ধর্ষণ নিয়ে মন্তব্যে দুর্তেতের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়!

  অনলাইন ডেস্ক ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট দুর্তেতে
ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট দুর্তেতে

বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্ব গণমাধ্যমের খবর হয়েছেন তিনি। এবার নতুন বিতর্কিত মন্তব্য করে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। বৃহস্পতিবার এক জনসভায় নারী বিদ্বেষী মন্তব্য করেন।

নিজের শহর দাভাও-তে ধর্ষণের পরিসংখ্যান বিষয়ে পুলিশের একটি রিপোর্ট নিয়ে বলতে গিয়ে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (পুলিশ) জানিয়েছে দাভাও-তে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু যতদিন সুন্দরী নারী বেশি থাকবে, তত দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’

এ কথা বলেই তিনি থেকে যাননি। তিনি যুক্তি দেন, ‘প্রথম অনুরোধেই কেউ সম্পর্কে আসেন না। মহিলারা অন্তত তো নই। প্রথম আবেদনে কেউ যদি সাড়া না দেয়, তা হলে ধর্ষণ করতে হয়।’

প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির ফিলিপিন্সের একাধিক নারী সংগঠন।

দেশটির নারী অধিকার নেত্রী এলিজাবেথ আঙ্গসিকো বলেন, প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যে মনে হয় ধর্ষণ যেন কোনো স্বাভাবিক ঘটনা। এর ফলে নারীর মর্যাদা আরও হুমকির মুখে পড়ল। শুক্রবার আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারও কাছ থেকে বিশেষ করে দেশের শীর্ষপর্যায় থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবে আশা করা যায় না।

এলিজাবেথ আঙ্গসিকো আরও বলেন, তার মন্তব্যে এটাও প্রকাশ পেয়েছে যে, সুন্দরী নারীরাই শুধু ধর্ষণের শিকার হন। তার মানে নারীরা সুন্দর বলেই তাদের ধর্ষণ করা যাবে। তার কাছে যেন এটা স্বাভাবিক ঘটনা।

তিনি বলেন, গত কয়েক দশক ধরে ফিলিপিনো নারীবাদী কর্মীরা এখানকার নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। সেই সঙ্গে এজন্য সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এর ফলে আমাদের কিছু সাফল্যও এসেছে। কিন্তু দুতের্তের এমন মন্তব্য আমাদের সব অর্জনকে বিনষ্ট করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের আরও অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট দুতের্তের এমন মন্তব্য প্রথম নয়। দুতের্তে এর আগেও নারীদের কটাক্ষ ও ধর্ষণ নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করে গেছেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, মিস ইউনিভার্সকে ধর্ষণ করা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন।

২০১৬ সালে ফিলিপিন্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেনাদের নির্দেশ দেন, তিন নারীকে ধর্ষণ করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে না।

এছাড়াও তিনি নারীদের স্পর্শকাতার অঙ্গে গুলি করার নির্দেশ দেন তিনি।

এর আগে ১৯৮৯ সালে দাভাও জেলে জ্যাকলিন হ্যামিল নামে এক অস্ট্রেলীয় নারীকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। সে সময় দাভাও-র মেয়র ছিলেন দুতের্তে। ওই ঘটনায় তার মন্তব্য ছিল, ‘ওই নারী ধর্ষিত হয়েছেন, সে বিষয়ে ক্ষুদ্ধ হয়েছি আমি। তবে তিনি সুন্দরী ছিলেন। মেয়রের প্রথম ‘প্রাপ্য’ ছিল। বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter