সু চির অধীনে মিয়ানমার হতাশার বিপজ্জনক উপাখ্যান

  যুগান্তর ডেস্ক ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

সুচি
ছবি: এএফপি

মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অদম্য লড়াইয়ের জন্য তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার অধীনে রাজনৈতিক পটভূমি বদলের বিশেষ আন্তর্জাতিক খবর থেকে মিয়ানমার এখন হতাশার বিপজ্জনক উপাখ্যান হয়ে উঠেছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ সময় রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুদের জ্বলন্ত বাড়ির ভেতরে ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে দেয়া হয়েছে।

এত এত বিভৎস ঘটনার মধ্যেও শুরু থেকেই নিষ্ক্রিয় থেকেছেন অং সান সু চি। আইসিজি সু চির সরকারকে ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করেছে।

২০১৫ সালে আধা-বেসামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। অর্ধ শতকের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে আড়াই বছর ধরে ক্ষমতায় আছে দলটি।

আইসিজির মঙ্গলবারের প্রতিবেদন বলেছে, স্টেট কাউন্সিলর প্রায়ই নিজেকে নিরাসক্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করে থাকেন।

১৯৯০ সালে সু চির নেতৃত্বাধীন দল মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করলেও সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতায় যেতে দেয়নি। শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের গণতন্ত্রের নেতা ৭৩ বছর বয়সী সু চি গত দুই দশকের প্রায় পুরোটা সময় গৃহবন্দি ছিলেন।

বন্দি হওয়ার ওই বছর নিজের বাসভবন প্রাঙ্গণে দেশবাসীর উদ্দেশে সু চির অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ক্রাইসিস গ্রুপের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ভীষণ রকম নীরব হয়ে পড়েছেন। জাতির উদ্দেশে প্রতি মাসে রেডিওতে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ভাষণ দিতেন, সেই চর্চাও বন্ধ করে দিয়েছেন সু চি।

তিনি প্রায় কোনো মিডিয়াতেই সাক্ষাৎকার দেন না এবং খুব কমই দেশের ভেতরে ভ্রমণ করেন বলে জানায় আইসিজি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও শুরুতে তিনি প্রায়ই বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন, রোহিঙ্গা সংকটের পর থেকে বিশ্ব আর আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয় তার জন্য। তিনি এখন নিয়মিতই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলেছেন।

এতে আরও বলা হয়, ২১ আগস্ট তিনি সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে বিরল একটি বক্তৃতা দিয়েছেন, তবে ওই বক্তৃতা শুধু আঞ্চলিক পরিসরের মানুষের জন্যই, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রসঙ্গে এখানে সামান্যই ছিল।

আইসিজি জানায়, এটি আশ্চর্যজনক নয়, এ কারণেই যে এই নড়বড়ে সরকার রোহিঙ্গাবিরোধী জনমত এবং সেনাবাহিনীর আগ্রাসী অবস্থানের মতো সংকটের একটি যথাযথ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারেনি।

১২ মাসের কম সময়ের মধ্যে দেশটি এর ভাবমূর্তি হারিয়েছে উল্লেখ করে ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে, রোহিঙ্গা গ্রামবাসীর ওপর নিষ্ঠুর আক্রমণ এবং তাদের বাস্তুহারা করার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার এ ব্যর্থতা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে নির্দেশ করে; এটি মিয়ানমার, এর সরকার ও ব্যক্তিগতভাবে সু চির ভাবমূর্তিকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যে তা পুনরুদ্ধার করা যাবে না।

গণতন্ত্রের সংগ্রামের জন্য নন্দিত নেত্রী সু চি রোহিঙ্গা সংকটের পর নিন্দাই কুড়াচ্ছেন বেশি। এরই মধ্যে তিনি অনেক সম্মাননা ও পুরষ্কার হারিয়েছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বিস্তৃতির জন্য মিয়ানমার সরকারের সক্রিয়তার অভাবকে চিহ্নিত করে ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে, নিকট ভবিষ্যতে এর পরিবর্তন হওয়ার তেমন সম্ভাবনা তারা দেখছে না।

সরকারের ওপর মিয়ানমারের জনগণের সমর্থন রয়েছে। পরিস্থিতির সমাধানে অর্থবহ পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও চাপ গড়ে তুলতে জাতিসংঘের বিশেষ দূতসহ শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজন পড়বে, জানায় ক্রাইসিস গ্রুপ।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা আইসিজি জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহের জবাবদিহিতার প্রশ্নে জাতিসংঘের সহায়তায় একটি স্বাধীন প্রক্রিয়াই হতে পারে সম্ভাব্য পদ্ধতি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter