রাখাইনে গণহত্যা, জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১২:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: এএফপি

রাখাইনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের দায়ী করে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।

দেশটির মুখপাত্র জ এইচটেই বুধবার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিথ্যা অভিযোগ বানিয়েছে। আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানবাধিকার কাউন্সিলের কোনো প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করব না।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ তদন্তকারীদের মিয়ানমারে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কাজেই মানবাধিকার পরিষদের কোনো প্রস্তাবে আমরা সম্মত কিংবা গ্রহণ করব না।

সোমবার রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের হোতা হিসেবে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের দায়ী করে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজ লাইট অব মিয়ানমারের খবরে বলা হয়, জাতিসংঘ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছিল হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে। মিয়ানমার সরকার যে হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের রেজুলেশনের সঙ্গে নেই, তা সবসময়ই স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ কারণে আমরা ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নিইনি। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে আমরা মিয়ানমারে ঢুকতে দিইনি। তাই হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের কোনো রেজুলেশনের সঙ্গে আমরা একমত নই, তা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্যও নয়।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের ফলে নাফ নদের দুই তীরে ভয়ঙ্কর মানবিক সংকট সৃষ্টির এক বছরের মাথায় গত ২৭ আগস্ট জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের ওই প্রতিবেদন আসে।

সেখানে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণহত্যার অভিপ্রায় থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। আর মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির বেসামরিক সরকার বিদ্বেষমূলক প্রচারকে উসকে দিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করে এবং সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা না করে সেই নৃশংসতায় ভূমিকা রেখেছে।           

আইন প্রয়োগের নামে ভয়ঙ্কর ওই অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ পাঁচ জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করা হয়েছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে।