রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের আচরণে বাংলাদেশের মানুষ হতাশ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: রয়টার্স

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্বশক্তিগুলোর মনোভাব আরও মানবিক হওয়া দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে চীনকেও নীরবতা ভাঙতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদলুর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক এসএম রশিদ আহমেদ বলেন, এশিয়ার বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি চীনের উচিত এ সংকট নিয়ে তাদের নীরবতা ভাঙা।

সম্প্রতি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গণধর্ষণ, যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক নগ্ন করা, নির্যাতন করে অঙ্গহানিসহ ব্যাপক নিপীড়ন চালিয়েছে।

দেশটির সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ ছয় সেনা কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের তদন্তকারীরা।

কসোভোয় জাতিসংঘের সাবেক আঞ্চলিক প্রশাসক ও জাপানে সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত রশিদ আহমেদ বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ব্যাপক আতঙ্কের বিষয়। একবার কল্পনা করে দেখুন, প্রত্যেকটি রাষ্ট্র যদি নিজেদের নিখাদ বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম কিংবা ইহুদি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তবে তার পরিণতি কী হতে পারে?

এটি এক ধরনের জার্মানির নাৎসিবাদের মতোই বলে মনে করেন রশিদ আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মাইমুল আহসান খান বলেন, চীনের ওপর যৌথ চাপপ্রয়োগ খুবই দরকার। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের উচিত চীনকে চাপে রাখা।

রোহিঙ্গা সংকটের ফলপ্রসূ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে রশিদ আহমেদ বলেন, চীন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। চীন-মিয়ানমারের সম্পর্ক পরস্পরের স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।

মিয়ানমারে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনে সম্প্রতি সাতশ ৩০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফার্মগুলো।

এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে কেয়ুপেয়ুতে দুইশ ৭০ কোটি ডলারের শিল্পাঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠারও চুক্তি হয়েছে।

রশিদ আহমেদ বলেন, মিয়ানমারে চীনের ব্যাপক স্বার্থ রয়েছে। কাজেই মিয়ানমারের ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন চীনের সহ্য করা উচিত না।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যায় চীনের নিরাবতায় এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষও চীনের ওপর হতাশ ও ক্ষুব্ধ। একটি বিশ্বশক্তি হিসেবে চীন দায়িত্বশীল আচরণ করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সব সময়ই নিজের সুবিধার কথা ভাবা উচিত না বলে মনে করেন সাবেক এই কূটনীতিক।