ইয়েমেনে সৌদি যুদ্ধাপরাধে সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ১২:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিরাপরাধ ইয়েমেনি নাগরিকদেরই হত্যার শামিল বলে যুক্তি দেখিয়ে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

এতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি জোটের যুদ্ধাপরাধে যুক্তরাষ্ট্র সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধের জন্য সৌদি জোটকে দায়ী করে প্রকাশিত জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনেরও উদ্ধৃতি দেয়া হয়।

সৌদি জোটকে সহায়তা করা মানে তাদের যুদ্ধাপরাধেই অংশ নেয়া উল্লেখ করে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি জোটের কাছে শুধু অস্ত্রই বিক্রি করছে না, তাদের সামরিক সহায়তাও করছে।

এ সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও এর পশ্চিমা মিত্রদের জন্য সৌদি আরবসহ এর জোট অংশীদারদের কাছে অস্ত্র বিক্রি কিংবা যে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধের সময় এখনই।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সৌদি জোট ইয়েমেনে বিমান হামলা চালাচ্ছে। আর তাতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি হামলায় ব্যবহৃত বোমাগুলোও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনে নিচ্ছে রিয়াদ।

ইয়েমেনে কিছু দিন আগেই একটি স্কুল বাসে সৌদি জোট বিমান থেকে যে বোমা ফেলেছিল, সেটিও সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় স্কুলশিশুসহ ৪০ জনের প্রাণহানি হয়।

ইয়েমেনে পশ্চিমা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আব্দু-রাব্বু মনসুর হাদি সরকারকে ক্ষমতায় পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে তাদের পক্ষে যুদ্ধ করছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট।

২০১৫ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানার দখল নিয়ে হাদিকে গৃহবন্দি করেছিল। পরে হাদি গৃহবন্দিত্ব থেকে পালিয়ে যান এবং মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা নেন।

ওই বছরই হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ইয়েমেনে তাদের বিমান হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছে। তারা বাজার, বিয়েবাড়ি এমনকি ‍মাছ ধরার নৌকায়ও বোমা ফেলছে; এসবই যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।

গত মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞরা জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে তাদের প্রথম প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিক হতাহতের যেসব ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে তার বেশিরভাগই সৌদি জোটের বিমান হামলার কারণে হয়েছে।