দেশহীন হায়দারের হাত ধরেই দেশ ভ্রমণ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১১:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

গত বছর স্বাধীনতা দিবসে দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠা ভারতের আসামের দক্ষিণ শালমারা নসকরা স্কুলের ছাত্র হায়দার আলী খানের নাম নাগরিক নিবন্ধনের চূড়ান্ত খসড়ায় ওঠেনি। আপাতত তাই আসাম তথা ভারতের নাগরিক হিসেবে তার নামটাই নেই।

কিন্তু সেই হায়দারের সৌজন্যই গোটা স্কুলের ছাত্ররা শিক্ষামূলক ভ্রমণে যেতে চলেছে।

হায়দার ও তার বন্ধু জিয়ারুলের গলা জলে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকায় সম্মান প্রদর্শনের ছবি ভারতে ভাইরাল হয়েছিল। শিক্ষক মিজানুর রহমানের তোলা সেই ছবির সূত্র ধরেই নসকরা নিম্নপ্রাথমিক স্কুলের নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশটির সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বৃহস্পতিবারও সকাল থেকে বিভিন্ন উৎসবের মাধ্যমে ওই স্কুলের মাঠে তোলা হয় জাতীয় পতাকা। পতাকা তোলেন স্কুল পরিদর্শক আমির হামজা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নৃপেন রাভা।

চতুর্থ শ্রেণির হায়দার ও জিয়ারুলরাও সেখানে হাজির ছিল। হায়দারও সবার সঙ্গে ভাগ করে খেয়েছে চকলেট, মিষ্টি। গলা মিলিয়েছে জাতীয় সংগীতে।

আনন্দের মধ্যেও নাগরিক নিবন্ধনে নাম না থাকায় হায়দার কিছুটা যেন মনমরা। এনআরসি সেবাকেন্দ্র থেকে বলা হয়েছিল, তার জন্ম সনদে সম্ভবত গোলমাল আছে। গ্রামে বহু ক্ষেত্রেই হাসপাতালে প্রসব হয় না।  পরে জন্ম সনদ সংগ্রহ করেন। তাতেই কোনো সমস্যা হয়ে থাকবে।

এসব জেনে হায়দারকে শিক্ষকরা ভরসা দিয়েছেন, ২০ আগস্ট থেকে নাম তোলার ফরম বিলি হবে। এবার তাকে ও তার মাকে আবেদনপত্র পূরণ করার কাজে তারাই সাহায্য করবেন।

মিজানুর রহমান জানাচ্ছেন, ঝাড়খণ্ড থেকে বিশ্ববিজয় সিংহ নামে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি নসকরা স্কুলের দেশপ্রেমে মুগ্ধ।  তাই স্কুলকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চান।  

কিন্তু এ বছরই নিম্নপ্রাথমিক স্কুলটি মিশে যাচ্ছে পাশের মধ্য ইংরেজি স্কুলে। তাই আলাদা করে নসকরা নিম্নপ্রাথমিক স্কুলের অস্তিত্ব থাকছে না।

মিজানুর রহমান তাই প্রস্তাব দেন, স্কুল না থাকলেও ছাত্র ও শিক্ষকরা তো থাকছেনই। ওই টাকায় সবাইকে নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণ করা যেতে পারে। এ এলাকার মানুষকে দুই ঘণ্টা নদী পার করে ধুবুরি আসতে হয়।

স্থানীয় গরিব ছাত্রদের অনেকেই বেড়ানো দূরের কথা, ধুবুরি জেলার বাইরে অন্য কোথাও যায়নি। তাই ওই টাকা পেলে সবাইকে নিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া যাবে।