআরসি।  

অমিত শাহ বলেন, শিগগিরই সংসদে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০১৬ আনা হচ্ছে। লোকসভা ও রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিল পেশ করা হবে। এই বিলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

অবশ্য অমিত শাহর সভায় এ বক্তব্য ও শরণার্থীদের নিয়ে প্রস্তাব সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির মুখপাত্র ডেরেক ও ব্র্যায়েন অভিযোগ করে বলেন, শরণার্থী নামের আড়ালে আসলে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইছে বিজেপি। গো-সংরক্ষণের নামে গণপিটুনি দিয়ে মুসলমানদের খুন করা হচ্ছে।

জনসভায় অমিত শাহ বলেন, বাংলার আগামী দিনে যে পরিবর্তন হবে এটা আজকের জমায়েত থেকেই স্পষ্ট।

তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে আসামে এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জি চেয়েছিল কংগ্রেস। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব গান্ধী। আর এখন এ নিয়ে বিরোধিতা করছেন রাহুল গান্ধী। তিনি মনে করিয়ে দেন, এনআরসি কার্যকর করার পেছনে বিজেপির কমিটমেন্ট রয়েছে।

অমিত শাহ বলেন, আসামে আমরা সফলভাবে এনআরসি করব। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করব। কেউ আটকাতে পারবে না। শরণার্থীদের এদেশে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। 
সভায় বক্তব্য দেন পশ্চিমবঙ্গের পরিদর্শক তথ্য কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, যুব মোর্চার সভানেত্রী পুনম মহাজন প্রমুখ।

বাংলায় দলের সাফল্য আসবে দাবি করে অমিত শাহ বলেন, যতদিন না বাংলায় বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে ততদিন বিজেপির ভারত জয় পরিপূর্ণতা পাবে না।

তিনি বলেন, এই বাংলা রামকৃষ্ণ পরমহংস, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও শ্যামাপ্রসাদের বাংলা। বিজেপি বাংলার বিরোধী নয়। কারণ বিজেপির প্রতিষ্ঠাই করেছিলেন একজন বাঙালি। কিন্তু আমরা তৃণমূলের বিরোধী।

তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু নারদা, সারদা, রোজভ্যালি, সিন্ডিকেট, কোল মাফিয়া বাংলায় বহাল তবিয়তে আছে। সব কারখানা বন্ধ। শুধু বোম পিস্তল তৈরির কারখানা বেড়ে যাচ্ছে। অপরাধের সব রেকর্ড ভেঙেছে পশ্চিমবঙ্গ। এখানে তাই বিজেপি সরকার দরকার। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৫ শতাংশ আসনে জয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, আমাদের কর্মকর্তাদের খুন করা হয়েছে। তবুও আমরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৭ হাজার আসনে জিতেছি।